সোমবার ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিবস্ত্র করে নির্যাতন, মুখে কাপড় বেঁধে শরীরে ছেড়ে দেওয়া হয় পিঁপড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৯ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট

বিবস্ত্র করে নির্যাতন, মুখে কাপড় বেঁধে শরীরে ছেড়ে দেওয়া হয় পিঁপড়া

বুধবার তখন সন্ধ্যা। ওই সময় পুলিশ পরিচয়ে সুমনকে তুলে নিয়ে যান। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে গাছের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে তার মোবাইল থেকেই ইউপি মেম্বার আবদুর রহিমকে কল দেওয়া হয়। ফোন পেয়ে ওই মেম্বার ঘটনাস্থলে আসেন। এরপরই সুমনকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে মুখে কাপড় বেঁধে তার শরীরে ছেড়ে দেওয়া হয় পিঁপড়া। এ সময় পানি চাইলে মুখে কাঁদা ও লতাপাতা ঢুকিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চরসীতা গ্রামের ভুলুয়া নদীর পাশে। পরে খবর পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে থানায় অপহরণ মামলা করেছেন সুমনের ভাই আবদুল মাজেদ রাজিব। মামলায় ইউপি মেম্বার আবদুর রহিমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। ভুক্তভোগী সুমন পূর্বচরসীতা গ্রামের বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে। পেশায় তিনি গাছ ব্যবসায়ী।

পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সুমনদের এলাকা পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় দুটি অটোরিকশায় কয়েকজন লোক আসেন। একপর্যায়ে মামলা আছে বলে তারা পুলিশ পরিচয়ে সুমনকে তুলে নিয়ে যান। পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভুলুয়া নদীর পাশে ফিরোজ মিয়ার প্রকল্প এলাকার নির্জন স্থানে তাকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি সবাইকে চিনতে পারেন। এ সময় গাছের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে তার (সুমন) মোবাইল থেকেই ইউপি মেম্বার আবদুর রহিমকে কল দেওয়া হয়।

ফোন পেয়ে মেম্বার আবদুর রহিম ঘটনাস্থলে যান। এর পরই সুমনকে বিবস্ত্র করার নির্দেশ দেন তিনি। একপর্যায়ে তার শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুসি মারতে থাকেন। পরে মুখে কাঁদা ঢুকিয়ে দিলে বমি করেন সুমন। এ সময় ফের মুখে লতাপাতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে মুখমণ্ডল কালো কাপড়ে বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা।

সুমনের ছোট ভাই আবদুল মাজেদ রাজিব বলেন, রাতে আমরা থানা ও ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছি সুমনকে কেউ আটক করেননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে তাকে দেখতে পাই। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী সুমন বলেন, আমি রহিম ও তার লোকজনের কাছ থেকে পানি চেয়েছি। কিন্তু তারা দেয়নি। উল্টো আমার মুখে কাঁদা ও লতাপাতা ঢুকিয়ে দিয়েছে। রহিম ঘটনাস্থল পৌঁছার পরই আমার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। রহিমদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।’

রামগতি থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে সুমনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণ মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ জুন ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]