রবিবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চীনে ধনকুবের গায়েব হয়ে যাওয়া থামছেই না

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ০৯ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট

চীনে ধনকুবের গায়েব হয়ে যাওয়া থামছেই না

চীনের প্রযুক্তি শিল্পের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত ধনকুবের বাও ফ্যান গত মাস থেকে নিখোঁজ আছেন এবং তার এই হারিয়ে যাওয়া চীনের সাম্প্রতিক একটি প্রবণতার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছে। আর তা হলো—ধনকুবেরদের গায়েব হয়ে যাওয়া।

চায়না রেনেসাঁ হোল্ডিংসের প্রতিষ্ঠাতা বাও ফ্যান। এর ক্লায়েন্ট তালিকায় আছে ইন্টারনেট জায়ান্ট—টেনসেন্ট, আলীবাবা ও বাইদু। তাকে চীনের প্রযুক্তি খাতের একজন টাইটান বা বিশাল ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হয়। তার গায়েব হওয়ার পদ্ধতিটা অবশ্য দেশটিতে সুপরিচিত। যখন তার কম্পানি ঘোষণা করল, তারা চীন কর্তৃপক্ষের একটি তদন্তে সহায়তা করছে, তার আগে তিনি নিখোঁজ হন।

ওই তদন্ত বা বাওয়ের অবস্থান নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ একটি শব্দও উল্লেখ করেনি। এটাও দেশটিতে একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে, এমন ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য থাকে না।

বাওয়ের নিখোঁজ হওয়া রহস্য তৈরি করেছে, কারণ গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার নিখোঁজ হওয়ার ধারাবাহিকতাতেই এটি ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছেন আলীবাবা বস জ্যাক মা।

আর যখন এ ধরণের ধনকুবেরদের গায়েব হওয়া নিয়ে বেশি আলোচনা হয় তখন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে যারা সরকারবিরোধী বা মানবাধিকার কর্মী তাদের বিষয়টি। তবে তার গায়েব হয়ে যাওয়া আরো একবার একটি দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই নজর ফেলছে। আর তা হলো দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এভাবেই চীনের অর্থনীতির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ শক্ত করতে চাইছেন।

এটা চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনের সময়। যদিও এটিকে রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সেখানেই পরিকল্পনা করা হয়েছে চীনের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে বড় ধরণের সংস্কার আনার বিষয়ে। একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে বেশিরভাগ আর্থিক খাত দেখভালের জন্য। এখন অনেকগুলো সংস্থার কারণে কিছু ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে এবং নতুন সংস্থাটি সেগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশটির কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালেই অন্তত পাঁচজন নির্বাহী ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে শিল্পগোষ্ঠী ফসুন ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান জু গুয়াংচ্যাঙও ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনের মালিক হিসেবে পশ্চিমাদের কাছে পরিচিত। সে বছরের ডিসেম্বরে তার নিখোঁজের পর তার কম্পানি বলেছিল, তারা কর্তৃপক্ষের একটি তদন্তে সহায়তা করছে।

এর দুই বছর পর চীনা-কানাডিয়ান ব্যবসায়ী জিয়াও জিয়ারহুয়াকে হংকংয়ে একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে তুলে নেওয়া হয়। তিনি চীনের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। গত বছর দুর্নীতির দায়ে তার জেল হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে প্রেসিডেন্টকে ক্লাউন বলার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন রিয়েল এস্টেট টাইকুন রেন ঝিকিয়াং। পরে একদিনের বিচারে দুর্নীতির অভিযোগে রেনকে ১৮ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে।

তবে সবচেয়ে আলোচিত গায়েব হওয়ার ঘটনা হলো আলীবাবার জ্যাক মার ঘটনা। ওই সময়ের চীনের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি চীন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছিলেন। দেশটির কমন প্রসপারিটি ফান্ডে ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়া ছাড়া প্রায় দুই বছর তাকে দেখা যায়নি। যদিও তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

জ্যাকের অবস্থান এখনো পরিষ্কার। যদিও মাঝে মধ্যে তিনি জাপানে, থাইল্যান্ডে বা অস্ট্রেলিয়ায় বলে খবর বেরিয়েছিল। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এসব ব্যবস্থাকে দেশটির ধনী ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু আইনি ব্যবস্থা হিসেবে দেখাতে চেয়েছে, যার উদ্দেশ্য দুর্নীতি দূর করা। এটা তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে যারা তাদের সম্পদ ও অন্য কারণে যথেষ্ট ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিলেন। এখন এই ক্ষমতাই চীন সরকার ফেরত নিতে চাইছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন।

এর আগে বেইজিংয়ের মূল দৃষ্টি ছিলো মূলত সামরিক, ভারী শিল্প ও স্থানীয় সরকারের ওপর। শি এখন তার নজর বড় করছেন অর্থনীতির আরো খাত তার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য। তার কমন প্রসপারিটি পলিসিকে দেখা হয়েছে অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের অভিযান হিসেবেই।

দ্যা ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নিক মারো বলেছেন, ‘মাঝে মধ্যে এসব ঘটনা একটি বড় বার্তা দেয়, বিশেষ সুনির্দিষ্ট শিল্প বা ইন্টারেস্ট গ্রুপকে।’ তবে দিন শেষ এগুলো অর্থনীতির একটি অংশের ওপর সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ মার্চ ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(198 বার পঠিত)
(189 বার পঠিত)
advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]