
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট
শিক্ষার্থীরা যেখানে গ্রাজুয়েট হতেই পার করে দেয় অনেকটা সময়, সেখানে নাহিদ হয়েছেন উদ্যোক্তা, পেয়েছেন সফলতা। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি বিক্রি করছেন খাটি মধু। করোনাকালে সবাই যেখানে ঘরবন্দি, তখন নাহিদ শুরু করেছিলেন মধু ব্যবসা।
নাহিদ বালারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি (সমমান) ও লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি (সমমান) উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি পড়ছেন রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগে। বন্ধুদের মধ্যে তার মধুর চাহিদাও আছে ঢের।
নাহিদ বলেন, একজন ছাত্রের তার ছাত্রত্ব অবস্থায় ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়ে উঠে না। তবে পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যবসায় সৎভাবে যথেষ্ট সময় দিলে প্রাথমিক অবস্থায় সামান্য লাভবান হলেও ধীরে ধীরে তার সমৃদ্ধি বাড়তে থাকে। ধৈর্য ধরে সামনে অগ্রসর হলে পরবর্তীতে খুব ভালো সাড়া পাওয়া যেতে পারে।
মধু ব্যবসায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা থেকেই আমি এই ব্যবসায় এসেছি। মধু এমন এক প্রকার খাদ্য, যার কথা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের মধ্যেও উল্লেখ করেছেন। পেশা মানুষের জীবিকার বাহন। অক্সিজেন কিংবা পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেশা। শরীরের কোনো অঙ্গের গুরুত্ব যেমন কম নয়, ঠিক তেমনি সমাজের কোনো পেশার গুরুত্বও কম নয়। আমার ভালোলাগার জায়গা থেকেই আমি মধু ব্যবসায় এসেছি।
মধু ব্যবসায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি নিজস্ব একটি ব্রান্ড তৈরি করতে চাই। ভবিষ্যতে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমার মধু সংগ্রহকৃত এলাকা সুন্দরবন, দিনাজপুর, রংপুরসহ বাংলাদেশকে মধুর মাধ্যমে পরিচিতি এনে দিতে চায়।
তিনি আরো বলেন, পড়ালেখা, পরিবার, মধু ব্যবসা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে একটু কষ্ট হয়। একজন মা প্রসব বেদনার কষ্ট ছাড়া তার সন্তান জন্ম দিতে পারে না। পৃথিবীতে ছোট কিংবা বড় সবকিছুতেই কষ্ট থাকবে। অনেক সময় নানা রকমের কড়া সমালোচনার শিকার ও অবান্তর প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হবে। তবে একজন উদ্যোক্তার উচিৎ সব কিছু ছাপিয়ে তার ব্যবসায় মনোনিবেশ করা।
তিনি তার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে বলেন, দিনশেষে একজন সফল জীবনযোদ্ধা হিসেবে আত্মনির্ভরশীলতার পাশাপাশি এই জীবনের সব সুযোগ ও সময়গুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চাই।
Posted ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২২
ajkerograbani.com | Salah Uddin