বুধবার ৭ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঝরনার পানিতে পা ডুবাতে চাইলে যেতে হবে হিমছড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট

ঝরনার পানিতে পা ডুবাতে চাইলে যেতে হবে হিমছড়ি

যদি মনে হয়, ঝরনার পানিতে পা ডুবিয়ে বাস্তবের দুঃখগুলো ধুয়ে দেবেন, তাবে আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত হিমছড়ি। পাহাড়, সমুদ্র ও ঝরনা যেখানে মিলেমিশে একাকার। হিমছড়ি কক্সবাজার জেলা সদরের নিকটবর্তী একটি পর্যটন কেন্দ্র । কক্সবাজারে যখন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি তখনো হিমছড়ি ছিল দেশি- বিদেশি পর্যটকদের বিনোদনের তীর্থস্থান।

প্রাকৃতিক ভাবে পাহাড়ের উপর থেকে বয়ে চলা ঝরনা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। বর্তমানে পর্যটকদের আরো আকর্ষণ বাড়াতে বনবিভাগের উদ্যোগে অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। পাহাড়ের উঁচু থেকে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্ব পালন করছেন ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক।

হিমছড়িকে আরো আধুনিক সাজে সাজিয়ে ইকো – ট্যুরিজমের আওতায় এনে উদ্যান তৈরির কাজ চলছে। কক্সবাজার সদর থেকে এটি মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হিমছড়ির একপাশে রয়েছে সুবিস্তৃত সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের সারি। হিমছড়িতে একটি জলপ্রপাত রয়েছে যা এখানকার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। যদিও সময়ের বিবর্তনে বর্ষার সময় ছাড়া অন্যান্য অনেক সময়ই ঝরণা ধারা সচল থাকে কম বা শুষ্ক থাকে। তবুও প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবে হিমছড়ি পর্যটকদের আনাগোনয় সারা বছর সরব থাকে হিমছড়ি।

জেলা সদর হতে ৯ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি অবস্থিত। এখানে কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝরনা রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় পিকনিক করতে আসা বা কক্সবাজার আসা পর্যটকদের সংখ্যা খুবই বিরল যারা কীনা হিমছড়ি ঝর্ণা দেখেনি। ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে হিমছড়িসহ আশে পাশে অনেক পর্যটন স্পট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে হিমছড়ি এলাকাটি অনেক সংস্কার করা হয়েছে। এখন সিঁড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে সাগর, পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌর্ন্দয দেখা যায়। হিমছড়ি যাওয়ার পথিমধ্যে দরিয়ানগরসহ (ভাংগামোড়া) অনেক পিকনিক স্পট আছে।

যারা হৈ হুল্লুর পছন্দ করেন, বন্ধুদের নিয়ে উল্লাস করতে ভালবাসেন তাদের জন্য খোলা ছাদের জিপ উত্তম বাহন হিমছড়ি যাবার জন্য। ক্ষিপ্র গতিতে যখন জিপ ছুটে চলে খোলা জিপের উপর দাঁড়িয়ে দুইপাশে তাকালে মনে হবে যেন স্বপ্নে দেশে ভেসে যাচ্ছেন। এটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। আর যারা একটু শান্ত, ভদ্রভাবে পরিবার কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে যেতে চান হিমছড়ি তাদের জন্য রিকশাই উত্তম বাহন। দুপুরের পর পড়ন্ত বিকালে হিমছড়ি যাওয়ার মজাই আলাদা। পথ চলতে হবে কক্সবাজারের নানা চিংড়ি হ্যাচারির মাঝখান দিয়ে । দুইপাশে থাকবে সাগর পাড়ের গাছপালা।

এরপর বেশ উচু একটা ব্রিজ পার হলে শুরু হবে হিমছড়ির রাস্তা। রাস্তার একপাশে থাকবে উঁচু পাহাড় আরেক পাশে সাগর। নানা রকম পাখির কলতান শুনতে শুনতে আপনি রোমাঞ্চিত হবেন। এই রাস্তাটি সেনাবাহিনীর তৈরি করা। যাবার পথে চোখে পড়বে সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্প। মাঝে মাঝে নারিকেল গাছের এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে। জায়গায় জায়গায় দেখবেন পাহাড়ি ছোট ছোট ঝরনা । শুকনা মৌসুমে হয়তো সবগুলোতেই পানি দেখবেন না। পথে রিকশা বা গাড়ি থামিয়ে ঝরনা কাছে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন, ভিজিয়ে আসতে পারেন দুই পা।

যেভাবে যাবেন: রামু থেকে ২৫কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই ঝরনা। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি জিপ ভাড়া করে অথবা রিকশায় যাওয়া যায়। এছাড়ও এখানে বেবি ট্যাক্সিও ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ভাড়া পাওয়া যায়। সেটাতে করেও যেতে পারেন।

যা খেতে পারবেন: হিমছড়তে অসংখ্য খাবার দাবার হোটেল রেস্তোরাঁ আছে। সাগরের তরতাজা মাছের নানা রেসিপি পাবেন সেখানে। আর হ্যাঁ, ডাব খেয়ে আসতে ভুলবেন না।

থাকবেন যেখানে: কক্সবাজার শহর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত অসংখ্য হোটেল কটেজ ও রেস্টহাউজ রয়েছে। সাধ্যের মধ্যে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫/২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম ভড়া পাওয়া যায়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]