মঙ্গলবার ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট

শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় এ বছর বি-২৮ জাতের বোরোতে বেশি ফলনের ভরসা রাখা কৃষকদের ঘিরে ধরেছে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ।

স্থানীয় কৃষি অধিদফতর জানায়, ব্লাস্ট রোগের প্রধান কারণ হলো আবহাওয়াজনিত তারতম্য। বিশেষ করে দিনে তাপমাত্রা বেশি আর রাতে ঠান্ডা থাকায় এ রোগের সৃষ্টি। এ রোগ অতীতেও ছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হলে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতো।

এ রোগ সাধারণত বি-২৮ জাতীয় ধানে বেশিরভাগ আক্রমণ করে। এ-জাতীয় ধান দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে থাকায় প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাওয়ার কারণে অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগে এ রোগ সহজে আক্রমণ করে।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে কেন্দুয়া উপজেলায় ২০ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। অন্য জাতের ফলন ভালো হলেও ব্রি-২৮ জাতের ক্ষেতে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। এতে অধিকাংশ জমির ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। আক্রান্ত জমিতে শীষ থাকলেও তাতে নেই চাল।

কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির আলম ভূঞা বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন হাওর এলাকা। এ এলাকায় যারাই এবার ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন, তাদের সবার ফসলই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এছাড়া উপজেলার বহু ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্বরায় গ্রামের কৃষক খোকন, ছিলিমপুর গ্রামের কৃষক রুবেল জানান, যারাই আগাম জাতের ব্রি-২৮ ধান আবাদ করেছেন, তাদের সবার ক্ষেতেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন একমাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল উপজেলার কৃষকরা।

গত সপ্তাহে ব্লাস্ট রোগ দমনে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বোরো ধান ফসলের ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগ দমনে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তারিক আজিজকে আহবায়ক ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি স্কোয়াড গঠন করা হয়। এই স্কোয়াডের সদস্যরা আক্রান্ত এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে কৃষকদের মাঝে ব্লাস্ট রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করছেন এবং ব্লাস্ট রোগ দমনে কী কী করণীয় সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ করছেন।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ম্যাগ্নাপারথি গ্রিসা নামক ছত্রাক দ্বারা ধানের ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে। উপজেলার হাওর ইউনিয়ন বিশেষ করে মোজাফফরপুর এবং চিরাং ইউনিয়নে এ ব্লাস্ট রোগের প্রকোপ বেশি। কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত বোরো ক্ষেতে সমস্যা সমাধানে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও ছত্রাক নাশক স্প্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দু’বার করে জমিতে দিতে বলা হয়েছে। এটি আবহাওয়াজনিত রোগ। পাশাপাশি একই ধরনের ধানের আবাদ না করে যেসব জাতের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, তা আবাদের পরামর্শ শুরু থেকেই দিচ্ছি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]