
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট
ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম। তাই মানুষের ফিতরাত তথা স্বভাবজাত চাহিদাকে ইসলাম স্বীকার করেছে অকপটে। তবে সেই স্বভাবজাত চাহিদার পাগলা ঘোড়াকে লাগামহীন ছেড়ে দেয়নি; বরং এর লাগাম টেনে ধরে দিয়েছে সীমারেখা। নির্দিষ্ট করে দিয়েছে তার চৌহদ্দি। সাহাবি সালমা ইবনে আকওয়া (রা.) বলেন, একজন আনসারি সাহাবি দৌড়ে খুবই পারদর্শী ছিলেন। দৌড় প্রতিযোগিতায় কেউ তাকে হারাতে পারত না। একদা তিনি ঘোষণা করলেন, আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে কেউ প্রস্তুত আছে কি? আমি রাসুল (সা.)-এর কাছে এ ব্যাপারে অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন। এ প্রতিযোগিতায় আমি জয়ী হলাম। (সহিহ মুসলিম সূত্রে মাআরিফুল কোরআন : ৭/৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আমি এটা পছন্দ করি না যে তোমাদের ধর্মে শুষ্কতা ও কঠোরতা পরিলক্ষিত হোক। (মাআরিফুল কোরআন : ৭/৮)
বর্ণিত হাদিসগুলোর আলোকে এ কথা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে খেলাধুলা ও বিনোদন শুধু জায়েজই নয়; ক্ষেত্রবিশেষে তা প্রশংসিত ও পছন্দনীয়। তবে এর সীমারেখা ও চৌহদ্দি অতিক্রম করা যাবে না এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। কারণ প্রত্যেক বিষয়েরই একটি সীমারেখা আছে। যা লঙ্ঘিত হলে সাধারণ মুবাহ ও বৈধ কাজ তো অনেক পরের কথা; নেক আমল ও মুস্তাহাব কাজও জায়েজ থাকে না; বরং তা হয়ে যায় আপত্তি ও প্রতিবাদের উপযুক্ত। হাল জামানায় এই খেলাধুলা ও বিনোদনের অবস্থা এই যে এখন তা আর শুধু খেলাধুলা ও বিনোদন নয়; বরং তা জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে। নিম্নে এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ।
খেলা যেন আল্লাহ ও পরকালবিমুখ না করে
যখন বিশেষ কোনো খেলা বিশেষত ফুটবল বা ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়, তখন গোটা জাতি ও দেশ এর উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে আল্লাহ-রাসুল, নামাজ-রোজা, ইবাদত-বন্দেগি ও পরকালকে বেমালুম ভুলে যায়। হয়ে উঠে আল্লাহ ও পরকালবিমুখ। অথচ খেলাধুলা ও বিনোদনে এভাবে মত্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ ব্যাপারে আছে বিশেষ সতর্কবাণী ও কঠিন শাস্তির ঘোষণা। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘এক শ্রেণির মানুষ এমন আছে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে ‘লাহওয়াল হাদিস’ তথা অবান্তর কথাবার্তা ক্রয় করে অন্ধভাবে এবং তা নিয়ে করে ঠাট্টা-বিদ্রুপ। এদের জন্য আছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ৬)
বেশির ভাগ সাহাবি, তাবেঈন ও তাফসিরবিদরা এর তাফসির করতে গিয়ে বলেছেন, খেলাধুলা, গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, অনর্থক গল্পসহ যেসব বিষয় মানুষকে আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণ থেকে গাফিল করে দেয়, সে সবই ‘লাহওয়াল হাদিস’-এর অন্তর্ভুক্ত। (মাআরিফুল কোরআন : ৭/৪)
সময়ের অপচয় নিষিদ্ধ
সময় মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। শুধু ইসলামই নয়, পৃথিবীর সব ধর্ম, মতবাদ ও ইজমই সময়ের গুরুত্ব দিয়েছে যারপরনাই এবং উপদেশ দিয়েছে সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর। সময়ের গুরুত্ব প্রসঙ্গে দয়ার নবী (সা.) বলেন, ‘দুটি নিআমত এমন আছে, যেগুলোর ব্যাপারে অনেক মানুষ প্রতারণার শিকার। একটি হলো সুস্থতা, অন্যটি অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২; তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৪)
অর্থের অপচয় নিষিদ্ধ
বিশ্বকাপ উপলক্ষে কী পরিমাণ অর্থের অপচয় হয় তার কিঞ্চিৎ ধারণা নেওয়া যাবে নিচের রিপোর্টগুলো থেকে। ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কী পরিমাণ অর্থের অপচয় করেছে তার কিছুটা অনুমান করা যায় নিচের রিপোর্ট থেকে। সেখানে আছে, এ আয়োজনে ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। (কালের কণ্ঠ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১)
Posted ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
ajkerograbani.com | Salah Uddin