• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    হিমছড়ি-মহেশখালীতে মিলেছে আরও দুই মরদেহ

    | ১১ জুলাই ২০১৯ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

    হিমছড়ি-মহেশখালীতে মিলেছে আরও দুই মরদেহ

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ছয়টি মরদেহ ও দুজনকে জীবিত উদ্ধারের এক দিনের মাথায় আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সৈকতের হিমছড়ি ও মহেশখালীর সাগর তীর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান।

    এ নিয়ে আটটি মরদেহ উদ্ধার হলেও সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

    এরা হলেন ভোলার চরফ্যাশন রসুলপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আসমান পাটারীর ছেলে শামছুদ্দিন পাটারী (৪৫), পূর্ব মান্দ্রাজ এলাকার মৃত আব্দু শহীদের বাবুল (৩২), উত্তর মান্দ্রাজ এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৪৫), একই এলাকার মৃত বুজুগ হাওলাদারের ছেলে আজি উল্লাহ প্রকাশ মনির (৩৮), মৃত নুরের ছেলে অলি উল্লাহ (৫০) রসুলপুর ৬নং ওয়ার্ড শসীবিষণের মুসলিম বলির ছেলে জাহাঙ্গীর বলি (৪০) ও পূর্ব মান্দ্রাজ ইউপির তরিক মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)।

    তারা সবাই ভোলার চরফ্যাশন এলাকা থেকে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেছেন বৈরী আবহাওয়ায় দুর্যোগে পড়া ফিশিং ট্রলারের মালিকদের একজন ভোলার চরফ্যাশন দক্ষিণ চরনাজিম উদ্দিনের মৃত ওয়াহেদ আলির ছেলে মো. ওয়াজ উদ্দিন মাঝি (৪৮), তার প্রতিবেশী মৃত আব্দুল কাদের মাঝির ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৭) ও অপর প্রতিবেশী হাজী বশির মাস্টারের ছেলে নিজাম উদ্দিন বাবর (৩৮)।

    কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান জানান, শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ওয়াজ উদ্দিন মাঝিকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

    ওসি খায়রুজ্জামান জানান, বুধবার ভোররাতে ঢেউয়ের তোড়ে একটি ট্রলার সৈকতের বালিয়াড়িতে উঠে আসে। এর পাশাপাশি কয়েকটি মরদেহও তীরে ভেসে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ সী-গাল পয়েন্টে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে আনে। বালিয়াড়িতে আটকে যাওয়া ফিশিং ট্রলারে ভেতর থেকে সকালে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। শনাক্ত না হওয়া মরদেহটি ময়নাতদন্ত করে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা করা হবে।

    এদিকে সৈকতের শৈবাল পয়েন্ট থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হন ভোলার চরফ্যাশনের মান্দ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মকবুল সর্দারের ছেলে মনির মাঝির (৪২) ও ট্রলার মালিক ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৩২)। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েছেন।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনির মাঝি জানান, তারা ১৫ মাঝিমাল্লা গত ৪ জুলাই ভোলার চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকারে সাগরে নামেন। ৬ জুলাই (শনিবার) ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি উল্টে যায়। প্রাণ বাঁচাতে যে যার মতো ট্রলারটি ধরে রাখে।

    তিনি বলেন, ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি বারবার উল্টে গেলেও আমরা সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করি। এরপর কে কোথায় ছিটকে যায় খেয়াল নেই। এরই মাঝে আমি বেশ কয়েকটি পানির বোতল ড্রামের সাথে বেঁধে ফেলি। সেটি ধরেই সাগরে ভাসতে থাকি। কক্সবাজার সৈকতে কীভাবে এলাম জানি না।

    দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটির মালিক ওয়াজ উদ্দিনকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাগরে বোট পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।

    কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ট্রলার মালিক ওয়াজ উদ্দিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৮ মরদেহের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করায় তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অন্যজনের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হবে।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী