সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ

স্মার্ট দেশ গড়ার প্রত্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০২ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট

স্মার্ট দেশ গড়ার প্রত্যয়

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। জাতিসংঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশি-বিদেশি সম্প্রদায় যখন সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে তৎপর; ডলার সংকট, রিজার্ভ নিম্মমুখী, মূল্যস্ফীতি এবং লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ট; তখন সাংবিধানিক রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ডিজিটাল বাংলাদেশের আরেক ধাপ ওপরে হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। বর্তমানে নানা রকম সংকটের মধ্যেও অর্থমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১-এর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেটের ডিজিটাল উপস্থাপনা প্রদর্শিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এরপর অর্থমন্ত্রী আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। একটি প্রামাণ্য চিত্র আকারে উপস্থাপন করা হয় বাজেট। এতে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর মূল বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশের প্রথম ধাপ হিসেবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে। বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ শতাংশ। বাজেট অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা ১২ টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নতুন বাজেট অনুমোদন করা হয়। সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদনের পরে সংসদ ভবনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নতুন বাজেট সংসদে উপস্থাপনের জন্য সম্মতিসূচক সাক্ষর করেন। সময় বাঁচাতেই এই দিন প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে অফিস করেন। নতুন বাজেটে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় অর্থমন্ত্রীর পরনে ছিল সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি এবং কালো মুজিব কোট। হাতে ছিল লাল ব্রিফকেস। এই ব্রিফকেসে করেই বাজেট বই বহন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটকে ‘সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সোনার বাংলার অভিমুখে যাত্রার প্রথম সোপান আমরা অতিক্রম করেছি। এটি সংকটে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট। বাজেটটা এমনভাবে করা হয়েছে যে, মানুষের কষ্ট লাঘব হবে। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঋণ করে ঘি খাচ্ছে। বাজেটে বড় বড় অঙ্ক দিচ্ছে আর বাংলাদেশের মানুষকে বড় বড় অবকাঠামোর কথা বলছে। বড় বড় অবকাঠামোর মধ্যে বড় বড় চুরি-ডাকাতি ছাড়া তো আমরা কিছু দেখছি না। বড় বড় অবকাঠামোর মধ্যে যে বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে, সে জন্য আজকে ডলার সংকট; ব্যাংকে টাকা নেই, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা স্থায়ী হচ্ছে না।

নির্বাচনের বছরে রাজনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বের নিরিখে অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে ঘাটতি বাজেটে এত খরচের জন্য টাকা কোত্থেকে আসবে? দেশের টালমাটাল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য বাজেট সহায়তার বিনিময়ে আইএমএফ যা চেয়েছে, হয়ত অর্থমন্ত্রীও তা-ই করার চেষ্টা করছেন।

এ অর্থবছরের শ‚ন্য প্রবৃদ্ধির সাপেক্ষে ১৫.৫ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে পুরোদস্তুর ভিন্ন মনে হচ্ছে। মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষ এতে যেমন কষ্টের মুখে পড়বেন, একই সঙ্গে ভোক্তার ব্যয়ের উপরও অনিবার্য প্রভাব ফেলবে।

আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম এখন অনেক বেশি। আর এ সময়ই সরকার ব্যাংকঋণ নিলে (মুডিস ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে ‘ঝুঁকি’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে) মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়বে। সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হবে। ভোটাররাও এতে মনঃক্ষুণœ হবেন। অন্যদিকে দেশের কর্পোরেট সমাজও আইএমএফ-এর ঋণশর্ত এবং ক্রমশ নাজুক হওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির দ্বৈত ধাক্কা টের পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের জিডিপির বেশিরভাগই (৭৪ শতাংশ) তৈরি হয় ভোগ থেকে। ফলে প্রবৃদ্ধির ওপর সরাসরি আঘাত আসবে। তাছাড়া এ ধরনের কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশা জাতীয় নির্বাচনের বছরের জন্য ভালো হয় না।

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত নতুন এই বাজেট হলো বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি পঞ্চম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম। উপস্থাপিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এটি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এক লাখ এক হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বেশি। বাজেটের এই ব্যয় মেটাতে মোট আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৬৭ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। এটা বিশাল ঘাটতির বাজেট।

২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকলেও ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর এটাই আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান ৫ বছরের মেয়াদের শেষ বাজেট। এমন এক সময়ে এই বাজেট ঘোষণা হলো যখন খাদ্য থেকে জ্বালানি ও পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে ইউটিলিটি বিল পর্যন্ত প্রায় সব কিছুরই উচ্চমূল্যে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নি¤œবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্ত এবং সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যপণ্য ক্রয়ই কঠিন হয়ে গেছে। গত মে মাসে বিআইডিএসের এক গবেষণায় বলা হয় রাজধানী ঢাকা শহর দরিদ্রের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীতে বসবাসকারী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৫১ শতাংশই ‘নতুন দরিদ্র’। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের বদলে কর্মহীনের সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এনবিআরের রাজস্ব আদায় চ্যালেঞ্জ হবে। বাড়ানো না গেলে এসব চ্যালেঞ্জ উৎরানো সম্ভব হবে না। রাজস্ব খাতে সংস্কারের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিশেষ করে ব্যালান্স অব পেমেন্ট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। ঋণ ও অগ্রিম পরিশোধ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বিশেষ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন বছরের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। খাদ্য আমদানি বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০২ কোটি টাকা। এডিপির বাইরে বিভিন্ন স্কিম বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। সরকারের মুলধনী ব্যায় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৯ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশের ঘরে রাখা হয়েছে। টাকার অঙ্কে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ (অনুদানসহ) ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণ বাবদ পাওয়া যাবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। সরকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নেবে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেবে ১ লাখ ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে নেবে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে নেবে ৫ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা বেশি বৈদেশিক ঋণ আগামী অর্থবছরে নেওয়া হবে। আর ঋণগ্রস্ত বেশি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বেশি টাকা গুনতে হবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। এছাড়া বাড়ছে সরকারের মূলধনি ব্যয়ও।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এ আয়ের প্রধান উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভ‚ত কর ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। এছাড়া কর ব্যতীত প্রাপ্তি (এনটিআর) আদায়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদান থেকে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বৈদেশিক অনুদান সরকারকে পরিশোধ করতে হয় না। ফলে এ খাত থেকে আয়কে রাজস্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৮৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা।

একনজরে : এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মেঘা প্রকল্পে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ডলার সংকটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকির চাপ সামমলানো এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কৃষি, খাদ্য, নতুন কর্মসংস্থান সৃজন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা।

প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের চ‚ড়ান্ত আকার (ব্যয়) ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা আর আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ৫ দশমিক ২ শতাংশ। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর কর ছাড়া আয় ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং বহির্ভ‚ত আয় ২০ হাজার কোটি টাকা। বৈদেশিক অনুদান থেকে আয় ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বাজেটে মোট ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক অনুদান বাদে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৫৭ লাখ ৮৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট পূরণের সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। আর বিদেশ থেকে ঋণ নিচ্ছে ১ লাখ ২ হাজার হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ নেওয়া হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং অনান্য খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৮৬ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদী ঋণ ৪৫ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সংশোধিত জিডিপির চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির পরিমাণ ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

এদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দেখা যায় এডিপির আকার ধরা হয়েছে লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। আাগামী বাজেটের পরিচালন ব্যয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। খাদ্যে ব্যয় ৫০২ কোটি টাকা এবং ঋণ অগ্রিম বাবদ ব্যয় ৮ হাজার ৪২০ কোটি টাকা।

রেমিট্যান্সের গতি কম : অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দক্ষতার ঘাটতির কারণে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যানুপাতে রেমিট্যান্স আহরণের গতি যতটা প্রতাশা করা হয়েছিল ততটা সন্তোষজনক নয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কর্মীদের প্রাক বহির্গমন অবহিতকরণসহ বিভিন্ন কারিগরি কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রবাসীকর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এমনকি কোভিডকালেও দেশে উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স এসেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে এক কোটি ৪৯ লাখের বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক যুগে মোট ৮১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। গত এক যুগে প্রায় ১০ লাখ নারী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আমরা নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধান করছি। প্রধান গন্তব্যের বাইরে পোল্যান্ড, সেশেলস, আলবেনিয়া, রোমানিয়া, সেøাভেনিয়া, উজবেকিস্তান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কম্বোডিয়া ইত্যাদি দেশেও কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

ইসির নির্বাচনী ব্যয় বৃদ্ধি : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য বাজেট আগের বছরের তুলনায় ৯৮৩ কোটি টাকার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইসির জন্য পরিচালন খাতে দুই হাজার ১২৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ২৮২ কোটি টাকাসহ মোট দুই হাজার ৪০৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছিল মোট এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৭৮৯ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় ৭৪৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার ৮৬৮ কোটি টাকা বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে গত বছর সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে রাখা হয়েছিল ৬৭৪ কোটি টাকা। এতে সংশোধিত মোট বাজেট দাঁড়িয়েছিল এক হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। এদিক থেকে গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৯৮৩ কোটি টাকার মতো এবার বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে।

কার্বন কর : এবার প্রস্তাবিত বাজেটে কার্বন কর যুক্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী একাধিক গাড়ি ব্যবহারকারীদের আগামী অর্থবছর থেকে অতিরিক্ত কার্বন কর দিতে হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ মন্ত্রী বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ও পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক যাত্রীবাহী গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসের মালিকদের গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ টাকা কর দিতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কার্বন কর পাস হলে দেড় হাজার সিসির গাড়ির মালিকদের একই ইঞ্জিনের দ্বিতীয় ও পরের সব গাড়ির জন্য ২৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। দেড় হাজার থেকে ২ হাজার সিসির গাড়ির জন্য এই কর হবে ৫০ হাজার টাকা। ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে এই কর হবে ৭৫ হাজার টাকা। ৩ হাজার সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে ২ লাখ ও সাড়ে ৩ হাজার সিসির গাড়ির ক্ষেত্রে সাড়ে ৩ লাখ টাকা কর দিতে হবে।

জ্বালানিতে শুল্ক আরোপ : জ্বালানি ও কয়লার অভাবে সব ধরনের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং লোডশেডিং হলেও সব ধরনের জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল আমদানিতে প্রতি লিটারে ১৩ দশমিক ৭৫ টাকা করে নতুন শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জ্বালানি যেমন জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, লুব বেইজ অয়েল, কেরোসিনের ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতদিন এসব জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছিল।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমদানি করা পণ্যের যথাযথ মূল্য নির্ধারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্যের ট্যারিফ মূল্য ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে পেট্রোলিয়াম ও এর উপজাত ২টি হেডিংয়ের আওতায় ১২টি এইচএস কোডের বিপরীতে ট্যারিফ মূল্য এবং ১টি হেডিংয়ের আওতায় ১টি এইচ এস কোডের বিপরীতে ন্য‚নতম মূল্য বহাল আছে। উল্লেখ্য, পেট্রোলিয়াম ও এর উপ-জাতগুলোর মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে বলে প্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পাঁচ লাখ কোটি টাকা : আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা প্রাক্কলিত জিডিপির (৫০ লাখ ছয় হাজার ৭৮২ কোটি টাকা) ১০ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উৎস থেকে চার লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটেও অপরিবর্তিত রয়েছে।

১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান : বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ২০ লাখ থেকে বাড়িযে ৩০ লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের অদূরে এক হাজার ১৫০ একর জায়গার ওপর বঙ্গন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরীতে পাঁচ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। মুস্তফা কামাল আরো বলেন, দেশের বেকার জনসংখ্যার জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৮ হাজার পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ লোকের কর্মসংস্থান করবে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান। মন্ত্রী বলেন, শিশু শ্রম নির্মূল এবং নারী শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যক্রম আরো বেগবান করা হবে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৮টি সেক্টরকে শিশুশ্রম মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্যাংক নির্ভরতা বাড়ছে : বাজেটের আয়-ব্যয়ের বিশাল ঘাটতি পূরণে প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে ব্যাংক খাতকে বেছে নিয়েছে সরকার। ফলে এবারও ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই অঙ্ক চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল সরকারের। এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) ছিল ৭৫ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

সর্বজনীন পেনশন চালু হচ্ছে আগামী অর্থবছরেই
২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকেই বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা সম্ভব হবে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা। জাতীয় সংসদে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ পাস হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকেই বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হলে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন সুবিধাভোগী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক একজন সুবিধাভোগী ন্যূনতম ১০ বছর পর্যন্ত চাঁদা প্রদান সাপেক্ষে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এতে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকগরাও অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করলে পেনশনারের নমিনি পেনশনারের ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্য হবেন। তিনি বলেন, চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বছরের চাঁদা প্রদান করার আগেই মৃত্যুবরণ করলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে। চাঁদাদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসাবে উত্তোলন করা যাবে। পেনশনের জন্য নির্ধারিত চাঁদা বিনিয়োগ হিসাবে গণ্য হবে এবং এর বিপরীতে কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া, মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আয়কর মুক্ত থাকবে। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, শিগগিরই একটি পেনশন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এ কর্তৃপক্ষকে কার্যকর করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। গত দেড় দশকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ এর লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তাপ্রসূত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের উদ্যোগসমূহ কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে। স্বপ্নের সে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে চারটি মূল স্তম্ভÑ স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি ও স্মার্ট ইকোনমির ওপর ভিত্তি করে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ মাথাপিছু আয় হবে কমপক্ষে ১২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার; দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকবে তিন শতাংশের কম মানুষ, আর চরম দারিদ্র্য নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়; মূল্যস্ফীতি সীমিত থাকবে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে; বাজেট ঘাটতি থাকবে জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে; রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত হবে ২০ শতাংশের ওপরে; বিনিয়োগ হবে জিডিপির ৪০ শতাংশ। শতভাগ ডিজিটাল অর্থনীতি আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্বাক্ষরতা অর্জিত হবে। সকলের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাবে। স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেকসই নগরায়নসহ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সকল সেবা থাকবে হাতের নাগালে। তৈরি হবে পেপারলেস ও ক্যাশলেস সোসাইটি। সবচেয়ে বড় কথা, স্মার্ট বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জুন ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]