রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব এইডস দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

বিশ্ব এইডস দিবস আজ

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সব দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সব দিবসগুলোর মধ্যে একটি হলো বিশ্ব এইডস দিবস।

০১ ডিসেম্বর, আজ বিশ্ব এইডস দিবস। এই দিবসটি হলো একটি আন্তর্জাতিক দিবস। প্রতিবছর এই দিবসটির একটি প্রতিপাদ্য থাকে। এই বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে -‘অসমতা দূর করি, এইডস মুক্ত বিশ্ব গড়ি’।

১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ০১ ডিসেম্বর দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। এইচআইভি সংক্রমণের জন্য এইডস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং যারা এই রোগে মারা গেছেন তাদের প্রতি শোক পালন করতে এই দিনটিকে বেছে নেয়া হয়েছে।

সরকারী ও স্বাস্থ্য আধিকারিকগণ, বেসরকারী সংস্থাগুলো এবং বিশ্বে বিভিন্ন ব্যক্তি, এইডস প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে এই দিনটি পালন করে।

বিশ্ব এইডস দিবসটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দ্বারা চিহ্নিত, বিশ্ব জনস্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে ঘোষিত, আটটি বিশেষ দিনের মধ্যে একটি, বাকি সাতটি দিন হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, বিশ্ব টিকা দিবস, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস এবং বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এইডস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন। এরমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক লোক ৩৬ দশমিক ২ মিলিয়ন। মোট আক্রান্তের ১৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন নারী এবং ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন শিশু।

শুধু ২০১৮ সালে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক দশমিক সাত মিলিয়ন, যার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক এক দশমিক ছয় মিলিয়ন। এ সময়ে এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সাত লাখ ৯০ হাজার মানুষের। যার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ছয় লাখ ৭০ হাজার এবং শিশু এক লাখ।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এসব রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ছয় হাজার ৬০৬ জন।

ইউএনএইডস এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইডস আক্রান্ত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ মরণঘাতি রোগে মৃত্যুবরণ করেছে। এর ফলে এটি নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম জনস্বাস্থ্য বিষয় হিসেবে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বের অনেক অঞ্চলে সাম্প্রতিক উন্নত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পৌঁছোনোর ফলে, ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যায় মৃত্যুর পর এইডস মহামারি থেকে মৃত্যুর হার কমেছে (২০১৬ সালে এক মিলিয়ন, যেখানে ২০০৫ সালে ছিল ১.৯ মিলিয়ন)।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির দুজন জনতথ্য কর্মকর্তা জেমস ডব্লু বুন এবং টমাস নেটটার দ্বারা ১৯৮৭ সালের আগস্টে প্রথম বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির (বর্তমানে আনএইডস নামে পরিচিত) পরিচালক ড. জোনাথন মানের কাছে বুন এবং নেটটার তাদের ধারণাটির কথা জানিয়েছিলেন।

ড. মান এই ধারণাটি পছন্দ করে এটির অনুমোদন করেন এবং ১৯৮৮ সালের ০১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবসটি প্রথম পালন করা উচিত এমন পরামর্শের সঙ্গে একমতো হন। সান ফ্রান্সিসকোর প্রাক্তন টেলিভিশন সম্প্রচার সাংবাদিক বুন, ০১ ডিসেম্বর তারিখটির সুপারিশ করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল মার্কিন নির্বাচনের যথেষ্ট পরে কিন্তু বড়দিনের ছুটির আগে, পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি দ্বারা বিশ্ব এইডস দিবসের প্রচার সর্বাধিক হবে।

এর প্রথম দুই বছরে, বিশ্ব এইডস দিবসের প্রতিপাদ্য শিশু এবং তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল। এই প্রতিপাদ্যটি বেছে নেয়ার সময়, কিছু ঘটনা উপেক্ষা করার কারণে এর সমালোচনা করে বলা হয়েছিল যে সব বয়সের লোকেরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে, প্রতিপাদ্যটি রোগটিকে ঘিরে থাকা কিছু কালিমা মোচন করতে এবং পারিবারিক রোগ হিসেবে সমস্যাটির স্বীকৃতি বাড়াতে সহায়তা করেছিল।

১৯৯৬ সালে এইচআইভি / যৌথ জাতিসংঘের এইডস সম্পর্কিত কর্মসূচি (ইউএনএআইডিএস) চালু হয়েছিল, এটি বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা ও প্রচারের দায়িত্ব অধিগ্রহণ করে। শুধু একটি দিনে মনোযোগ না দিয়ে, আনএইডস ১৯৯৭ সালে বছরব্যাপী যোগাযোগ, প্রতিরোধ ও শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্ব এইডস অভিযান তৈরি করেছিল। ২০০৪ সালে, বিশ্ব এইডস প্রচার, একটি স্বাধীন সংগঠনে পরিণত হয়েছিল।

প্রতি বছর, পোপ জন পল দ্বিতীয় এবং দ্বাদশ বেনেডিক্ট বিশ্ব এইডস দিবসে রোগী এবং চিকিৎসকদের জন্য একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেন।

২০১৬ সালে, এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কিত এনজিওগুলো (প্যানেজিয়া গ্লোবাল এইডস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এইডস এবং অধিকার জোট সহ) বিশ্ব এইডস দিবসটিকে বিশ্ব এইচআইভি দিবসের নামে করার জন্য একটি প্রচার কার্য শুরু করেছিল। তারা দাবি করে যে এই পরিবর্তন সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো, এবং প্রি এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (ব্যাধির আক্রমণ হবার আগে চিকিৎসা) এর মতো চিকিৎসার অগ্রগতির ওপর জোর দেবে।

২০০৭ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, হোয়াইট হাউস ভবনের উত্তরের বারান্দায়, ২৮ ফুট (৮.৫ মি) লম্বা এইডস ফিতা সাজিয়ে, বিশ্ব এইডস দিবসকে চিহ্নিত করা শুরু করে। সেই সময়, রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী হোয়াইট হাউসের সহযোগী স্টিভেন এম লেভাইন, বিশ্ব এইডস মহামারী মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত পিইপিএফএআর প্রোগ্রামের প্রতীকের মাধ্যমে প্রদর্শনের প্রস্তাব করেছিলেন। হোয়াইট হাউস প্রদর্শন, যেটি এখন পরপর চারজন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনেই একটি বার্ষিক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, দ্রুত সম্মতি জারি করে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(217 বার পঠিত)
(194 বার পঠিত)
advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]