• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ১৯৫৯ সালে যেভাবে হজ্ব করেছিলেন শেখ সাখাওয়াত আলী

    ড. তারেক আজিজ | ১৩ আগস্ট ২০১৯ | ৫:১৩ অপরাহ্ণ

    ১৯৫৯ সালে যেভাবে হজ্ব করেছিলেন শেখ সাখাওয়াত আলী

    দেশভাগের কিছুদিন পরের কথা। কলকাতা নিউমার্কেটের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী শেখ সাখাওয়াত আলী সব কিছু গুটিয়ে চলে এসেছেন ঢাকায়। ২১৫ নম্বর,নবাবপুর সড়কে খুলেছেন ঘড়ির নতুন দোকান ‘নিউ লাইট ওয়াচ কো’। সম্পূর্ণ অপরিচিত এই শহরে প্রতিনিয়ত তিনি স্ত্রী,পুত্র, কন্যা নিয়ে নতুন জীবনে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে চলেছেন। আর পাশাপাশি নিজ স্বপ্ন পূরণের আশায় একটু একটু করে টাকা জমাচ্ছেন। দু’চোখ ভরে আরবের পূণ্যভূমি দেখবার স্বপ্ন তাঁর বহুদিনের। অবশেষে ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সেসময়কার ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক পাকিস্তানে ১৯২১টাকা জমা দিয়ে হজ্বে জন্য রেজিস্ট্রেশন করে ফেললেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজ ছাড়বার তারিখ ঠিক হল ২০শে এপ্রিল, ১৯৫৯। তবে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে হবে তারও দশদিন আগে। হাতে খুব বেশি সময়ও নেই। হজ্বে গিয়ে ফিরে আসা- সে প্রায় তিন মাসের ব্যাপার। ১০গজ এহরামের কাপড়ের পাশাপাশি নিতে হবে দৈনন্দিন প্রয়োজনের সব কিছু; এমনকি রান্নার সকল সামগ্রীও। ডায়েরি লেখার অভ্যাস তাঁর আগেও ছিল। সেবছর কিনেছিলেন লাহোরে ছাপানো ফ্রেণ্ডস টেবিল ডায়েরি নামে ছোট্ট একটা ডায়েরি। নতুন করে সেখানে নোট করলেন ১০৩ রকম দ্রব্যাদির বিস্তারিত এক তালিকা। পরিধেয় কাপড়, চাল, ডাল, তেল, লবন, মশলা, ওষুধপত্র, নোটবুক, কলম এসবই বাক্সপেটরায় বেঁধে নিলেন। সেসময়ের বহুল প্রচলিত কবিরাজী উপাদান হরিতকি, ইছবগুলের সাথে দীর্ঘ সাগরভ্রমণের অস্বস্তি দূর করবার জন্য নিলেন পাতিলেবুর আঁচার আর তেঁতুল। পরিবারের আর কাউকে সাথে নিতে পারছেন না এই একটা অতৃপ্তিতো ছিলই। নিদেনপক্ষে যাতে পবিত্র মক্কা-মদিনার ছবিটা তাদের দেখাতে পারেন সেজন্য সঙ্গে নিয়ে নিলেন নিজের বক্স ক্যামেরা আর ফিল্ম। হজযাত্রার পূর্বপ্রস্তুতির এই বিবরণের পাশাপাশি জনাব সাখাওয়াত সেই ডায়েরির পাতায় পাতায় প্রতিদিনের ঘটনাই বিস্তারিত ভাবে লিখে চললেন। মাঝে হজ্বের ব্যস্ততম ৩ দিন বাদে প্রায় প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞ আর নতুন নতুন অভিজ্ঞতার কথা তিনি লিখে রেখেছেন সেই ডায়েরিতে। সেকালের হজ্ব যাত্রার অভিজ্ঞতা জানবার জন্য নিজের অজান্তেই তিনি তৈরি করেছেন এক অমূল্য দলিল।
    বন্দর থেকে বন্দরেঃ
    ১০ই এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে জনাব সাখাওয়াত আলী ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকে স্থানীয় আরো কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সাথে মেল ট্রেনে উঠে রওনা হলেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। ট্রেন ছাড়বার সময় যাত্রীরা এবং যারা বিদায় দিতে এসেছিলেন তাঁরা সকলেই আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে স্টেশনের বাতাস মুখরিত করে তুললেন। চট্টগ্রামে পৌঁছে সংগ্রহ করলেন টিকেট, পাসপোর্ট আর বৈদেশিক মুদ্রা। প্রয়োজনীয় টীকা গ্রহণের কাজও সেরে নিলেন। এর মাঝে বড় ছেলে রফিক এলো বাবার সাথে দেখা করতে, তাঁরা একত্রে লালদিঘী এলাকার জালালাবাদ হোটেলে খেলেন।পূর্বনির্ধারিত ২১শে এপ্রিল দুপুরে জাহাজে উঠতে গেলে কাস্টম আর পুলিশ জনাব সাখাওয়াতকে বাঁধা দিল। কারণ জানতে পেরে তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। জাহাজে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এবারের মতন তাঁর হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না। খুব ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। তবে কিছু সময় পরেই সুখবর পেলেন- দুইজন যাত্রী অনুপস্থিত, কাজেই তাদের স্থানে নতুন যাত্রী উঠবার অনুমতি পেলেন। সিঁড়ি তুলে নেবার মাত্র ৫মিনিট আগে জাহাজে প্রবেশ করলেন তিনি। ডায়েরিতে লিখছেন –“এ খুশী ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব”।
    জাহাজের বিবরণে জনাব সাখাওয়াত লিখছেন- “সিন্থিয়া লণ্ডন বিলাতী জাহাজ- নূতন, বড় ও সুন্দর”। জাহাজের খাওয়াদাওয়ার আয়োজনে যাত্রীরা খুশী। যাত্রা শুরুর রাতে আয়োজন ছিল- বিরিয়ানি, কোরমা, জর্দা। সকালের নাস্তায় ছিল ডিমসিদ্ধ, পাউরুটি টোস্ট, চা আর দুপুরের আয়োজনে ছিল ভাত, রুটি, গোস্ত, সেমাই ইত্যাদি। জাহাজে ভ্রমণে সময়ের হিসাব রাখা মুশকিল। তাই জাহাজে উঠবার আগেই তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় লিখে রেখেছিলেন তাঁর ডায়েরিতে। সহযাত্রীরা তাঁর সেই নোটকেই সহায়ক হিসেবে ধরে নিয়ে প্রথম শ্রেণির ডেক এ জামাতে নামায আদায়ের ব্যবস্থা করলেন। যাত্রার শুরুতে মাথা ঘুরছিল, কিছু অস্বস্তিও কাজ করেছে। তবে আস্তে আস্তে তা কেটে গেলো। জাহাজের গতি ভাল, রওনা দেওয়ার ৪দিন পর প্রথম ডাঙ্গার দেখা পাওয়া গেলো। সিলোনের (শ্রীলংকা) বাতিঘর আর পাহাড় দৃষ্টিগোচর হল। কলম্বো বন্দরে জাহাজ ভিড়লো রাত ১০টায়। আলো ঝলমলে কলম্বো জাহাজ থেকেই দেখতে হল, কারো নামার অনুমতি ছিল না। জাহাজের পাশে ভিড়ানো নৌকা থেকে যাত্রীরা সুমিষ্ট আনারস আর পান কিনলেন।
    রাত গড়িয়ে সকাল হল। কলম্বো থেকে হজ্বযাত্রীরা উঠতে শুরু করলেন। নতুন ১০৫জন যাত্রী যোগ হলেন জাহাজে। এদের প্রায় সকলেই যুবা বয়সী পুরুষ ও স্ত্রীলোক, এমনকি শিশুও আছে। অধিকাংশই প্রথমবারের মত হজে যাচ্ছেন। শুধু একজন পাওয়া গেলো যিনি এর আগেও ৬বার হজ করেছেন। নতুন এই যাত্রীরা সকলেই ভাল ইংরেজি জানেন। তাদের অনেকের সাথে কথাবার্তা হল, ঠিকানা আদানপ্রদান হল।
    জাহাজ আরব সাগরে প্রবেশ করল। বাতাসও গরম হয়ে উঠল। জাহাজে যাত্রীরা প্রতিরাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায় করেন, দোয়া-দরূদ, কোরান তেলাওয়াত আর অশ্রুসজল চোখে মোনাজাত চলে সবসময়। জনাব সাখাওয়াত লিখছেন- “কামরা থেকে চাঁদের আলো সমুদ্রের নীল বুকে উঠে আবার ঐ বুকেই ডুবে যায়। অপূর্ব মনোরম সৌন্দর্যে মুগ্ধ চোখ একসময় খোদা আর তাঁর রাসূল (সাঃ) এর মহিমা গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে পড়ে”। এর মাঝে সোকত্রা দ্বীপ বা ‘রাক্ষসের দ্বীপ’ কে খুব সাবধানে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলল জাহাজ। ঐ এলাকার পানিতে প্রচুর ঘূর্ণি এবং কিংবদন্তীমতে দ্বীপটিতে মানুষখেকো প্রাণীর বাস বলে শুনেছেন জাহাজের যাত্রীরা। ৫ দিন টানা সমুদ্রযাত্রা শেষে ১লা মে জাহাজ পৌঁছুলো মনোরম এডেন বন্দরে। এডেন দেখে যাত্রীদের চোখ জুড়িয়ে গেলো- সুন্দর শহর, বন্দরের চারদিকে পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে সুন্দর বাড়িঘর। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নানাবিধ পণ্যসামগ্রী নিয়ে জাহাজে আসলেন। সাখাওয়াত সাহেব একজোড়া জাপানি জুতা কিনলেন। সেখানের তরমুজ খেয়ে তার মিষ্টতায় মুগ্ধ হলেন।
    জাহাজ এবার এগিয়ে চলল পবিত্র আরবের পাহাড়ি এলাকার কোল ঘেষে। এশা নামাযের পর জাহাজের সকল যাত্রী এহরাম বেঁধে নিলেন। ভোর ৪টায় ‘এল সলম’ পাহাড়ের কাছে আসতেই জাহাজ টানা ভেঁপু বাজাতে শুরু করলো। এই এলাকা অতিক্রম করবার আগেই এহরাম বাঁধতে হবে- তা-ই এই ভেঁপু। সকলের একত্রে লাব্বায়েক ধ্বনিতে জাহাজ মুখরিত হয়ে উঠল। সকলে তখন উন্মুখ নামবার প্রতীক্ষায়। মে মাসের ৪ তারিখে জাহাজ নোঙর ফেললো ‘মক্কার প্রবেশদ্বার’ জেদ্দায়। পরদিন সকালে বিবি হাওয়ার কবর জিয়ারত করে বিকালের বাসে সকলে রওনা হয়ে গেলেন মক্কার উদ্দেশ্যে। বাস মক্কা পৌঁছালো রাত ১০টায়।


    পবিত্র নগরী মক্কায়ঃ
    “মক্কা শহর দেখে ও খোদার ঘর দেখে তাজ্জব হলাম। কারণ এরূপ সুন্দর শহর ও পৃথিবীর সবদেশের সমাগম আর কোথাও নাই”।– এই ছিল মক্কা নগরীতে পা দেবার পর জনাব সাখাওয়াতের অনুভূতি। মক্কাশরীফ পৌঁছেই তিনি কাবা শরীফ তাওয়াফ ও জমজমের পানি খেয়ে ও মাথায় ঢেলে শাফা-মারওয়া দৌঁড়ে মাথা কামিয়ে নিলেন। সঙ্গী কয়েকজন মিলে কাবা শরীফের খুব কাছেই , ৩-৪ মিনিটের হাঁটা পথ, এক বাসায় উঠলেন। হেরেম শরীফের চারটি মিনার থেকে মুয়াজ্জিন অপূর্ব সুরে আযান দেন, সেই সুমধুর ধ্বনি বাসা থেকে স্পষ্ট শোনা যায়। মক্কায় যতদিন ছিলেন, প্রতি ওয়াক্তের নামায হারাম শরীফেই আদায় করেছেন। স্থানীয়রা সকলেই দেখতে ইংরেজদের মত ফর্সা ও স্বাস্থ্যবান। সকলেই নামায পড়েন- মুটে,ভিস্তি সকলেই আযান শুনলেই ছুটে আসে নামাযে, এমনকি বাদ যায় না ৪-৫ বছরের শিশুরাও। মেয়েরা ১০ বছর বয়স থেকেই বোরখা পরিধান করে। পরিচয় হল পাঞ্জাব, মালয়, ইন্দোনেশিয়া আর বার্মার হজ্ব যাত্রীদের সাথে।এঁদের অধিকাংশই এসেছেন সপরিবারে। মহিলা এবং শিশুদের উপস্থিতি চোখে পড়বার মত। জানা গেলো, ভিনদেশী এসকল হজযাত্রীর অনেকেই মক্কায় দোকানপাট, বাড়িঘর করেছেন, আরবী ভাষাও ভালোই রপ্ত করে ফেলেছেন। হজ্ব এর দিন নিকটে আসবার সাথে সাথে মক্কা নগরীতে মিশরীয়দের সংখ্যা বাড়তে থাকলো। তারা অধিকাংশই এসেছেন নানাবিধ পণ্যসামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করবার উদ্দেশ্যে। রাস্তার দু’পাশের স্থায়ী আর অস্থায়ী দোকানপাট জনাকীর্ণ হয়ে উঠে। দোকানগুলোতে মিশরের লোকেরা কাপড় কেনায় ব্যস্ত থাকে আর পাকিস্তান, ভারত থেকে আগত যাত্রীরা ভীড় জমায় ঘড়ি, রেডিও, খেলনা, স্টোভ, জুয়েলারি আর ক্রোকারিজের দোকানে। সাখাওয়াত সাহেব আফসোস করে লিখেছেন , মক্কায় সব পণ্যই এতো সুলভ ও আকর্ষণীয় যে দেশ থেকে আসবার সময় অতরকম দ্রব্যাদি না আনলেও চলত। তিনি লিখছেন-“এখানে আদা ছাড়া সব পাওয়া যায়। ফল-পাকড়, আঙ্গুর, কলা, আপেল, তরমুজ (হাব-হাব), খরমুজ, দোম্বা ও উটের গোস্ত খুব সস্তা। কাপড়-চোপড়, সিল্ক, খলনা (জার্মানি) খুব সস্তা ও ভাল”।স্থানীয়রা প্রচুর চা পান করে, তবে তা দুধ ছাড়া। দুপুরে প্রচণ্ড গরম থাকে। তখন হারাম শরীফের ভেতরে ও বাইরে ভিস্তিরা সরাইএ করে জমজমের পানি বিলি করে, বাইরে বরফ পাওয়া যায়। এছাড়াও পিপাসা নিবারণের জন্য নানাবিধ পানীয় যেমন ভিটাকোলা, কোকাকোলা আর লেমনেড ও বিক্রি হয় দেদারসে।
    হজ্বের কয়েকদিন আগে সৌদি বাদশাহ ইবনে সৌদ এলেন হারাম শরীফে।তার আগমনে মক্কায় ২১বার তোপ দাগা হল। কাবা শরীফের তাওয়াফ শেষে তিনি মাগরিবের নামাযের ইমামতি করলেন। জানা গেলো হজের এ কয়দিন তিনি সেখানেই থাকবেন ও পুরো হজ পরিচালনা তদারকি করবেন যাতে হাজিদের যত্নআত্তির কোনো ত্রুটি না হয়।
    নবীজী(সাঃ)র মদিনায়
    মক্কায় পৌঁছুবার সপ্তাহখানেক পরেই এক সন্ধ্যায় ১২২টাকা দিয়ে টিকেট কেটে বাসে চেপে জনাব সাখাওয়াত আলী রওনা হলেন মদিনা শরীফ। সেসময় মক্কা থেকে মদিনার বাসগুলো চলত শুধু রাতের বেলায়। দিনের বেলা অতিরিক্ত গরমের জন্য দূরের রাস্তায় বাস চলাচল করত না। বাসে চালক ছিল তিনজন। মজার ব্যাপার হল, ১৫৫ মাইল যাওয়ার পর মধ্য রাত্রে এক সরাইখানার সামনে বাস থামিয়ে দিয়ে তিনজন ড্রাইভারই নেমে গেলো। বাস এখন আর সামনে যাবে না, তারা ঘুমাবেন। অগত্যা কী আর করা, যাত্রীরাও ঘুমিয়ে নিল যে যার মত। ঘুম শেষে ফজরের সময় নামায পড়ে, খেয়ে দেয়ে আবার বাস ছাড়ল। দুপুর নাগাদ বাস মদিনা নগরী প্রবেশ করল। সাখাওয়াত সাহেবের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল, মনের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো কবি নজরুলের সেই বিখ্যাত গজল- “আয় মরু পাড়ের হাওয়া নিয়ে যা রে মদিনায় জাত পাক মুস্তফার রওজা মোবারাক যেথায়”। দূর থেকে চোখে পড়ল মসজিদে নববীর সেই উজ্জ্বল সবুজ গম্বুজ। তিনি ডায়েরিতে লিখেছেন –“চোখে পানি এলো, ক্ষনিকের জন্য দোয়া-দরূদ সব ভুলে গেলাম, আজ আমি কত ভাগ্যবান, কত সুখী”। মদিনায় পৌঁছেই মসজিদে নবুবির দক্ষিণ পশ্চিম কোণে হুজুর পাক (সাঃ) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করলেন, আরো জিয়ারত করলেন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ), উমর (রাঃ) আর মা ফাতিমা (রাঃ) এর কবর।
    মদিনায় চোখে পড়ল গাছে গাছে খেঁজুর, দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের কাঁচা সুপারির মত। তবে সবই তখন কাঁচা, সেকারণে বাজারে গিয়ে মন মতো খেঁজুর পেলেন না, ৩-৪ রকম মিশিয়ে দেশের জন্য কয়েক সের কিনলেন। মদিনায় দ্রব্যমূল্য মক্কার থেকেও কম। বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য সিংগারের একটি সেলাই মেশিন কিনলেন, যদিও দেশে ফেরার সময়ে না্না জটিলতায় ওটা আর আনতে পারেননি।
    মদিনায় থাকবার কালও একসময় শেষ হয়ে এলো। এক বুক বেদনা নিয়ে তিনি মক্কায় ফিরে চললেন।
    পরিশিষ্টঃ
    আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের অশেষ রহমতে জনাব সাখাওয়াত আলী সে বার সুস্থ শরীরে হজ সম্পন্ন করে ১৪ দিনের সমুদ্র যাত্রা শেষে আগস্ট মাসের প্রথম দিনে দেশে ফিরে আসেন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হজ্বযাত্রীদের সাথে সাক্ষাতের জন্য সেদিন হাজার হাজার চট্টগ্রামবাসী জড়ো হয়েছিলেন বন্দরে। হাজীদের সাথে বুকে বুক মিলিয়ে আলিংগনে তখন তারাও নিশ্চয়ই আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করবার স্বপ্ন দেখেছিলেন।


    লেখকঃ ড: তারেক আজিজ, অধ্যাপক, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সাখাওয়াত আলী আত্মীয়তার সম্পর্কে লেখকের দাদা-শ্বশুর।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4609