• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    হাবিপ্রবি প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের

    মশিউর রহমান মোমিন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধিঃ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

    হাবিপ্রবি প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টা আল্টিমেটাম প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের

    সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত ৫৭ জন শিক্ষকের বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ই নভেম্বর দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপর হামলা ও লাঞ্চনার ঘটনা ঘটে। একই সাথে কয়েকজন মহিলা সহকর্মীকেও শ্লীলতাহানির মুখে পড়তে হয়।
    এর ফলে লাঞ্চিত শিক্ষকববৃন্দ লাগাতার ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করেছে। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসন ভবনের সামনে মুখে কালো কাপড় বেধে প্রতিবাদ জানায়। তারা বেতন বৈষম্য নিরসন, প্রক্টর, রেজিস্টার, স্টুডেন্ট এডভাইজার এবং হামলার সাথে জড়িতদের পদত্যাগ ও দাবি করে।
    রবিবার উক্ত শিক্ষকবৃন্দ ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে মাথায় কাফনের কাপড় বেধে ও প্রতিবাদ করেছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী মুল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি আদায়ে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম একমত পোষন করে নিম্নোক্ত কর্মসূচি প্রদান করে।
    ১. আগামীকাল থেকে সকল ক্লাস বর্জন।
    ২. যৌন নির্যাতক হিসাবে প্রমাণিত ড. রমজান আলীর শাস্তির ব্যবস্থা করা।
    ৩. সকল বিধি-বিধান পূরন ও বিজ্ঞ সিলেকশন বোর্ড সদস্যরা প্রমোশনের জন্য সুপারিশ করা স্বত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের প্রমোশন রহিত করা হয়। উক্ত শিক্ষকের প্রমোশন প্রদান করা।
    ৪. যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির একপেশে ও উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট উপস্থাপন বন্ধ করা।
    ৫. যদি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের উল্লেখিত দাবিসমূহ মেনে নেওয়া না হয় তাহলে পরবর্তী দিন থেকে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সকল শিক্ষকবৃন্দ ক্লাশ ও সকল ধরনের পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষনা দিয়েছে।
    প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি সকলের দাবি-দাওয়া আদায়ে সর্বদায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। তারা বিগত দেড় বছর ধরে উল্লেখিত দাবিসমূহ বিভিন্ন মানববন্ধন, স্মারকলিপি, কালোব্যাজ ধারন, উপাচার্য ও রেজিস্টারের সাথে বারংবার সাক্ষাতের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গড়িমসির কারনে তাদের দাবিসমূহ এখনো পূরন হয়নি। সর্বশেষ তারা বিগত ৫ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ঘন্টাব্যাপি অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে প্রক্টর জানান, তারা আমার উপর অভিযোগ এনেছে তা সত্য নয়। কাউকে কোন উস্কানি দেয়া হয়নি। আর আমার কোন ছাত্র তাদের সাথে কোন অসৌজন্যমুলক আচরণ করেনি। তাদের কাছে যদি ভিজিবল ডকুমেন্ট থেকে থাকে তা আমাদের দেখাতে পারে। তাদের অভিযোগ একবারেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এদিকে ৬১ শিক্ষকের আন্দোলনের ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, সহকারী অধ্যাপকদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়ম মোতাবেক বেতন প্রদান করা হচ্ছে। নিয়মের মধ্যে থাকলে তাঁরা অবশ্যই সেটা পেত আর এর জন্য তাদের আন্দোলনের কোন প্রয়োজন ছিলনা। আমাদের নিয়মের মধ্যে সেটি না থাকায় আমরা তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ইউজিসি’র কাছে চিঠি দিয়েছি। আশাকরি খুব দ্রত একটা রেজাল্ট পাবো।এরপর সে অনুযায়ী কাজ করা হবে। শিক্ষকদের উপর হামলার ব্যাপারে তিনি জানান, সহকারী অধ্যাপকদের উপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। তথাপি তাঁরা যেহেতু অভিযোগ এনেছেন তার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। তদন্তের প্রেক্ষিতে যা হবে তাই করা হবে।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673