বুধবার ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ কমানোর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট

ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ কমানোর পরামর্শ

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে সঞ্চয়পত্রে বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে এমন পরামর্শ উঠে এসেছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ না কমে আরও বাড়ছে। আর কমছে সঞ্চয়পত্রে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণ বাড়ছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত খাতে কমছে। অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চলমান চাপ বিবেচনায় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে ব্যাংকবহির্ভূত খাতে বাড়ানো দরকার। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের নিট ঋণ ছিল ৩৪ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে ঋণ কমে যায় ৩ হাজার ৬৯ কোটি টাকা।

বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মার্চে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ; আর গড় মূল্যস্ফীতি ঠেকেছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি এমন হলেও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, সানেমসহ বিভিন্ন সংস্থার মতে, মানুষের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেশি। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একবারে ডলারের দর অনেক বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। এ সময়ে টিকে থাকতে অনেকে খাদ্যাভ্যাস বদল করেছেন। কেউ কেউ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন, নতুনভাবে সঞ্চয় করার প্রবণতা কমেছে। ঋণ করে চলছেন অনেকে।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, এমনিতেই এখন মূল্যস্ফীতি বেশি। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে– এটাই বাস্তবতা। এখন আশানুরূপ রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। আবার সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না বেড়ে উল্টো কমছে। এ সময়ে যত কিছু বলা হোক, ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে– এটিই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এমনিতেই এখন ব্যাংকগুলোর হাতে ঋণযোগ্য তহবিল কম। সেখানে এসে সরকার ভাগ বসালে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে সুদহার বাড়ানোর চাপ বাড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ব্যাপকভাবে কমায় অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেড়েছে। তবে ডলার কেনা, বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংকের হাতে এখন সরকারকে ঋণ দেওয়ার মতো তহবিল নেই। যে কারণে সরকারি ঋণ চাহিদার প্রায় সবই সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরবরাহ করছে। এমনিতেই এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি ঋণ দেওয়া মানে মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেওয়া। বিপরীত দিকে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়ানো গেলে মানুষের হাতের টাকা ব্যাংক ব্যবস্থায় চলে আসবে। এ ধরনের প্রবণতা মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণ না কমে আরও বেড়ে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে নিট ৫০ হাজার ৭১১ কোটি টাকা নিয়েছে। জানুয়ারির তুলনায় ঋণ বেড়েছে আরও ১৬ হাজার ১২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ৪৮ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দিয়েছে ১ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থিতি ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ১৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা দিয়েছে অন্য ব্যাংকগুলো। চলতি অর্থবছর ব্যাংক থেকে সরকারের ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে।

অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে মানুষ সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভাঙাচ্ছে বেশি। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে কেউ কেউ মেয়াদপূর্তির আগেই ভাঙিয়ে ফেলছেন। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে মোট ৫৫ হাজার ৮৬২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ভাঙানো হয়েছে ৫৯ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এর মানে সঞ্চয়পত্র কেনার চেয়ে ভাঙানো বেশি হয়েছে ৩ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। এ পরিমাণ কমে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি নেমেছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]