মঙ্গলবার ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সবার সুসম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ঘটে: গবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

সবার সুসম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ঘটে: গবি উপাচার্য

দেশের ব্যতিক্রমী এক বাতিঘর! যেখানে নেই র‌্যাগিং এর অপসংস্কৃতি। ধুমপানমুক্ত ৩২ এককের শিক্ষাঙ্গন। বছরজুড়ে শিক্ষা, গবেষণা ও সহশিক্ষায় বর্ণিল হয়ে থাকে এই শিক্ষানগরী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে গড়ে উঠেছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গবি প্রতিনিধি মো. রাকিবুল হাসান।

ডেইলি বাংলাদেশ: ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

অধ্যাপক আবুল হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

ডেইলি বাংলাদেশ: ২০২২ সাল শেষ হতে চলেছে। এই বছরটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্তিগুলো কি কি?

অধ্যাপক আবুল হোসেন: সাভারে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও উন্নত ভৌত অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করতেই গড়ে তোলা হয় গবি ক্যাম্পাস। সব বিভাগের সিলেবাস ওবিই এর আদলে প্রণোদিত করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরে থাকা লাল তারকা তুলে নিয়েছে ইউজিসি। এছাড়াও বিবিএ বিভাগেরও অনুমোদন পেয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কি কি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার? আপনার মতামত জানতে চাই।

অধ্যাপক আবুল হোসেন: আমাদের অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতায় এগিয়ে নেওয়া। যাতে তারা জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চেনা মুখ হয়ে উঠতে পারে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন আমাদের শিক্ষকরা। গবেষণা ও খেলাধুলায় বাৎসরিক ৭০ লাখ টাকা খরচ করা হয়। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থীদের ভালো করার সুযোগ রয়েছে।’

আসলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ পুরনো। অনেক শিক্ষার্থীরা পাস করে, দেশ-বিদেশে ভালো পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও সম্ভাবনা বেশি থাকে। সে তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বয়স বেশি দিনের নয়। আমাদের আরো ভালো করার সুযোগ আছে।’

ডেইলি বাংলাদেশ: ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, জনশক্তি রপ্তানি- সব ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। গণ বিশ্ববিদ্যালয় কি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে?

অধ্যাপক আবুল হোসেন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কোনো শিক্ষার্থী বেকার থাকে না। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যার চেয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। আমরা সিট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ইউজিসিতে প্রস্তাবও করেছি। গবিতে সব শিক্ষার্থীদের নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। আগামীকাল কি হবে তা আমরা কেউ জানি না। তেমনি বৈশ্বিক সমস্যা নিয়েও মন্তব্য করা কঠিন।’

ডেইলি বাংলাদেশ: দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কি?

অধ্যাপক আবুল হোসেন: নিশ্চয়ই আছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আয়োজন করা হয় নানা সেমিনার-কর্মশালার। সামনে প্রশিক্ষণের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ: বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন-২০২২ এ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য সম্পর্কে আপনার মুখ থেকে জানতে চাই।

অধ্যাপক আবুল হোসেন: বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়ন-২০২২ ফুটবল ইভেন্টে (নারী) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। এই টুর্নামেন্টে মোট ছয়টি ইভেন্টে স্বর্ণ পদক তুলে নিয়েছে। খেলোয়াড়দের নিয়ে বিজয় উল্লাস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। দ্রুত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করা হবে। এতে মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীসহ ট্রাস্টিরা আসবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ: ২০২৩ সালের পরিকল্পনা কী?

অধ্যাপক আবুল হোসেন: এরই মধ্যেই চালু হয়েছে ইন্ট্রিগেশন এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। যার আওতায় ৬ মাসের মধ্যে ডিজিটাল ও অনলাইনে সেবা নিতে পারবেন সবাই। এরই মধ্যে কয়েকটি বিভাগে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদানও চলছে।

শিক্ষার্থীদের উন্নত ভৌত অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিতে আবাসিক হল, মুক্তমঞ্চ, সুইমিংপুল ও হাইটেক ক্যান্টিন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যতিক্রমী ধারাবাহিকতায় এবার উন্মোচন হবে এগ্রিকালচার, ফিসারিজ ও এলএলএম প্রোগ্রাম, যা বেসরকারি শিক্ষাঙ্গনে অনন্য।

আসলে ছাত্র-শিক্ষক, শিক্ষক-প্রশাসন, ছাত্র-প্রশাসন সবাইকে নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়। সবার সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ঘটে।’

ডেইলি বাংলাদেশ: এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

অধ্যাপক আবুল হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]