রবিবার, জুন ৭, ২০২০

২৪ ঘণ্টা জ্বলছে চিতা-চুল্লি, তবুও লাশের স্তূপ দিল্লির শ্মশান

  |   রবিবার, ০৭ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  

২৪ ঘণ্টা জ্বলছে চিতা-চুল্লি, তবুও লাশের স্তূপ দিল্লির শ্মশান

ভারতের করোনা পরিস্থিতি সময়ের সাথে সাথে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। সংক্রমণে মৃত্যুপুরী ইতালিকে টপকে বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে ভারত। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৫৪ জন। প্রাণহানীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, ২৪ ঘণ্টা জ্বলছে চিতা-চুল্লি, তবুও লাশের স্তূপ জমেছে দিল্লির শ্মশানে! করোনা সংক্রমিত দেহ কাঠের চিতায় তুললে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। সেই আশঙ্কায় এত দিন শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লিতেই দেহ সৎকার চলছিল। তাতে কুলাতে না পেরে সম্প্রতি কাঠের চিতায় দেহ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে দিল্লির নিগম বোধ শ্মশান কর্তৃপক্ষকে। দিনভর চিতার আগুন ও ধোঁয়ায় চোখে জ্বালা ধরে গেলেও, সব দেহ সৎকার করে উঠতে পারছেন না শ্মশানকর্মীরা।
জানুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত নভেল করোনার প্রকোপে ভারতে ৬ হাজার ৬৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র দিল্লিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন। তবে মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে চললেও, কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, সব শ্মশানে তাদের দাহ করা যাচ্ছে না। নিগম বোধ ছাড়া অন্য তিনটি শ্মশান এবং দু’টি কবরস্থানেই তাদের সৎকার করতে হচ্ছতবে শহরের প্রাণকেন্দ্র লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকাতেই যেহেতু অবস্থিত নিগম বোধ শ্মশান ঘাটটি, বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গ থেকে সেখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃতদেহ এসে পৌঁছচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা শ্মশান খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগম বোধ কর্তৃপক্ষ। ছ’টির মধ্যে তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লি টানা কাজ করছে সেখানে। গত সপ্তাহে কাঠের চিতাতেও করোনায় মৃতদের দাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সব দেহ সৎকার করা সম্ভব হচ্ছে না।
শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্য সুমন কুমার গুপ্ত জানান, ‘মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে ঢোকার মুখে মৃতের পরিবারের সকলকে জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অনেকটা সময়ও লেগে যায়। তার জন্য উদ্বেগ নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্মশানে অপেক্ষা করতে হয় তাদের।’ সুকুমার গুপ্তের কথায়, ‘সকলেই চান চটজলদি সব কিছু মিটিয়ে ফেলতে। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনটি মাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লি কাজ করছে। তাই সময় লেগে যায়।’
হাসপাতাল ও মর্গগুলিতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, কোনো কোনো সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স চার-পাঁচটি দেহ নিয়ে শ্মশানে হাজির হয় বলেও জানান তিনি। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় শ্মশান কর্মীদের। গত দু’মাসে নিগম বোধ শ্মশানে পাঁচ শতাধিক দেহ দাহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুকুমার গুপ্ত।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক অ্যাম্বুলেন্স কর্মী জানান, এমনও হয়েছে যে অ্যাম্বুলেন্সে একাধিক দেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছেছেন তিনি। কিন্তু ভিড় থাকায় সঙ্গে সঙ্গে দেহগুলো দাহ করা যায়নি। এমন অবস্থায় হাসপাতালে দেহ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। তাই রাতে মৃতদেহ সহ অ্যাম্বুলেন্স শ্মশানে ফেলে রেখেই বাড়ি ফিরে যান তিনি। পর দিন সকালে ফের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যান হাসপাতালে।
নিগম বোধ শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দেহ ঢোকানো থেকে চিতাভষ্ম বের করা, গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় দু’ঘণ্টা সময় লাগে বলে জানা গেছে। চিতায় সৎকার করলে, কাঠ বয়ে আনা, চিতা সাজানো মিলিয়ে সময় লাগে আরো বেশ খানিকটা। সে ক্ষেত্রে শ্মশানকর্মীরাই মৃতদেহে ঘি লাগানো, গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরানোর কাজ সারেন।
চিতায় সৎকারের সময় পরিবারের দু’চার জন সদস্যকেই কেবল সেখানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে মৃতদেহ দাহ করার সময়, মুখে মাস্ক পরে, কাচের দেওয়ালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মৃতের পরিবারের লোকজনকে।
নিগম বোধ ঘাটে এক সঙ্গে চারটি চিতায় দেহ দাহ করা যায়। প্রতিটি চিতা পিছু চার জন করে শ্মশানকর্মী নিয়োজিত থাকেন। সঞ্জয় শর্মা নামের এক শ্মশানকর্মী জানান, এই সঙ্কটের সময়ও মৃতদেহগুলোকে যাতে সম্মানের সঙ্গে দাহ করা যায়, সেদিকে নজর রাখেন তারা। তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তার।


Posted ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৭ জুন ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]