• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষদের অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত করবে

    মোঃ মিজানুর রহমান | ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

    ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষদের অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত করবে

    মোঃ মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাইম এ্যাসেট গ্রুপ ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি যে কোনো নিপীড়িত জাতির মুক্তির দিশা, স্বাধীনতা সংগ্রামের পদপ্রদর্শক, তা ভাষণটিতে চোখ বুলালেই বোঝা যায়। লাখ লাখ মানুষের পিনপতন নীরবতার মাঝে বঙ্গবন্ধু বলতে থাকেন- ‘…আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ পাকিস্তানি সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলনে, ‘… তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে ফিরে যাও, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না।’
    স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব- এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাঙালি জাতি সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। পাকিস্তানিরাও বুঝেছিল এটা চূড়ান্ত আলটিমেটাম। তাই ভাষণের পর থেকে তারা ঢাকায় অস্ত্র জমাতে শুরু করে।
    জাতির পিতার মাত্র ১৮ মিনিটের সুবিন্যস্ত এ ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটিকে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।
    স্মর্তব্য, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করার উদ্যোগ হিসেবে ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পেতে হলে পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক প্রভাব থাকতে হয়, যা অনস্বীকার্য হিসেবে রয়েছে ৭ মার্চের ভাষণে। আন্তর্জাতিক অ্যাডভাইজরি কমিটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। তারা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছর ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর এ নিয়ে বৈঠকে বসে কমিটি। সেখানেই ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত ভাষণ। গত ৪৬ বছর ধরে এ ভাষণ কয়েক লাখ বার বাজানো হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ৩৫ কোটি বাঙালিকে তা অনুপ্রাণিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ একটি নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৮ মিনিটের ওই ভাষণ অলিখিত হলেও প্রতিটি শব্দ ছিল সুবিন্যস্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন।
    একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয় সে দিকেও ছিল সতর্ক দৃষ্টি। তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি। পাকিস্তানিরা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। এমনটি হলে সরাসরি জনসভায় হামলা চালানোর প্রস্তুতিও নেয় তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বহির্প্রকাশ ঘটিয়ে পাকিস্তানিদের বোকা বানিয়ে দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের ডাক দেওয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করার কোনো সুযোগ পায়নি তারা। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর হলেও ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক বড় অর্জন।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একটি আন্তর্জাতিক তালিকাই মূলত মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতির ফলে এ ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) রেজিস্টারে নিবন্ধিত হলো। এমওডব্লিউতে এটাই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে। এমওডব্লিউ রেজিস্টারে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক মাইলফলক বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির স্থান লাভ একটি অনন্য স্বীকৃতি এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অশেষ গর্বের।
    আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তখনকার রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। উত্তাল জনসমুদ্র যখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব, তখনই বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করলেন তার চূড়ান্ত আদেশ- ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহৃ।’ ওই ভাষণেই সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্য বাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চার দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ৭ মার্চের ভাষণেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নিশানা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এ ভূখণ্ডের মানুষকে নিজের দেশ, ভাষা ও অধিকার বোধ সম্পর্কে জাগ্রত করেছিল, প্রস্তুত করেছিল মরণপণ সংগ্রামের জন্য। মাত্র ১৯ মিনিটের যে বক্তৃতা বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন সেটাই সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মনের বল নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্দীপনা দিয়েছিল। এর আগে আর কোনো নেতার কোনো ভাষণ তা পারেননি। এই ভাষণ বাংলার আপামর জনতার প্রেরণার জায়গা এবং এই ভাষণ আমাদের মুক্তি সংগ্রামের একটি অনন্য মাইলফলক। বিশ্ব ইতিহাসে যার দৃষ্টান্ত বিরল।
    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ যা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সব মুক্তিকামী মানুষ স্মরণে রাখার দাবি রাখে। যুগে যুগে এই ভাষণ মানুষকে তার অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার পরিচয় সন্ধানে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষকে জাগিয়ে তুলবে। দেরিতে হলেও এ ভাষণ তার প্রাপ্য বিশ্ব স্বীকৃতি পেল, যা বাঙালি জাতিকে তুলে দিল অনন্য এক উচ্চতায়।
    একাত্তরের ৭ মার্চের বিকেলটা ছিল অন্যরকম। এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিল সমগ্র জাতি। এক পাতাঝরা বসন্তের বিকেল এভাবে বদলে দিতে পারে ইতিহাসের মোড়, বিশ্বের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। সেদিন বেলা তিনটা ২০ মিনিটে দেওয়া মাত্র ১৮ মিনিটের একটি ভাষণ একটি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে যেভাবে উজ্জীবিত করেছিল, তার তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে হতে পারে না।
    বঙ্গবন্ধু যখন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন, তখন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ময়দান। মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত চারদিক, পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা। সেদিন বঙ্গবন্ধু আমাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন।
    বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের ওই ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিল সে সময়ের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। তাই এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিটি বাংলাদেশির স্মরণ করা উচিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অনন্যসাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি।’
    ৭ মার্চের ভাষনের ভেতর দিয়ে ফুটে ওঠে এক দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক নেতার পরিচয়। স্পষ্ট করেই তিনি বলেছিলেন, শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে, পাড়া দিয়ে, আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেম্বলি কল করেছেন আমার দাবি মানতে হবে প্রথম। সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখব আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি পারব না। এর পূর্বে অ্যাসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।
    বঙ্গবন্ধু তার ভাষনে বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই। সেই অধিকার তিনি এনে দিয়েছিলেন এ দেশের মানুষকে।
    আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ কেবল আমাদের জন্য নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ইউনেস্কোর ‘ঐতিহাসিক দলিল’ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সে পথই উন্মুক্ত হল। এমওডব্লিউ’তে এখন ৪২৭টি ডকুমেন্ট-সংগ্রহের অন্যতম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, যা জাতি হিসেবে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
    মুলত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যেই পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যে ক্ষমতা ছাড়তে চায়নি, সেটা তিনি বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। বুঝে গিয়েছিলেন যে জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধ আসন্ন। আর সে যুদ্ধে তিনি উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন, আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে তাঁকে, এটাও যেন তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল। বোধহয় সে কারণেই তিনি স্পষ্ট করে বলে দেন, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইল: প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারব। আমরা পানিতে মারব।
    ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে যেমন মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি তেমনি আসন্ন সে যুদ্ধের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল­ায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা : রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল­াহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই অজেয় বজ্রকণ্ঠ আজও কাঁপন ধরায় বাঙালির রক্তে। আলোড়ন তোলা সেই আহ্বানের জন্যই যেন বাঙালি জাতি অধীর অপেক্ষায় ছিল। বিদ্যুৎ বেগে সেই আহ্বান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ স্লোগানে স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। জাতির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, এর পরেও কি আর কারো স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়ার অপেক্ষা রাখে?
    ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ সম্মানিত করেছে। এ ভাষণ এখন পৃথিবীর সম্পদে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে পৃথিবীর নানা ভাষায়, অনুবাদ করে ছড়িয়ে দিতে হবে। শোষিত জাতি এ ভাষা থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজবে।


    লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাইম এ্যাসেট গ্রুপ এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669