বুধবার ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সন্তান দরকার? আমলটি করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট

আপনার চাকরি দরকার? ব্যবসার মূলধন নেই? রিজিকের ব্যাপারে পেরেশানিতে ভুগছেন? বিপদ-আপদ, দুঃখ-দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি চাচ্ছেন? বিয়ে হচ্ছে না? সন্তান দরকার? পার্থিব জীবনে সমৃদ্ধি দরকার? ফসল-ফলাদির ভালো ফলন দরকার?

আপনার সব কিছুর সমাধান একটা আমলের মধ্যে রয়েছে, আর তা হচ্ছে- ইস্তিগফারের আমল। ইস্তিগফারকে নিজের জীবনে আবশ্যক করে নেন। চলতে, বসতে, ঘুরতে সব সময় ঠোঁটে ইস্তিগফারের আমল জারি রাখুন।

হাদিসে এসেছে যার মূল বক্তব্য মোটামুটি এই রকম, ‘যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জন্য আবশ্যক বানিয়ে নেবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রতিটি সংকীর্ণ অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুলে দেবেন, তার প্রতিটি উদ্বেগ-অস্থিরতা দূর করে দেবেন। এবং তাকে কল্পনাতীত উৎস থেকে রিজিক প্রদান করবেন’।

হাসান আল বসরি রাহিমাহুল্লার বিখ্যাত সেই ঘটনা আমরা অনেকেই জানি-

‘একবার হাসান বসরী (রাহ.) এর কাছে এক ব্যক্তি জানালো ‘আমার ফসলে খরা লেগেছে। আমাকে আমল দিন’ হাসান বসরী (রাহ.) তাকে বললেন এস্তেগফার করো। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে অভিযোগ পেশ করল ‘আমি গরীব। আমাকে রিজক এর আমল দিন’ হাসান (রহ.) তাকেও বলেলন এস্তেগফার করো। এমনিভাবে অপর এক ব্যক্তি এসে সন্তান হওয়ার আমল চাইলে তিনি বললেন, এস্তেগফার করো’। উপস্থিত ছাত্ররা জিজ্ঞেস করল, ‘সবাইকে এক পরামর্শই দিলেন যে’? বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী (রহ.) বললেন ‘আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলিনি। এটা বরং আল্লাহ তাআলা তার কোরআনে শিখিয়েছেন। তারপর তিনি সূরা নুহ এর আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (তাফসীরে কুরতুবী ১৮/৩০৩)

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا

অর্থ: ‘নুহ (আ.) বললেন ‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে এস্তেগফার করো। (ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদী-নালা প্রবাহিত করবেন’। (সূরা: নূহ, আয়াত: ১০-১২)”

হাদিসে ইস্তিগফারের বেশ কিছু দোয়া এসেছে, সেখান থেকে ইস্তিগফারের দোয়া উল্লেখ করা হলো-

ইস্তিগফার মানে ক্ষমা চাওয়া, আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। পাপের জন্য লজ্জিত,অনুতপ্ত হওয়া।

দোয়া-১

মূল আরবি: ﺃَﺳﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লা-হ’।

অনুবাদ: ‘আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি’।

প্রতি ওয়াক্তের ফরজ সালাতে সালাম ফিরানোর পর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া ৩ বার পড়তেন। (মিশকাত-৯৬১)

দোয়া-২:

মূল আরবি: ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি’।

অনুবাদ: ‘আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তার দিকে ফিরে আসছি’।

রাসূলুল্লাহ (সা,) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবা ও ইসতিগফার করতেন। (বুখারি: ৬৩০৭)

দোয়া-৩

মূল আরবি: ﺭَﺏِّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲْ ﻭَﺗُﺐْ ﻋَﻠَﻲَّ ﺇِﻧَّﻚَ ‏( ﺃﻧْﺖَ ‏) ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺏُ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْﻢُ ‏( ﺍﻟﻐَﻔُﻮْﺭُ)

উচ্চারণ: ‘রাব্বিগ্ ফিরলী, ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত তাওয়া-বুর রাহিম’। দ্বিতীয় বর্ণনায় ‘রাহিম’ এর বদলে ‘গাফূর’।

অনুবাদ: ‘হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়’। দ্বিতীয় বর্ণনায়: ‘তাওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী’।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। (আবূ দাঊদ-১৫১৬, ইবনু মাজাহ-৩৮১৪, তিরমিযী-৩৪৩৪, মিশকাত-২৩৫২)

দোয়া-৪

মূল আরবি: ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’।

অনুবাদ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তার কাছে তাওবাহ করি’।

এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন- যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী হয়। (আবু দাউদ-১৫১৭, তিরমিযী-৩৫৭৭, মিশকাত-২৩৫৩)

দোয়া-৫

ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার:

মূল আরবি: ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা সা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা’।

অনুবাদ: ‘হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের ওপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারণ তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না’।

যে ব্যক্তি সকাল, সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাস সহকারে পড়বে, সে ঐ দিন কিংবা রাতে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (বুখারি: ৬৩০৬)

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]