• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ২০১৯ সালে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন যারা

    ডেস্ক | ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২:৪৩ অপরাহ্ণ

    ২০১৯ সালে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন যারা

    দীর্ঘ সময় ফুটবলের জাদু দিয়ে পুরো বিশ্বকে করেছন মন্ত্রমুগ্ধ। তবে বয়সের কাছে পরাজিত হয়ে তুলে রাখতে হয়েছে বুট জোড়াকে। ২০১৯ সালে ফুটবলকে বিদায় জানানো তারকাদের ক্যারিয়ার নিয়ে আজকের আয়োজন।


    জাভি হার্নান্দেজ


    ২০১৯ সালের মে-তে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে জাভি বার্সার হয়ে আটটি লা লিগা, চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতার পাশাপাশি স্পেনের জার্সিতে ২০১০ বিশ্বকাপ ফুটবল ও দুটি উয়েফা ইউরো শিরোপা জিতেছেন।

    বর্তমানে আল সাদের ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন জাভি, স্বপ্ন দেখেন বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার।

    ফার্নান্দো তোরেস

    স্পেনের আরেক বড় তারকা ফার্নান্দো তোরেস। চলতি বছরের আগস্টে জাপানিজ ক্লাব সাগান তোসুতে ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। এ সময় ফুটবল দিয়ে কারিশমা দেখিয়েছেন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, লিভারপুল ও চেলসিতে।

    অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের যুবদলে ক্যারিয়ার শুরু করা তোরেস পরিচিত পান লিভারপুলে এসে। ১৪২ ম্যাচে করেছেন ৮১ গোল। পরিসংখ্যাটা আহামরি কিছু না হলেও মাঠে তার উপস্থিতি প্রতিপক্ষকে ভীত করে তুলতো।

    জাতীয় দলে তার গোলেই ৪৪ বছর পর ইউরোর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছিল স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বেই বিদায় নেয় স্পেন, ইতি টানে স্পেনের সোনালী প্রজন্ম। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেন তোরেস।

    ডেভিড ভিয়া

    ৩৭ বছর বয়সী ডেভিড ভিয়া চলতি মাসের ৭ ডিসেম্বর জাপানের জে-লিগের দল ভিসেল কোবের হয়ে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন। ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে এ ফুটবলার স্পেনের বেশ কয়েকটি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তিনি স্পোর্টিং গিজন, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া, বার্সেলোনা ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এরপর স্পেন ছেড়ে ভিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে। সেখানে চার বছর খেলার পর চলতি বছরে তিনি যোগ দেন জাপানিজ ক্লাব ভিসেল কোবেতে।

    ক্লাব ক্যারিয়ারে ভিয়া তিনটি লা লিগা, তিনটি কোপা দেল রেসহ বার্সেলোনার হয়ে একটি চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন। এছাড়া স্পেনের জার্সিতে তিনি ২০০৮ সালের ইউরো ও ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জিতেছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ৯৮ ম্যাচে ৫৯ গোল করেছেন।

    রবিন ফন পার্সি

    গেল মৌসুম শেষে ফুটবলকে বিদায় বলার ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন রবিন ফন পার্সি। ১২ মে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন এই সাবেক নেদারল্যান্ডস ফরোয়ার্ড।

    ২০০৪ সালে আর্সেনালের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন রবিন ফন পার্সি। তবে ক্লাবটিতে টানা ১১ বছর সার্ভিস দিয়ে জিতেতে পারেন মাত্র একটি ট্রফি।

    এরপর ২০১২ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানে নিজের প্রথম মৌসুমেই জেতেন লিগ শিরোপা, ২৬ গোল করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতাও। প্রিমিয়ার লিগে সব মিলিয়ে ২৮০ ম্যাচে করেছেন ১৪৪ গোল। ডাচ ফুটবলারদের মাঝে এটাই প্রিমিয়ার লিগে সেরা।

    ২০১৭ সালে থেকে অবসর নেওয়ার আগে জাতীয় দলেও সফল ছিলেন পার্সি। দেশের হয়ে খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ১০২ ম্যাচে করেছেন ৫২ গোল, যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। ২০১৪ বিশ্বকাপে গড়েছিলেন এক অনন্য রেকর্ড। ১৯৬৬ সালের পর এক বিশ্বকাপে বাঁ পা, ডান পা, হেড ও পেনাল্টি থেকে গোল করা প্রথম ফুটবলার ছিলেন পার্সিই।

    বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার

    জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার পর চলতি বছর ক্লাব ফুটবলকেও বিদায় বলে দেন।

    জাতীয় দলের হয়ে ১২০টি ম্যাচ খেলেছেন ৩৫ বছর বয়সী শোয়েনস্টাইগার। সব ম্যাচ মিলিয়ে ২৪টি গোল করেছেন তিনি। এমনকি জার্মানির হয়ে তার সেরা অর্জন ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়। এই বিশ্বকাপ জেতা দলটির অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন তিনি।

    এছাড়াও গত ৩ বছরে বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও শিকাগোর হয়ে খেলেছেন এই জার্মান তারকা। তবে তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় বাভারিয়ানদের হয়ে কেটেছে। এই সময়ে তিনি ৮টি বুন্দেসলিগা, ১টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বাদ পেয়েছেন।

    পিটার চেক

    প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের সেরা গোলরক্ষকদের যেকোনো তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবে তার নাম। ২০০৪ সালে রেঁনে থেকে তাকে চেলসিতে ভেড়ান হোসে মরিনহো। প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব হিসেবে চেলসির উত্থানের পেছনে তার টানা ১১ বছরের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার অবদান দুর্দান্ত। প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন ৪বার, জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগও।

    ২০১৫-তে চেলসি ছেড়ে পাড়ি জমান আর্সেনালে। এমিরেটসে থাকাকালীন সময় একমাত্র গোলরক্ষক হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে ২০০ ক্লিনশিটের রেকর্ড গড়েন চেক। ক্লাবের মত দেশের হয়েও চেক ছিলেন ধারাবাহিক। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলেছেন ১২৪টি, যা দেশের হয়ে সর্বোচ্চ। এ বছর সাবেক ক্লাব চেলসির বিপক্ষে ইউরোপা লিগ ফাইনাল দিয়েই ফুটবলকে বিদায় বলেছেন চেক। `ব্লুজ`দের হয়ে প্রায় এক যুগ কাটানো চেক ফিরেছেন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজেই, চেলসির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে।

    আরিয়েন রোবেন

    নেদারল্যান্ডসের সাবেক তারকা আরিয়েন রোবেন। চলতি বছরের জুনে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ছাড়াও চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভিতে খেলেছেন তিনি।

    ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে স্থানীয় এফ সি গ্রোনিনজেনের হয়ে। বায়ার্নের হয়ে একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও আটটি বুন্দেসলিগা জিতেন তিনি। চেলসির হয়ে জেতেন দুটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।

    চেলসিতে এসে নিজেকে পরিচিত করেন রোবেন। ১০৫টি লিগ ম্যাচ খেলে ১৯ গোল করেন এ উইঙ্গার। টানা দুই মৌসুম প্রিমিয়ার লিগ জেতার পাশাপাশি ২০০৭ সালের এফ এ কাপ ও দুটি লিগ কাপও জেতেন এ ডাচ তারকা।

    ওয়েসলি স্নাইডার

    ১৭ বছরের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতিটা ২০১৯ সালেই টানেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক মিডফিল্ডার ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী তারকা ওয়েসলি স্নাইডার। ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তারই (১৩৪)। জাতীয় দলের হয়ে গোল করেছিলেন ৩১টি।

    আয়াক্সের বিখ্যাত একাডেমি থেকে উঠে আসা স্নাইডার আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, গালাতাসারায়ের হয়ে। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের যেকোনো তালিকায় তার নাম থাকবে শুরুর কাতারেই। ২০০৯-১০ মৌসুমে পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে ইন্টারের ট্রেবল (ইতালিয়ান সিরি `আ`, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা ইতালিয়া) জেতার ক্ষেত্রে সেরা অবদান রেখেছিলেন তিনি।

    আল ঘারাফার হয়ে এ বছর ১২ আগস্ট ঘোষণা দেন অবসরের। ড্রিবলিং, আগুনে শট- ‘নম্বর টেন’ হিসেবে স্নাইডার ছিলেন রীতিমত অপ্রতিরোধ্য।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669