মঙ্গলবার ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট

ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি

বছর ঘুরে আসলো মুসলমানদের পবিত্র রমজান। আর এই রমজানে প্রধান আকর্ষণ ইফতার। ইফতারের মূল অনুষঙ্গ মুড়ি। মুড়ি ছাড়া চলেনা ইফতরের পরিপূর্ণতা। তাই লক্ষ্মীপুরে মুড়ির চাহিদা বেড়েছে। ব্যস্ততা বেড়েছে মুড়ি তৈরি কারিগরদের।

একই সঙ্গে ধুম পড়েছে মুড়ি বেচাকেনা। লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের সমসেরবাদ এলাকায় প্রায় ৫০টি পরিবার মুড়ি তৈরি করে। বিগত দিনের চেয়ে এ সময় আসলেই চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি।

লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবার হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি তারা শুধু ধরেই রাখেননি বিশ্ববাজারেও পৌঁছে দিচ্ছে সুস্বাদু এ মুড়ি।

লক্ষ্মীপুরের হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি নামে দেশ বিদেশে তৈরি করেছে বিশেষ একটি ব্র্যান্ড। সারাদেশসহ বিদেশের কিছু রাষ্ট্রে অনিয়মিত ভাবেও রফতানি হচ্ছে লক্ষ্মীপুরের গিগজ মুড়ি। জেলায় বছরে উৎপাদন হচ্ছে পাঁচশতাধিক টন মুড়ি।

সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, হাতে তৈরি গিগজ মুড়ি ও ধান ক্রয় বিক্রয়ের জন্য তৈরি হয়েছে ভিন্ন আড়ত ও হাট। বর্তমানে কেজিপ্রতি মুড়ি বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের পৌরসভার সমসেরাবাদ, উত্তর মজুপুর, বেঁড়িরমাথা, কমলনগর উপজেলার করুণানগর, দক্ষিণ গ্রাম, উত্তর গ্রাম, চর জালিয়া, রামগতি উপজেলার চর ডাক্তার এবং রঘুনাথপুর হাতে ভাজা গিগজ মুড়ির জন্য বিখ্যাত। এ ৮টি গ্রামের শতাধিক পরিবারের হাজার মানুষের প্রধান জীবিকা হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি। ওই পরিবারদের প্রত্যেক সদস্যই রাতদিনের বেশির ভাগ সময় গিগজ ধান সিদ্ধ করা, শুকানো, চাল ভাঙানো, মুড়ি ভাজা, আড়ত কিংবা দোকানে গিয়ে মুড়ি বিক্রি ও ধান ক্রয়ের মতো কাজের সঙ্গে জড়িত।

উৎপাদনকারীরা জানান, হাতে ভাজা মুড়িতে লবণ পানি ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ দেয়া যায় না, লাকড়ী ছাড়া গ্যাসের আগুনেও এ মুড়ি ভাজা যায় না। বাজারে পাওয়া কোনো চাউলেও এ মুড়ি তৈরি করা যায় না।

উৎপাদনকারীরা জানান, মুড়ি ভাজার লোকদের প্রধান সমস্যা পুঁজির অভাবে বছরের শুরুতে ধান মজুদ করতে না পারা। সেজন্য এ কুটির শিল্প বেঁচে রাখতে তারা আড়ৎদার এবং এনজিও ঋণে আবদ্ধ থাকে। স্বল্প সুদে কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পায় না তারা। অন্যদিকে বৃষ্টির সময় মুড়ির ধান শুকাতে তাদের বড় কষ্ট। বৃষ্টির সময় মুড়ির ধান শুকানোর জন্য সরকারি সহায়তায় এয়ার ড্রাইয়ার পেতে চেয়েছেন, উৎপাদনকারীরা।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার গিগজ মুড়ি।

কলেজ শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন জানান, রমজানের ইফতারে মুড়ি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। মেশিনের তৈরি মুড়ির চাল মেশিনে তৈরি করা হয়। ভাজার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজ এবং ইউরিয়া সার মিশ্রিত করা হয়। কিন্তু হাতে ভাজা মুড়িতে সে রকম কিছু মেশানো সম্ভব হয় না। সে কারণে গিগজ মুড়ি শতভাগ নিরাপদ এবং ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক। শীতের সময় এবং বাসাবাড়ি ও অফিস আদালতে সকাল-সন্ধ্যার কমন নাস্তা মুড়ি খুবই জনপ্রিয় একটি খাদ্য।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]