• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ২০ দলীয় জোটের কে কোথা থেকে নির্বাচন করবে

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৩ জুলাই ২০১৭ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

    ২০ দলীয় জোটের কে কোথা থেকে নির্বাচন করবে

    প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। ঈদুল ফিতরে জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বিএনপি এবং ছাত্রদলের স্বচ্ছ ভাবমর্যাদার সাবেক নেতারাও তৃণমূলে গণসংযোগে ব্যস্ত। নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন পেশাজীবী নেতারাও। কেউ কেউ সভা-সমাবেশ কিংবা ভুঁরিভোজের আয়োজনও করছেন। ভোটারদের নজর কাড়তে এবং আস্থা অর্জনে অনেকে পোস্টারও সাঁটিয়েছেন এলাকায়। কেউবা উঠান বৈঠক করছেন। আর রমজান মাসজুড়ে ছিল ইফতার ও দোয়া মাহফিল। এভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন বলে তারা মনে করেন। জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এমনটি ধরে নিয়েই সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছেন গণসংযোগ।


    নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না দিলেও ভেতরে ভেতরে ৩০০ আসনেই একাধিক প্রার্থী জরিপসহ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি। একই সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২০ দলের শরিক দলগুলোর প্রভাবশালী প্রার্থীরা। যদিও বিএনপির সাথে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কথাবার্তা এখনো হয়নি। তবে মনোনয়ন পেতে জোট নেতাদের কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে অবস্থানকারী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছেন।

    ajkerograbani.com

    এ দিকে বিএনপি বর্তমানে সহায়ক সরকারের দাবি আদায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দাবি আদায় হলে শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির কার্যক্রম শুরু হবে। তবে জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে বিএনপির প থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে শুধু বিজয়ী হওয়ার মতো জোটের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে। একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

    ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের পরিধি বাড়িয়ে গঠিত হয় ১৮ দলীয় জোট। পরে তা ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। জানা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ৩১টি, বিজেপিকে সাতটি এবং ইসলামী ঐক্যজোটকে ছয়টি আসন বরাদ্দ দেয় বিএনপি। নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ৩৫টি, বিজেপিকে দু’টি, ইসলামী ঐক্যজোটকে দু’টি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে দু’টিসহ শরিকদের মোট ৪১টি আসন বরাদ্দ দেয়া হয়। জোট নেতাদের দাবিÑ সরকারের বিভিন্ন প্রলোভন সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে জোটের প্রতি আনুগত্য ও সময়ের পরীক্ষায় তারা উত্তীর্ণ। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বণ্টনে তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে হবে।

    জানা গেছে, ২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপির সভাপতি ড. অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৩, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ এবং জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি নীলফামারী-১, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি চৌধুরী গাইবান্ধা-৩, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন কুষ্টিয়া-২, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান কিশোরগঞ্জ-৫, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা পাবনা-২, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম কুমিল্লা-৬, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২, ন্যাপ ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজাহারুল ইসলাম গাইবান্ধা-৫, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুতে তার মেয়ে জাগপার সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দিনাজপুর-৩ অথবা পঞ্চগড়-২ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আহসান হাবিব লিঙ্কন বলেন, এলাকার জনগণ দল-মত নির্বিশেষে তাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দেখতে চান। এর বাইরেও জোটের কয়েকজন নেতা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্য দিকে জোটের দ্বিতীয় বৃহৎ শরিক দল জামায়াতে ইসলামী প্রায় ৫০টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গত রমজানে একাধিক ইফতার মাহফিলে অতিরিক্ত আরো কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়। জামায়াত এর আগে যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন করেছিল সেগুলো বহাল রেখে আগামীতে ১৫টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এ দিকে বিএনপি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং পেশাজীবী নেতাদের মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী) থেকে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, মাদারীপুর-১ থেকে শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। রোমান বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নির্যাতন হয়রানির কারণে তিনি ঠিকমতো বাড়িতে পর্যন্ত যেতে পারেন না। রমজান মাসে তার শিবচরের বাঁশকান্দির বাড়িতে ভাঙচুর করে পুলিশ। সম্প্রতি তাকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যদিও মামলার সাথে তার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতাও নেই। এত কিছুর পরও তিনি এলাকায় তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তাকে মনোনয়ন দিলে এবং আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে মাদারীপুর-১ আসনটি তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবেন বলে জানান ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান।

    নওগাঁ-৫ (সদর) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, দুই মেয়াদে জেলার সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্বচ্ছ ভাবমর্যাদার লোককে এমপি হিসেবে চায়। সদর আসনে আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ী হবো ইনশা আল্লাহ। বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল) থেকে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৫ থেকে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, যশোর-২ অথবা ৩ থেকে খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চট্টগ্রাম-২ থেকে বিএনপির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নেত্রকোনা-১ থেকে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-৩ থেকে কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল, নেত্রকোনা-৫ আসনে শহীদুল্লাহ ইমরান, ঢাকা-১৬ থেকে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, গাজীপুর-৩ থেকে বিএনপির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমিনুল হক জানান, তিনি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমিরুল ইসলাম আলিম বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে নির্বাচনে চান।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, আগামী নির্বাচন কল্পনার অধিক গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কারণে। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন্তত ১২টি আসনে আমাদের দলীয় শক্ত প্রার্থী আছে। তবে জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি নিজেও ইনশা আল্লাহ চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা জোটের প্রধান শরিক বিএনপির চিন্তা-চেতনার সাথে সহমত পোষণ করি। অতীতে ২০ দলীয় জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হয়েছিল। ফের যদি হয় সে ব্যাপারে জোটের শরিকরা সচেতন। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভোটার এবং প্রার্থী কেউই সুবিচার পাবেন না। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী দলীয় রাজনৈতিক চাপে থাকবেন। সংবিধানের দোহাই দিয়ে ওইরূপ পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। তবে জোটের শরিক দলগুলোকে কতগুলো আসন দেয়া হতে পারে সে ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি বলে তিনি জানান।

    জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর আগামী নির্বাচন নির্ভর করলেও আমি পিরোজপুর-১ থেকে নির্বাচন করতে চাই। আমাদের দলের ১১ জন সাবেক এমপি রয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি জাতীয় পার্টির রয়েছে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757