শনিবার, জুন ২৫, ২০২২

হেঁটেই জনসভাস্থলে লাখো মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ২৫ জুন ২০২২ | প্রিন্ট  

হেঁটেই জনসভাস্থলে লাখো মানুষ

আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন করবেন দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের স্বপ্নের পদ্মাসেতু। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাত ৩টা থেকেই মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটের জনসভাস্থলে হাজির হতে শুরু করে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ।

ভোরের আলো ফুটতেই বাড়তে থাকে ভিড়। বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ফকিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি ভরে আসতে থাকে লাখ লাখ মানুষ। মাদারীপুরের পাঁচ্চর থেকেই শুরু হয় গাড়ির জটলা। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেই জনসভাস্থলে হাজির হন অনেকে। তবে এই পথ চলাতে ছিল না ক্লান্তি। ছিল উচ্ছ্বাস।


রাত ৩টায় হাজির ষাটোর্ধ্ব ইয়াকুব আলী: গতকাল রাত ৩টার দিকেই ছেলেদের নিয়ে কাঠালবাড়ির জনসভাস্থলে হাজির হন ষাটোর্ধ্ব ইয়াকুব আলী। তিনি বলেন, আমার বাড়ি কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে। কুতুবপুর ও মাদবরের চর ইউনিয়নের লোকজন রাতেই চলে আসবে শুনেছিলাম। তাই সামনে জায়গা পেতেই আগে চলে এসেছি। শেখের বেটিকে (শেখ হাসিনা) সামনে থেকে দেখতে চাই।

শুধু ইয়াকুব আলী নয়, হাজারো মানুষকে জনসভাস্থলের আশপাশে দেখা যায় রাত ৩টায়। কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেলিম দরানী বলেন, রাত ৩টায় জনসভাস্থলে এসেছি। ভোররাতেই এই ইউনিয়নের অন্তত ৭-৮ হাজার মানুষ জনসভাস্থলে পৌঁছে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও টহল।


রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের ঢল: সকাল ১০টার পরই শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। ভিড়ের কারণে কাঠালবাড়ির সীমানা এলাকা থেকে জনসভাস্থলের দিকে গাড়ি ঢোকা বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২ কিলোমিটার পথ বৃষ্টি ভিজেই মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে ছুটতে থাকে মানুষ। কারো গায়ে হলুদ টিশার্ট, কারো গোলাপি, কারো আবার নীল। সবার টিশার্টে পদ্মাসেতুর ছবি আর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা। এদিকে সাড়ে ১০টার দিকে বৃষ্টি থামিয়ে প্রচণ্ড তাপ নিয়ে হাজির হয় সূর্য। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে একের পর এক মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে ঢুকতে থাকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। আগতদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা, পদ্মাসেতুর ছবি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছাবার্তা।

মাথায় নৌকা একে নাতি নিয়ে ভৈরব থেকে নুরুল ইসলাম: পদ্মা সেতু দিয়ে ভৈরবের মানুষের যাতায়াতের কোনো বিষয় না থাকলেও ১০ বছরের নাতিকে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন ভৈরবের নুরুল ইসলাম। দুই জনই চুল কেটে মাথায় একেছেন নৌকা ও বাংলাদেশের পতাকা। এত দূর পাড়ি দিয়ে এসে গরমে অনেকটা ক্লান্ত দেখাচ্ছিল বৃদ্ধ নুরুল ইসলাকে। পদ্মা সেতু তো ভৈরবের মানুষের তেমন কাজে আসবে না, তবুও কেন এসেছেন জিজ্ঞাসা করতেই হাত উচু করে বলে ওঠেন ‘জয় বাংলা’। এককথায় উত্তর দেন- ‘পদ্মা সেতু বাংলাদেশের। আর বাংলাদেশটা আমাদের সবার।’

কানায় কানায় পূর্ণ সবাবেশস্থল: আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা ছিল অন্তত ১০ লাখ মানুষ হবে জনসভায়। সংখ্যা গোনা সম্ভব না হলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশস্থল। মানুষ একটু দাঁড়ানোর জায়গা খুঁজতে ছুটতে থাকেন এদিক-ওদিক। অনেককে ফিরে যেতে দেখা যায়। কাঠালবাড়ির সীমানা এলাকা থেকে ফেরিঘাটে সমাবেশস্থল পর্যন্ত সড়কে তখন দুইমুখী জন¯্রােত। যারা সকালে বা রাতে এসেছিল তাদের অনেকেই ফিরে যান সমাবেশ শুরুর আগে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে বাসের ছাদে: বিশাল বড় সমাবেশস্থলে জায়গা না হওয়ায় অনেক মানুষ অবস্থান নেয় আশপাশের অলিগলি, বাসাবাড়িতে। মঞ্চ থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল লোকে লোকারণ্য। জনসভামঞ্চ দেখতে বাসের ছাদে উঠে পড়ে শত শত মানুষ। মোবাইল হাতে ভিডিও করতে থাকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান জানাতে দেশের পতাকা, বঙ্গবন্ধুর ছবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, পদ্মা সেতুর ছবি নিয়ে আকাশে হাজির হয় অনেকগুলো হেলিকপ্টার। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসতেই পুরো সমাবেশস্থলের লাখো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত জয় বাংলা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

Posted ৩:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ জুন ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]