• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ৩০ দেহরক্ষী নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অফিসে মুসা

    অনলাইন ডেস্ক | ০৮ মে ২০১৭ | ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    ৩০ দেহরক্ষী নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অফিসে মুসা

    এক-দুইজন নয় এবার ৩০ দেহরক্ষী নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাড়া দিয়েছেন আলোচিত ধনকুবের মুসা বিন শমসের ওরফে প্রিন্স মুসা। সিনেমা স্টাইলে শুল্ক গোয়েন্দা অফিসে পৌঁছার পর রোববার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টাব্যাপী শুল্ক গোয়েন্দারা প্রিন্স মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।


    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে শুল্ক ফাঁকি, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতির তিনটি অভিযোগ বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। এতে অন্তত দুইটির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। শুল্ক ফাঁকির ঘটনায় সরাসরি প্রিন্স মুসাকে প্রধান

    ajkerograbani.com

    আসামি এবং মানিলন্ডারিংয়ে সহযোগী আসামি করে মোট দুইটি মামলা করবেন শুল্ক গোয়েন্দারা। আর দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুদককে (দুর্নীতি দমন কমিশন) জানানো হবে। তাদের আইনানুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।
    রোববার মুসা বিন শমসেরের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ড. মইনুল খান সাংবাদিকদের জানান, প্রিন্স মুসা বিন শমসেরকে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দুই সদস্যের তদন্ত টিম জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে নানা তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন। তিনটি অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আমাদের তদন্ত টিম। তা হলো শুল্ক ফাঁকি, মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি।
    তিনি জানান, ইংল্যান্ডের নাগরিক ফরিদ নাবিরের কাছ থেকে ২০১০ সালের ১২ মার্চ ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় ল্যান্ডরোভার গাড়িটি মাত্র ৫০ লাখ টাকায় কেনেন ধনকুবের প্রিন্স মুসা। কিন্তু ফরিদ সে টাকা বাংলাদেশে না রেখে বিদেশে নিয়ে যান, যা মানিলন্ডারিং আইনের লঙ্ঘন। এজন্য ফরিদ নাবিরকে প্রধান আসামি করে মানিলন্ডারিং মামলা করা হবে। একই মামলায় সহযোগী আসামি হবেন মুসা বিন শমসেরসহ অন্য সহযোগীরা। অন্যদিকে, গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে ১৭ লাখ টাকার ভুয়া বিল তৈরি করে শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়। ওই ১৭ লাখ টাকা আজও পায়নি শুল্ক বিভাগ। এজন্য প্রিন্স মুসাকে সংশ্লিষ্ট আইনে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে প্রধান আসামি করে মামলা করা হবে।
    তিনি আরও বলেন, ল্যান্ডরোভার গাড়িটি বিআরটিএর কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ছাড়পত্র নেয়া হয়, যা দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) আইনে অপরাধ। এজন্য আমরা দুর্নীতির বিষয়টি দুদককে জানাব। দুদক তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
    ড. মইনুল খান বলেন, ২ ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন মুসা। আশা করা হচ্ছে আর তাকে ডাকতে হবে না। তবে প্রয়োজন হলে তার পক্ষ থেকে কেউ এসে তথ্য দিয়ে যাবেন। তার বিরুদ্ধে একটি গাড়িতে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। আরও অনেক গাড়ি রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই ও প্রমাণসাপেক্ষ।
    প্রসঙ্গত, ২১ মার্চ অভিযান চালিয়ে প্রিন্স মুসার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা রেঞ্জরোভার গাড়িটি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গাড়িটি শুল্ক পরিশোধের ভুয়া কাগজ দিয়ে ভোলা বিআরটিএ থেকে জনৈক ফারুক উজ-জামান চৌধুরীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। গাড়িটি প্রিন্স মুসা বিন শমসের নিজে ব্যবহার করে আসছিলেন। তদন্তের স্বার্থে ২০ এপ্রিল শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দিলে প্রিন্স মুসা আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ‘বাকশক্তি হারিয়েছেন’ দাবি করে সময় প্রার্থনা করেন। এ কারণে শুল্ক গোয়েন্দারা ১৫ দিনের সময় দেন। অতঃপর রোববার গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজিরা দেন প্রিন্স মুসা। শুল্ক ফাঁকির ঘটনাটি তদন্তের জন্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপপরিচালক এইচ এম শরিফুল হাসানকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757