• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ৩ বউয়ের ফান্দে পড়িয়া পুলিশ সদস্যর আত্মহত্যার চেষ্টা

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক | ৩০ জুন ২০১৮ | ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

    ৩ বউয়ের ফান্দে পড়িয়া পুলিশ সদস্যর আত্মহত্যার চেষ্টা

    তিন স্ত্রীর অত্যাচারে সেন্টু মিয়া নামে এক পুলিশ কনস্টেবল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পরে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন তিনি। অবস্থাটি এমন হয়েছে যেন, ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে!


    ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার ধামরাইয়ে সানোড়া ইউনিয়নের বড় অমরপুর গ্রামে। গ্রামের মো. লেহাজউদ্দিনের একমাত্র ছেলে মো. সেন্টু মিয়া বছর দুয়েক আগে পুলিশের কনস্টেবল পদে(কঃ১৬৪৫) চাকরি পান।


    চাকরি পেতে সানোড়া গ্রামের অপর পুলিশ কনস্টেবল মো. সুমন মিয়াকে দিতে হয় নগদ ৭ লাখ টাকা। গরিব বাবার পক্ষে এত টাকা দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় পাশের সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাথুলি এলাকার মো. সবেদ আলীর মেয়ে হাজেরা বেগমকে ৭ লাখ টাকার যৌতুকের বিনিময়ে চাকরিতে যোগদানের আগেই বিয়ে করেন সেন্টু মিয়া। পরবর্তীতে কাবিন রেজিস্ট্রি করেন।

    প্রশিক্ষণ শেষ করে করে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনে বকশি হিসেবে যোগদান করেন কনস্টেবল সেন্টু মিয়া। ঘরে স্ত্রীকে রেখে গেলেও মাস ছয়েক পরে মালা আক্তার নামে অপর এক নারী কনস্টেবলকে নোটারি পাবলিক আদালতে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন।

    এর কিছুদিন পর মালা আক্তারের বান্ধবী শেফালী ঘোষকে সেন্টু মিয়া আবারও গোপনে বিয়ে করেন।

    এদিকে শেফালীর সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা কমিয়ে দিলে সোমবার বিকালে তিনি কনস্টেবল মালা আক্তারকে নিয়ে সেন্টু মিয়ার গ্রামের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন।

    বাড়িতে এসে সেন্টু মিয়াকে দেখে মালা জানতে পারেন তারই স্বামীকে গোপনে বিয়ে করেছে তার বান্ধবী।

    অপরদিকে বাড়িতে থাকা কনস্টেবল সেন্টু মিয়ার প্রথম স্ত্রীও জেনে যায় তার স্বামী চাকরিতে গিয়ে আরও দুটি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে ওই বাড়িতে বেঁধে যায় চরম হট্টগোল।

    তিন স্ত্রী ওই পুলিশ কনস্টেবলকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে দেয়। এতে কোনো উপায়ান্তর না দেখে ঘরের ভেতরে থাকা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সেন্টু মিয়া।

    দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সুস্থ হয়ে তিনি তিন স্ত্রীর জ্বালা-যন্ত্রণার কথা ভেবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে হাসপাতাল থেকেই পালিয়ে যান। এমন ঘটনায় হতবাক তার বাবা মাসহ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে শত শত উৎসুক গ্রামবাসীর ভিড় পড়ে যায় ওই পুলিশ কনস্টেবল সেন্টু মিয়ার বাড়িতে।

    এদিকে তিন স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি ও চুলাচুলি লেগে যায় স্বামীর অধিকার নিয়ে। এলাকাবাসী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সেন্টু মিয়ার প্রথম স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, আমার বাবার টাকায় সেন্টুর পুলিশে চাকরি হয়েছে। আমার সঙ্গে প্রতারণার উচিত শিক্ষা দেব আমি। সতিনের ঘর করার জন্য আমার বাবা ওকে টাকা দেয়নি।

    সেন্টুর মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী মালা আক্তার জানান, সরল বিশ্বাসে ওর বাড়িঘর ও বংশ পরিচয় না জেনেই বিয়ে করেছি। সেন্টু বিয়ের সময় ভুল ঠিকানা দিয়েছে। বিয়ের ১ মাস পর ওর আইডি কার্ডে ঠিকানা পাই। ছুটি না থাকায় এত দিন যেতে পারিনি। ফলে ওদের বাড়িতে যেতে আমার অনেকটা বিলম্ব হয়। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।

    সেন্টু মিয়া জানান, আমি বকশি হিসাবে শেরেস্তায় কাজ করার সুবাদে মালা আক্তারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়। আর সে সম্পর্কের কারণেই সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আমাকে বিয়ে করেছে। আমি এখন ফেঁসে গেছি।

    ইউপি মেম্বার মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, সেন্টু মিয়া কাজটি খুবই খারাপ করেছে। ওর সঠিক বিচার করতে পারবে ওর ডিপার্টমেন্ট। আমরা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারব না। তবে এতটুকু বুঝি ওর চাকরি থাকা উচিত নয়। একজন আইনের লোক হয়ে এমন বেআইনি কাজ করাটা মোটেও উচিত হয়নি তার।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673