মঙ্গলবার ৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইসলাম নিয়ে রাজা চার্লসের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

ইসলাম নিয়ে রাজা চার্লসের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেকের জন্য সবচেয়ে বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পর সিংহাসনে আরোহণ করেছেন ব্রিটেনের নতুন রাজা তৃতীয় চার্লস। এরপরই বিশ্বজুড়ে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন আধুনিক যুগের এ ব্রিটিশ রাজা। গত কয়েক দশক ধরে জনসাধারণের নজরে থাকলেও, প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে ডায়ানার মৃত্যু ঘিরেই বেশি আলোচনায় থেকেছেন ৭৩ বছর বয়সী চার্লস।

নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন, রাজনীতি এবং ধর্মসহ নানা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে নিজের মতামতের জন্যও জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন নতুন ব্রিটিশ রাজা। চার্লস বিভিন্ন সময় ইসলাম সম্পর্কেও তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন এবং খোলাখুলিভাবেই মুসলিম ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেছেন।

লেখক রবার্ট জবসন তার ‘চার্লস অ্যাট সেভেন্টি: থটস, হোপস অ্যান্ড ড্রিমস’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, রাজা চার্লস পবিত্র কোরআন অধ্যয়নের পাশাপাশি মুসলিম নেতাদের কাছে লেখা অনেক চিঠিতে আরবি ভাষায় স্বাক্ষরও করেছেন।
বিশ্বজুড়ে নানা সমস্যা সম্পর্কিত; ইসলাম এবং মুসলমানদের সম্পর্কে চার্লসের এমন কিছু চিন্তাভাবনা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে।

পরিবেশ
কয়েক দশক ধরেই পরিবেশগত নানা সমস্যা নিয়ে চার্লস বেশ স্পষ্টবাদী। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খোঁজার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২০১০ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের একটি বক্তৃতায় ইসলাম এবং কোরআন সম্পর্কে তার জ্ঞানের ভিত্তিতে চার্লস বলেছিলেন, ‘প্রকৃতির প্রাচুর্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে’।

চার্চ অব ইংল্যান্ডের সদস্য চার্লস আরও বলেন, ‘এগুলো স্বেচ্ছাচারী সীমা নয়, সৃষ্টিকর্তা আরোপিত সীমা। কোরআন সম্পর্কে আমার উপলব্ধি যদি সঠিক হয়, তাহলে মুসলমানদের নির্দেশ দেয়া হয় যে তারা যেন তাদের সীমা লঙ্ঘন না করেন।’

একই বক্তৃতায় বর্তমান এই ব্রিটিশ রাজা আরও বলেন, আমরা এই গ্রহটিকে অন্য সৃষ্টির সঙ্গে ভাগ করে থাকি। এটির একটি ভালো কারণ রয়েছে। আর তা হলো-আমাদের চারপাশে জীবনের যে জটিল ভারসাম্য, সেটি ছাড়া আমরা নিজেরাই থাকতে পারব না। ইসলাম সর্বদাই এই শিক্ষা দিয়েছে এবং সেই শিক্ষাকে উপেক্ষা করার অর্থ হচ্ছে সৃষ্টির সঙ্গে আমাদের চুক্তি ভঙ্গ করা।

ড্যানিশ কার্টুন
২০০৬ সালে মিশরের কায়রোতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সফরের সময় চার্লস ২০০৫ সালে প্রকাশিত ড্যানিশ কার্টুনের সমালোচনা করেছিলেন। কার্টুনটিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে উপহাস করা হয়েছিল। শুধু সমালোচনাই নয়, সবাইকে অন্যের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন চার্লস।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া বক্তব্যে চার্লস বলেন, ‘একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত উদাহরণ হলো সংখ্যালঘু এবং অপরিচিতদের প্রতি সম্মান দেখানো। ড্যানিশ কার্টুন নিয়ে সাম্প্রতিক ভয়ঙ্কর বিবাদ-ক্ষোভ আমাদের অন্যদের কথা শোনার ও অন্যদের কাছে যা মূল্যবান এবং পবিত্র তার প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থতার বিপদটিই দেখিয়ে দিয়েছে।’

২০০৫ সালে প্রকাশিত ওই ড্যানিশ কার্টুনগুলো পশ্চিমা বিশ্বে মুসলিম বিদ্বেষ এবং মুসলমানদের বাকস্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

রমজান
গেল এপ্রিলে মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে চার্লস বলেছিলেন, সবাই রমজানের চেতনা থেকে শিখতে পারে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শুধু উদারতাই নয়, সংযম, কৃতজ্ঞতা এবং প্রার্থনায় একতাবদ্ধতা বিশ্বজুড়ে স্বস্তি বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মুসলমানদের আত্মার উদারতা এবং সদয় হৃদয়ের আতিথেয়তা আমাকে বিস্মিত করে না। কারণ আমি নিশ্চিত যে আমরা যখন আরও অনিশ্চিত সময়ে প্রবেশ করব, এই রমজান মাস মুসলিম সম্প্রদায়ের আরও মহানুভবতার উৎস হবে ‘

ইসলাম ও পাশ্চাত্য
পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম সম্পর্কে অনেক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ রয়েছে উল্লেখ করে, দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম বিশ্ব এবং পশ্চিমাদের কাছাকাছি আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন চার্লস।

তিনি ১৯৯৩ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে দেয়া এক বহুল আলোচিত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘ইসলামের প্রকৃতি সম্পর্কে পশ্চিমা দেশগুলোতে যদি বেশি ভুল বোঝাবুঝি থাকে, তবে ইসলামিক বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সভ্যতার ঋণ সম্পর্কেও অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি ব্যর্থতা যা আমরা ইতিহাস থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ ‘চরমপন্থা মানেই ইসলাম নয়’ বলেও সেদিন সতর্ক করেছিলেন চার্লস।

১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসে জন্মগ্রহণ করেন চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। দাদা রাজা ষষ্ঠ জর্জ ১৯৫২ সালে মারা যাওয়ার পর মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বসেন মসনদে। তখন থেকেই পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ হয় প্রিন্স চার্লসের নাম। মাত্র ৯ বছর বয়সেই চার্লসকে ‘প্রিন্স অব ওয়েলস’ ঘোষণা করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চার্লসকে পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। সর্বপ্রথম ১৯৬৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব নিয়ে সোচ্চার হন। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যতম সমর্থক ছিলেন তিনি। ২০২১ সালের নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমাধান বের করতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য দেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাজা তৃতীয় চার্লস।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ajkerograbani.com |

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]