• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    হামলাকারীদের বিচার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের পদযাত্রা কর্মসূচি

    ঢাবি প্রতিনিধি | ০৮ জুলাই ২০১৮ | ৫:০০ অপরাহ্ণ

    হামলাকারীদের বিচার এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের পদযাত্রা কর্মসূচি

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলাকারীদের বিচার, নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
    রোববার সকাল ১১টায় ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষকবৃন্দ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পদযাত্রা শেষে তারা শহীদ মিনারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে আন্দোলনে হামলাকারীদের উপর হামলার বিচার, মামলা প্রত্যাহার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।


    সমাবেশে দাবি উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন। দাবিগুলো হলো: ১. সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল হামলাকারীর বিচার করতে হবে, ২. আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের নামে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, ৩. আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে, ৪. নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন (সাইবার ও শারীরিক) এর বিচার করতে হবে এবং ৫. দ্রুত কোটা সংস্কার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে দিতে হবে।


    বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারুফুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব এবং ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন।

    সমাবেশে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যা হয়েছে, সেই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক তো বটেই, লজ্জাজনক এবং অবিশ্বাস্যও। বাংলাদেশে এই ধরণের ঘটনা ঘটবে আমরা কখনো ভাবিনি। এটা পাকিস্তান আমলেও ঘটেনি, এমনকি ব্রিটিশ আমলেও ঘটেনি।

    তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত। সেজন্যই এর প্রতি ব্যাপক সমর্থন এসেছে। আন্দোলন যখন চলছিলো, তখন স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে শিক্ষার্থীরা বেরিয়েছে এবং তাদের প্রতি অভিভাবকেরা ও সমাজের সকল অংশ সমর্থন দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা অত্যন্ত অসঙ্গত এবং অন্যায়। সরকার সেটা স্বীকার করে কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি গঠনে বিলম্ব করেছে। বিলম্বের কারণে আবার আন্দোলন করেছে ছাত্ররা। এই আন্দোলনের কারণেই কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা যদি এই আন্দোলন অব্যাহত না রাখতো, তাহলে কমিটি গঠিত হতো না।

    আন্দোলনে হামলার ঘটনা নৃশংস, বর্বর, অন্যায় এবং অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর কী ধরণের নিপীড়ন করা হয়েছে। অভিভাবক এবং শিক্ষকবৃন্দ যখন প্রতিবাদ করতে দাঁড়িয়েছেন, তাদের উপর কিরকম নিপীড়ন করা হলো তাও আমরা দেখেছি। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতুড়ি দিয়ে যেভাবে একজন ছাত্রকে পেটানো হলো আমরা কখনো এই ধরণের নৃশংসতা দেখিনি, বিশ্বাসও করতে পারিনা।

    তিনি বলেন, যারা হামলার শিকার হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেয়া হয়েছে, রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এছাড়া একজন ছাত্রী লাঞ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছে যে কথা বলেছে সেটি কেবল লজ্জাজনকই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার উন্মোচক বলে আমি মনে করি। এদেশে যে মানুষের নিরাপত্তা নেই সেটা আমরা অনুভব করছি।
    সমাবেশে তিনি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়াও আহতদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার কারণ তদন্ত এবং কোটা সংস্কারের ন্যায়সঙ্গত এবং দ্রæত মিমাংসার দাবি জানান।
    আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার হচ্ছে সবচেয়ে মৌলিক একটি মানবাধিকার। প্রতিবাদ করার অধিকার ছিলো বলে, এই অধিকার বাস্তবায়ন করেছি বলে আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশ স্বাধীন হয়েছিলো। প্রতিবাদ করার অধিকারকে যারা অস্বীকার করে তারা সংবিধানবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এবং গণতন্ত্র বিরোধী।

    তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে চারটি অন্যায় করা হয়েছে। প্রথম অন্যায় হলো আন্দোলনকারীদের নির্যাতন ও গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েদের উপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। দ্বিতীয় অন্যায় হলো, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি না করে বের করে দেয়া হয়েছে। এটা রাষ্ট্রের হাসপাতাল। সেখান থেকে তাদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তৃতীয় অন্যায়, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে এবং চতুর্থ অন্যায়, তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছে।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে না দাড়ানোর অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির প্রতি নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ এখনো হিটলার ও মুসোলিনির দেশ হয়ে যায়নি, সংবিধান স্থগিত করা হয়নি, সামরিক শাসন জারি হয়নি, কাজেই এইরকম পরিস্থিতিতে যারা আমাদের নিপীড়িত ও নির্যাতিত ছাত্রদের পক্ষে দাড়াতে ভয় পান বা কোনো লোভের কাছে আত্মসমর্পণের কারণে আসতে পারেননি, তারা অবশ্যই নিন্দার যোগ্য। আমি বিশেষ করে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতি নিন্দা জানাচ্ছি। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে ছাত্ররা যখন দাড়াবে, দলমত নির্বিশেষে আমাদের সবার উচিত তাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে প্রতিবাদ করা।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে কোনো বিষয়ে যে কেউ আন্দোলন করতে পারে। এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। পাকিস্তান আমলে আমাদের আন্দোলনের দাবি ছিলো গণতন্ত্র। আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়েছি। বর্তমানে একই রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে সকল ছাত্রদের আক্রমণ করা হয়েছে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা তো বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ই নি বরং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিন্দাও জানানো হয়নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই সমাবেশ থেকে গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের মুক্তি ও আহতদের চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি।

    ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মৌন মানববন্ধন :

    রাশেদসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং আন্দোলনে হামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে সকালে বাণিজ্য অনুষদে মৌন মানববন্ধন করেছে ঢাবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ।

    মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘চারিদিকে রব উঠাও, আমার ভাইয়ের মুক্তি দাও ’, ‘রাশেদকে ছাড়া ক্লাসে ফিরবোনা’, ‘অযৌক্তিক মামলা হয়রানি আর নয়’, ‘রাশেদ, নূরের নিঃশর্ত মুক্তি চাই’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘প্রশাসন নীরব কেন? ভিসি স্যারের জবাব চাই ’, ‘রাশেদের বাবার উপর হুমকি কেন?’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত বিভিন্ন ধরণের প্ল্যাকার্ড পদর্শন করেন।

    রাশেদের এক সহপাঠী বলেন, রাশেদ আমাদের বন্ধু। আমরা একসাথে ক্লাস করেছি। তাকে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা এর প্রতিবাদে আজ মানববন্ধনে দাড়িয়েছি। আমরা রাশেদের মুক্তির দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে ক্লাস বর্জন করেছি। রাশেদকে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন চলবে।

    বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো যৌক্তিক একটা আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমাদের বিভাগের বড় ভাই রাশেদকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন চলবে।

    উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের মধ্যে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম এবং মার্কেটিং বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগে ক্লাস বর্জন কর্মসূচী পালন করছে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673