সোমবার ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একটি অঘোষিত সিট মহলের গল্প

জাহাঙ্গীর হোসাইন বাবলু:   |   শুক্রবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | প্রিন্ট

একটি অঘোষিত সিট মহলের গল্প

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া বা খেপুপাড়ার কথা বলছি। সাগরকন্যা কুয়াকাটার নিকটবর্তি, তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র এক ও দুই নং ইউনিট এর নিকটবর্তি,পায়রা সমুদ্র বন্দর নিকটবর্তী গাঁও ও দেশের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্র মৎস্য বন্দর মহীপুর খুবই নিকটবর্তী ৫নং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কথা বলছি।

দেশ স্বাধীনতার পর থেকে আজোবধি বলতে গেলে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়াই পায়নি এ অঞ্চলের অবহেলিত জনগোষ্ঠী। একের পর এক নেতা বদল, জায় বাংলা রেখে জিন্দাবাদ আবার জিন্দাবাদ বিসর্জন দিয়ে জয় বাংলা, কথায় বলে যে লংকা যায় সেই হনুমান। এ এলাকার দুরবস্থার একখানা ভিডিও যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখালে তিনি নিশ্চিত নির্বাক হয়ে যাবে। আসল তথ্যে আসা যাক এ এলাকার আমার বন্ধু বাড়ি ১৯৯১ সনে এখানে প্রথম বেড়াতে আসি এ নিয়ে তেত্রিশ বছরের কথা, মাঝে মধ্যে ২/৪ বছর পরপর আসি। গ্রামের নাম মজিদ বাড়িয়া, গ্রামটি নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। তার মানে সাত নং ওয়ার্ডের গ্রামের সংখাও সাতটি মজিদবাড়িয়া, জালালপুর, আক্কেলপুর, সদরপুর, দরিয়াপুর, সৈয়দপুর, ও পশ্চিম হাজিপুর।

বলা হয় এ ইউনিয়নটি কলাপাড়া উপজেলার সব চেয়ে বড় ইউনিয়ন ও ৭নং ওয়ার্ডটি ইউনিয়নের সবচে বড় ওয়ার্ড এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ ওয়ার্ডটি দেশে ও বিদেশে বেশ খ্যাতি রয়েছে। দেশ বিদেশের খৃষ্টান মিশনারীরা এ গ্রামের নামও জানে। এটা একটি মাত্র ওয়ার্ড যেখানে মুসলমানদের যেমন স্বাধীন বসবাস ও তেমনি রয়েছে খৃষ্টান ধর্মালম্বীদের ও স্বাধীন বসবাস এবং এখানে মুসলিম খৃষ্টানের সখ্যতা দেখে মনে হয় না কে কোন ধর্মের। এখানে মুসলমানদের ধর্মিয় উপাসনালয়। যেভাবে উৎসবে আনন্দে মুসলিম গমনাগমন আবার ঈদ পুজা পার্বনে খৃষ্টানদেরও অংশগ্রহন। এখানে মুসলমানদের বেশ কিছু ধর্মিয় উপাসনলয় রয়েছে। সে সকল মসজিদ গুলো যেমন : মজিদবাড়িয়া আশার আলো জামে মসজিদ, মজিদবাড়িয়া জামে মসজিদ, সৈয়দপুর জামে মসজিদ, আক্কলপুর জামে মসজিদ, দরিয়াপুর জামে মসজিদ, জালালপুর তাহের হাওলাদার জামে মসজিদ, মৃধাবাড়ি জামে মসজিদ, পশ্চিম হাজিপুর জামে মসজিদ ঠিক তেমনি খৃষ্টাদেরও রয়েছে চার চারটি সদরপুর ব্যাপ্টিষ্ট মিশন, ক্যাথলিক মিশন, হালুলীয়া গীর্জা ও অন্য নামে আরো একটি গীর্জা রয়েছে।

হিন্দুদেরও রয়েছে তেমন উপাসনালয়। এই সাতটি গ্রামের শুধুই শিক্ষা সম্বল এই তিনটি প্রতিষ্ঠান-হাজিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আক্কেলপুর দাখিল মাদ্রাসা ও আক্কেলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। হাজারো কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করে। কিন্তু কি ভাবে করে? মাইলের পর মাইল ভাঙা মাটির রাস্থা, বর্ষার ছয়মাস পানি হাতরে, কাঁচা গদগদে প্যাক কাদায় আছাড় হোঁচট খেতে খেতে যেতে হয় বিদ্যালয়ে। দেশ স্বাধীনের ৫২ বছরেও কোনো সরকারের উন্নয়নের একখানা রাঙা ইটও জোটেনি এ অঞ্চলের অর্থাৎ এ সাতটি গ্রামের মানুষের ভাগ্যে। তাহলে বোদ্ধাগনের মনে প্রশ্ন জাগবে- তবে কি ওখানে কোন সড়কই নেই? কে বলেছে নেই, ঢের আছে। হাজিপুর সেতুমুল থেকে গাজীর খেয়াঘাট, উমিদপুর থেকে গাজীর খেয়াঘাট, মজিদবাড়িয়া ব্রিজ থেকে আশার আলো জামে মসজিদ, আশার আলো জামে মসজিদ থেকে আক্কেলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীপুর থেকে সদরপুর হয়ে গাজীর খেয়াঘাট, হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গাজীর খেয়াঘাট। এর প্রতিটি সড়কই পিচ ঢালাইয়ের জন্য যথেষ্ট যোগ্য। এমনটি হলে। মানুষের জীবন মান আরো সহজ হওয়া সম্ভব হতো। গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের সহস্র অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় সাংসদের বিরুদ্ধে, রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ব্যাপারে, রয়েছে অন্যান্য জনপ্রতিনিধীদের বিরুদ্ধেও এমনকি তাদের অভিযোগের তীর সাংবাদিকদের দিকেও। গ্রামের সাধারন জনগণ ও শিক্ষিতজনদেরও একই অভিযোগ “সবাই খালি ভোডের আগে সপনো দেহায় কামের কাম কেউ হরে না, মিত্যা কতা, খালি মিত্যা কতা কয়” এমপি নির্বাচিত হইয়া ঢাকায় পড়ে থাকে এলাকায় যে কেহ আছে ভুলে যায়, ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইয়া উপজেলায় বাসা বাড়ি নিয়া আরামের জীবন কাটায়। বাংলাদেশের একমাত্র কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব চারতলা কলাপাড়াতে অথচ তারা এই অবহেলিত জেলে পাড়া, খৃষ্টানপাড়া, মুসলিম পাড়ার মানুষগুলো যে কিভাবে থাকে তার খবর কেউ রাখেও না, পৌঁছায়ও না। প্রধানমন্ত্রী তো জানে আমার দক্ষিণবঙ্গ সোনারপুরী বানাইছি। কথাগুলো বলছিলো একজন খৃষ্টান ভদ্রলোক।

গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ে বাহিরে দাঁড়িয়েছিলাম, লোকজন ভালো ভালো পোশাক পড়ে নামাজে এলেও দেখা গেলো নামাজের শেষে অজস্র মানুষ হাটুর উপরে পানির কারনে লুঙ্গী কাচুটি, কেউ আবার প্যান্ট ভিজিয়ে বাড়ি ফিরছে।জানতে চাইলাম কারন কি? বলল রাস্তা ঘাট তেমন নেই, যাও আছে ভাঙা ও পচা কাদায় । অথচ এই অঞ্চলের প্রতি বছর ভুলা চিংড়ির টনকে টন সুটকী সারা বাংলাদেশে পৌঁছে যায় এমনকি বিদেশেও। অথচ এ অঞ্চলের মানুষেরাও যে মানুষ তা কারো কোনো ব্রুক্ষেপ নেই। পশ্চিম হাজিপুর ওয়াপদা বাধের অবস্থাও তেমন সুবিধাজনক নয়।

বর্ষার মৌসুম শেষ হলে ২/৩ টি স্থানে ঘটতে পাড়ে ভুমিধ্বস বা নদীর পাড় ধ্বসের মতো বিপদ জনক ঘটনা। সব মিলিয়ে এ সাতটি গ্রামের প্রতি কোন প্রকার উন্নয়ন হীনতা, হীনমন্যতা বাদ দিয়ে এ সাতটি গ্রামকে একটি অঘোশিত সিট মহল থেকে উদ্ধার করুন। একটি স্মার্ট গ্রামে রুপান্তরিত করে, অবজ্ঞা অবহেলা কমিয়ে নিয়ে বিশেষ নজর দিলে মানবিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা সহায়তা, যোগাযোগ ব্যবস্থায় মানুষের জীবন মানে সহজলভ্য করা এখন সময়ের দাবি। কারন ভুলে গেলে।চলবে না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি সংসদে কোন দলীয় দুবৃত্ত বা জিরক্স বা ফটোকপি রাখবে না।

লেখক: কলামিস্ট ও কবি

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিজয়ের ছড়া
(227 বার পঠিত)
advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]