
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৩ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি টিলাভূমি সমৃদ্ধ লালমাটি হওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁঠালের চাষ বেশি হয়। এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৮৫৭ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকার কাঁঠাল।
জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পূর্ব এবং দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী লাল পাহাড়ি মাটিতে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। মধু মাসে জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুড়রপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল ও কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমুদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর এলাকার প্রতিটি জনপদসহ বাগানগুলোতে ঝুলে আছে ছোট-বড় কাঁঠাল আর কাঁঠাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি, রোগবালাই থেকে মুক্ত হওয়ায় পরিপক্ব অবস্থায় বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারজাত করা হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, রসালো মিষ্টি হওয়ায় বাজারে পাহাড়ি টিলাভূমির কাঁঠালের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে পাইকাররা প্রতি একশ পিস কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বাগান থেকে কিনে নিচ্ছেন। এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকরা। এসব বাগান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল কিনে বিভিন্ন যানবাহনে করে নিয়ে যায়।
বাগান মালিক আবুল হাসান বলেন, কাঁঠাল আমাদের এলাকায় এবার ভালো হয়েছে। প্রতি দিনই ১০০ থেকে ২০০ কাঁঠাল কাটা হয়। প্রতি একশ কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই কাঁঠাল নিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা আসেন। তারা এসব কাঁঠাল বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। এ বছর কাঁঠালের ফলন ভালো হওয়ার আমরা লাভবান হবো বলে আশা করছি।
আলামিন নামে আরেক বাগান মালিক বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর কাঁঠালের ফলন ভালো হয়েছে। আকারে দেখতেও বেশ সুন্দর হয়েছে। মাস খানেক আগে বেচা-কেনা শুরু হয়েছে, চলবে আগামী তিনমাস পর্যন্ত।
বাগান মালিক মো. ফারুক বলেন, আমরা আগেই কাঁঠাল বাগান কিনে রেখেছিলাম। প্রতি একশ কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনে ছিলাম। এখন কাঁঠাল পরিপক্ক হওয়ার পাইকাররা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে আসতেছে। পাইকারদের কাছে একশ কাঁঠাল বিক্রি করছি ৮-১০ হাজার টাকা দরে।
বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসা তারু মিয়া বলেন, অন্যান্য এলাকা থেকে আমাদের বিজয়নগরের কাঁঠাল সবারই পছন্দের। এই সব এলাকার কাঁঠাল মানুষ কিনে বেশি। আমিও এসেছি কাঁঠাল কিনার জন্য। দামও মোটামোটি হাতের নাগালে বলা যায়।
আরেক ক্রেতা লোকমান মিয়া বলেন, আমাদের পূর্বাঞ্চলের মাটির গুণাগুন ভালো হওয়ার এই অঞ্চলের কাঁঠাল খুব মিষ্টি হয়। সেজন্য আমরা এই এলাকার কাঁঠাল বেশি পছন্দ করি। বাজারে কাঁঠালের দামও কম, সেজন্য কিনতে আসলাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৮৫৭ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলাতে প্রায় ১২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করা হবে। জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলা পাহাড়ি টিলাভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটি হওয়ায় সেখানে কাঁঠাল বেশি ভালো হয়। সেজন্য আমাদের এই অঞ্চলে কাঁঠালের আবাদ প্রতি বছরই বাড়ছে।
Posted ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৩ জুন ২০২৩
ajkerograbani.com | Salah Uddin