রবিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গোমতীর তীরে বাড়ছে হলুদ চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট

গোমতীর তীরে বাড়ছে হলুদ চাষ

কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে। মুনাফা বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষক হলুদ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। এখানকার মাটিও হলুদ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই সরিষার হলদে হাসির সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে হলুদের হলুদ হাসি।

কুমিল্লার দিগন্ত বিস্তৃত গোমতী নদীর চর। গেলো চৈত্র মাসে চরের জমিতে বপণ করা হয়েছিলো হলুদ। ফল পরিপক্ক হয়ে গাছের পাতা শুকিয়ে গেছে। এখন জমি থেকে সেই হলুদ সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। চরের জমি থেকে সংগ্রহ করা হলুদ রোদে শুকাতে দিয়েছেন কৃষকরা।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার সীমান্তে গোমতীর চরে হলুদ চাষ করেছেন ইউনুস মিয়া। গত ২০ বছর ধরে অল্প জমিতে হলুদ চাষ করেন তিনি। ছেলে ওয়াসিম উদ্দিন প্রবাসী। তিনিও দেশে এসে বাবার সঙ্গে কৃষি কাজে সহযোগিতা করেন।

ওয়াসিম জানান, তার বাবা এ বছর ৩৬ শতক জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। ওই জমিটা অনাবাদি থাকতো। বড় বড় ঘাস জন্মেছিলো। ঝোপঝাড়ও ছিলো। এখন সেখানে হলুদ চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে।

চাষি ইউনুস মিয়া বলেন, কাঁচা হলুদ স্বাস্থ্যর জন্য উপকারি। কাঁচা হলুদ খুচরা প্রতিকেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করি। শুকানোর পর মেশিনে ভাঙিয়ে আড়াইশ টাকা বিক্রি করি। এ বছর ৩৬ শতক জমিতে হলুদ চাষে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আশা করছি, সব ব্যয় বাদে অন্তত ৪৫ হাজার টাকা মুনাফা হবে।

গোমতীর নদীর চরের টিক্কারচর ব্রিজের পাশে পরিত্যক্ত ১৫ শতক জমিতে হলুদ চাষ করেছেন আবাদ হোসেন। তিনি বলেন, ১৫ শতক জমি খালি পড়ে থাকতো। ৯ মাস আগে হলুদ লাগাইছি। এবারই প্রথম। মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। এখন হলুদ সংগ্রহ করছি। আগামী বছর আরো বেশী জমিতে হলুদ চাষ করবো।

বুড়িচং উপজেলার গোমতীর চরের ভান্তি এলাকায় হোসেন মিয়া পরিত্যক্ত ১০ শতক জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। হোসেন মিয়া বলেন, ১০ শতক জমিতে হলুদ চাষে খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। শুকানোর পরে অন্তত ২৫ কেজি গুড়া হলুদ পাবো। আড়াইশ টাকা করে কেজি বিক্রি করবো। খরচ উঠে যাবে। আর যা থাকবে তা দিয়ে সারা বছরের ঘরের চাহিদা মিটবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কুমিল্লায় ১৪০ হেক্টর জমতি হলুদ চাষ হয়েছে। এছাড়া আদা চাষ হয়েছে ১৯৩ হেক্টর জমিতে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, যে কোনো পরিত্যক্ত জমিতে আদা ও হলুদ চাষ করা যায়। এই দুইটা ফসল খুব মূল্যবান। তবে যেসব জমি পরিত্যক্ত থাকে, ঘন ঝোপ জঙ্গল আছে সেসব জমিতে হলুদ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। পারিবারিক পুষ্টি বাগানের মত হলুদ চাষে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। আগ্রহী কৃষকদের হলুদ চাষে সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]