বুধবার ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে দেশে যেভাবে বড় দিন পালন করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

দেশে দেশে যেভাবে বড় দিন পালন করা হয়

প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস ডে বা শুভ বড়দিন পালিত। এ উপলক্ষে সারা বিশ্বের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে দিনটি উদ্‌যাপন করেন।

খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। তিনি এই দিনে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরের এক গোয়ালঘরে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করার জন্য যিশুখ্রিষ্ট জন্ম নিয়েছিলেন।

জেনে নিন কোন দেশে কীভাবে পালন করা হয় বড়দিন-

পর্তুগাল: পর্তুগালে বড়দিন পালনের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিসমাস ফাদারের উপহার। বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যায় অর্থাৎ ক্রিসমাস ইভ-এ ট্রির নিচে বা চিমনির সামনে ঝোলানো মোজার মধ্যে ফাদার উপহার দিয়ে যান। আর ক্রিসমাস ইভ-এ মাঝরাতে সিদ্ধ আলু আর নোনতা শুকনা কড মাছ দিয়ে তারা ভোজ করে থাকে।

বাংলাদেশ: বাংলাদেশে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয় পাইন গাছ দিয়ে কিন্তু আমাদের দেশে ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে ব্যাবহার করা হয় ঝাউ গাছ। আবার ক্রিসমাসের কেকে পাশাপাশি থাকে বাঙালিয়ানা খাবার, পিঠা-পুলি। তার মধ্যে থাকে ভাটিয়ালী গান, কীর্তন, এমনকি রবীন্দ্রসঙ্গীতও গাওয়া হয়ে থাকে। ১৬ শতকে পর্তুগিজরা বাংলাদেশে খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আসেন। এ দেশে প্রথম গির্জাটি তৈরি হয় ১৫৯৯ সালে পুরাতন যশোরের কালীগঞ্জের কাছে সুন্দরবন এলাকায়। ২৫ ডিসেম্বর তৈরি করা হয় মজার মজার খাবার। গির্জায় গির্জায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

ভারত: ভারতে খুব ঘটা করে বড়দিন পালন করেন খ্রিষ্টানরা। ক্রিসমাস ট্রি সাজায় আমগাছ ও কলাগাছ দিয়ে। এ দিনে দক্ষিণ ভারতে- তামিলনাড়ু, কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ঘরে ছোট প্রদীপ জ্বালায়। তবে দেশটির শহরের খ্রিষ্টানরা আবার পশ্চিমাদের মতোই বড়দিন উদযাপন করেন।

আমেরিকা: ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আমেরিকান বাচ্চারা ক্রিসমাস ট্রির নিচে সুন্দর স্টকিংস ঝুলিয়ে রাখে। যেখানে সান্তা উপহার রেখে যান। সকালে ওঠে উপহার পাবার লোভে তারা জলদি ঘুমাতে চলে যায়। আমেরিকারন শিশুরা বিশ্বাস করে, সান্তা ৬টি রেইন ডিয়ারে গাড়িতে চড়ে বিশাল ঝোলাভর্তি চকোলেট, ক্যান্ডি আর উপহার নিয়ে এসে তাদের স্টকিং আর ক্রিসমাস ট্রির নিচে রেখে যাবেন।

ইতালি: ইতালির বাচ্চারা বড়দিনে রাখাল সেজে পাইপ বাজিয়ে বাজিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বড়দিনের গান গায়, এবং ছড়া কাটে। বিনিময়ে সব বাড়ি থেকে তাদেরকে টাকা দেওয়া হয়। আর সেই টাকা দিয়ে ওরা বড়দিনের উপহার কেনে।

রাশিয়া: রাশিয়ায় ক্রিসমাস আর নববর্ষ একসঙ্গে পালন করা হয়। রাশিয়ানরা ক্রিসমাস ট্রি’কে ডাকে ইয়োল্কা নামে। আর তারা ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে পাইন গাছের বদলে বেশিরভাগ সময়েই ব্যবহার করে স্প্রাস গাছ।পৃথিবীর সব দেশে ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস পালন করা হলেও রাশিয়ায় কিন্তু তা পালিত হয় ৭ জানুয়ারি। কেউ চাইলে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন পালন করতে পারে। তবে সেখানে সবাই ৭ জানুয়ারিই বড়দিন পালন করে থাকে।

বেলজিয়াম: বেলজিয়ামে ৬ ডিসেম্বর ‘সিন্টারক্লজ বা সেইন্ট নিকোলাস’ নামে অনুষ্ঠান হয়। এটি ক্রিসমাস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন আয়োজন। সান্তাক্লজকে বেলজিয়ামে বলা হয় ‘কেরস্টম্যান’বা ‘লি পেরে নোয়েল’। এ দিনে সান্তা ছোটদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন।

ব্রাজিল: ব্রাজিলে সান্তা ক্লজকে পাপাই নোয়েল বলে ডাকা হয়। এদের আচার-অনুষ্ঠান অনেকটাই আমেরিকার সঙ্গে মিলে যায়। ব্রাজিলে যারা একটু বেশি ধনী, তারা ক্রিসমাসে খাবারের তালিকায় মুরগি, টার্কিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু পদ রাখেন। এছাড়া চকোলেট আর কনডেন্সড মিল্কের মিশ্রণে তৈরি মিষ্টিও থাকে। এর নাম ব্রিগেডেইরো। ব্রাজিলের সব বাসিন্দাই বড়দিন উপলক্ষে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে থাকে।

জার্মানি: জার্মানরা বড়দিন উপলক্ষে তাদের ঘর সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলেন। জার্মানিতে ঘর সাজানোর জন্য খুবই সুন্দর জিনিস ব্যবহার করা হয়। তারা তাদের জানালায় কাঠের ফ্রেমে ইলেক্ট্রিক মোমবাতি জ্বালিয়ে তার সামনে কাগজ বা প্লাস্টিকের রঙ-বেরঙের ছবি টানিয়ে দেয়, যা রাতের বেলা বাইরে থেকে দেখতে মনোরম লাগে।

ফ্রান্স: ফ্রান্সে ক্রিসমাসকে বলা হয় নোয়েল। সান্তা ক্লজকে বলা হয় পেরি নোয়েল। ফ্রান্সের সবাই ক্রিসমাস ট্রিকে পুরনো ধাঁচের সাজে সাজাতেই ভালোবাসে। এই দিন তারা ট্রির ওপরে লাল রঙের রিবন মুড়িয়ে তার সঙ্গে সাদা মোমবাতি দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজায়।

নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডে বড়দিনটি শুরু হয় ক্রিসমাস ট্রির নিচে রাখা উপহারের প্যাকেট খোলা দিয়ে। এরপর ক্রিসমাসের দুপুরের খাবার পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেয়ে থাকে। টার্কি আর মুরগির মাংস দিয়েই চলে খাবার পর্ব। এরপর শুরু হয় চা পানের আসর। আর রাতে পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে চলে বারবিকিউ পার্টি।

সুইডেন: সুইডেনে বড়দিন আয়োজনে অন্যতম দিন হলো ক্রিসমাস ইভ। সুইডেনবাসীরা একে অপরকে উপহার দিয়ে আর শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্রিসমাস উদযাপন করে থাকে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]