বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হাতের মুঠোয় টাইম বোমা

আহমেদ আল আমীন   |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

হাতের মুঠোয় টাইম বোমা

নিজের পায়ে কুড়াল মেরে শিক্ষাগ্রহণের কিছু নেই। এর মাশুল ভয়াবহ ও দুর্বিসহ। বরং শিক্ষা নিতে হবে, অন্যের পায়ে কুড়াল দেখে। সেটা কি পেরেছি! চীনকে দেখে শিক্ষা নেইনি, বেশ ভালো কথা! কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে দেখেও তো প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু এখন?
সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস ইস্যুতে আমাদের সার্বিক সুযোগের সব ধরনের সদ্ব্যবহারের সময় শেষ হয়ে গেছে। আমরা এখন হাতের মুঠোয় টাইম বোমা নিয়ে চলছি। গলায় বেঁধে, বুকে, পেটে ও পিঠে নিয়ে দৌড়াচ্ছি। টাইম বোমা। চলছি ও দৌড়াচ্ছি। আর এভাবে প্রতিনিয়ত নিশ্চিতভাবে ধাবিত হচ্ছি অজানা, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
অথচ আমাদের হাতে কতোই না সুযোগ ছিলো। অন্যকে দেখে, সাবধান হয়ে, পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছিলো আমাদের সামনে। গোয়ার্তুমি করে পায়ে ঠেলেছি সুযোগ। এখন তাই করছি, যা আগে করার ছিলো। ফলস্বরূপ এখন যা ‘করার’ তা আরও পরে করবো।
বিপদ মোকাবিলা করার মতো নেতৃত্ব কি আমাদের আছে? দুর্যোগে দরকার প্রতিটি সেক্টরে ঠান্ডা মাথার কার্যকর ও সাহসী নেতৃত্ব। তা কি আছে? প্রাক-দুর্যোগে সম্মিলিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারি নি, তাই সম্মিলিতভাবে এখন ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছি। এই ব্যর্থতার মাশুল কিন্তু মৃত্যু দিয়ে মেটাতে হবে।
বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অন্ধকার রাতে মাঝ দরিয়ায় জাহাজ পড়েছে ঝড়ের কবলে। ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ উত্তাল তরঙ্গের মুখে জাহাজটি নাস্তানাবুদ হয়ে, হেলে দুলে, চুবানি খেয়ে, কাত হয়ে পড়ছে বারবার। যাত্রীদের মধ্যে কান্নার রোল উঠছে। ঝড়ের সময় চিৎকার বেশি দূরে শোনা যায় না, নইলে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হতো ভয়ার্ত মানুষের আর্তনাদে।
জাহাজে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এ সময়েও অসাধু ও দুর্জন মানুষগুলো থেমে নেই। কেউ লুট করছে, কেউবা চুরি। কেউ হত্যা, ধর্ষণ। কেউবা আবার যুদ্ধে যাবার আগেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তারা জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ছে সাগরে, মহাসাগরে। এদিকে ক্ষুধার্ত মানুষেরা প্রতিবাদে নেমে আসছে রাস্তায়; স্যরি, জাহাজের ডেকে। তারা এখন মিছিলে, প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে।
এ অবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় জাহাজটির নাবিকেরা। এখন তাদের শত কাজ আর কারো চোখে পড়ে না। মনে হয়, কোনো কাজই করছেন না। আবার প্রতিটি কাজেই ভুলের ছড়াছড়ি। কারণ, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পরীক্ষার হলে ঢুকলে যা হয়, আর কি! জানা প্রশ্নও অচেনা মনে হয়, তাই না? উত্তরে তালগোল পাকিয়ে যায়। কোনটা রেখে যে কোনটা লিখি! অথচ, আমরা জানি, প্রস্তুতিসহ আধা ঘণ্টা আগে হলে ঢুকলে পরীক্ষার কষ্ট অনুভূত হতো না।
বর্তমান অবস্থাটি দুঃখজনক হলেও টাইম বোমা ও ঝড়ের কবলে পড়া জাহাজের সাথেই তুলনীয়। মৃত্যু সংবাদ দেখতে ও শুনতে শুনতে যেন ভোঁতা হয়ে গেছি। আবেগ-অনুভূতি আর কাজ করে না আগের মতো। ইদানীং মৃত্যু সংবাদ জানার জন্যই যেন অপেক্ষা করি দুপুরের পর! আর নিত্য বাড়ে রোগী ও লাশের সংখ্যা। কিন্তু এভাবে আর কত দিন?
তাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগে। এখনই। কথিত আছে, সেই মহাপ্লাবনের সময়ও শয়তানের মন্ত্রণায় নুহ আলাইহিস সালামের নৌকার নিচের অংশ বা খোল দাঁতে ফুটো করে ইঁদুর। পরে বাঘের কপালে রাখা নুহের হাতের নিচ থেকে বেরিয়ে এলো বিড়াল। ইঁদুর কিন্তু এবার ভেজা বিড়াল। নৌকা নিরাপদে ল্যান্ড করেছিলো জুদি পাহাড়ে।
সবার আগে নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। কি চাই, তা নির্ধারণ করতে হবে। ঠেলে মেলে ঘর, খোদায় রক্ষা কর; নাকি ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে বীরের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা? এখনও সময় আছে। কারণ ঝড়ের কবলে পড়লেই কি সব জাহাজ ডুবে যায়? ঝড়ের কবলে পড়া তরী কি তীরে আসেনি কখনো? হে নাবিক, বিপদে যখন পড়েছো, ক্ষতি তোমার হবেই; তাই লোকসান যতটা হ্রাস করা যায়, সেটাই সফলতা। নইলে ইতিহাস কিন্তু কাউকে ক্ষমা করবে না।
আহমেদ আল আমীন: প্রতিশ্রুতিশীল লেখক

Facebook Comments Box


Posted ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১