মঙ্গলবার ২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পদ্মার চরে কাশফুলের শুভ্রতায় প্রশান্তির হাতছানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট

পদ্মার চরে কাশফুলের শুভ্রতায় প্রশান্তির হাতছানি

ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মাতীরে জেগে উঠা বিশাল চরাঞ্চল ছেয়ে গেছে সাদা কাশফুলে। গ্রাম কিংবা শহরের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তির মায়াবি আবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছে চারিদিক। সে কাশফুলের রাজ্যে গা ভাসাতে প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পদ্মার চরে। ছবি আর সেলফি তুলে স্মৃতি হিসেবে ক্যামেরাবন্দি করছেন নিজেদের। এ অপার সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মনের খোরাক মেটানোর পাশাপাশি ভূমিকা রাখছে চরবাসীর জীবন-জীবিকায়।

জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে গেলে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মাপাড়ে বিশাল চরে যদ্দূর চোখ যায় কেবলই সাদা কাশফুল। দূর থেকে দেখে মনে হবে বিশাল আকৃতির সাদা চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। চরের মানুষের জনবসতি ও জীবনযাত্রায় শুভ্র আমেজ ছড়িয়ে দিয়েছে এ কাশবন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডালি শরতের এ কাশবনে পর্যটক সমাগম চোখে পড়ার মতো।

ঘুরতে আসা শামীমা আক্তার বলেন, ‘কালের পরিক্রমা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে শরতের কাশফুল। দেখতে এসেছি চরাঞ্চলের কাশফুল। খুব ভালো লাগছে। অনেক আনন্দ করেছি।’

পরিবারসহ ঘুরতে এসেছেন সালাম খান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কাশফুল এখন সচরাচর দেখা যায় না। তাই খবর পেয়ে অনেক দূর থেকে এসেছি দেখতে। ছুটির দিনে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি, খুব ভালো লাগছে।’

এদিকে, চরে জেগে উঠা কাশফুল বিক্রি করে সংসার চলছে চরের বাসিন্দাদের। বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে তারা সুন্দর আঁটি বানিয়ে বিক্রি করছেন কাশফুল। প্রতি আঁটি ১০ টাকা। প্রতিদিন তাদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা রোজগার হচ্ছে। এছাড়াও খাবার পানি, কোক, চিপস, আমড়াসহ বিভিন্ন খাবারসামগ্রী বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন তারা।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘কাশফুল থাকে তিন মাস। এ তিন মাস দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসেন দেখতে। প্রতিদিনই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে, কেউবা বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে ঘুরতে আসেন। আমরা কাশফুল সুন্দর করে আঁটি বানিয়ে ১০ টাকা করে বিক্রি করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এখানে আসেন তাদের ভালো লাগে। তারা আসায় আমাদেরও খুব ভালো লাগে। এমনি সময়তো মানুষজন এখানে আসেন না। এখানকার অনেকেই কাশফুল বিক্রি করেন, আবার কেউ পানি, কেউ পটেটো চিপস, কেউ আমড়া বিক্রি করেন। এ কয় মাস আমাদের ভালোই রোজগার হয়।’

কাশফুল বিক্রি করছে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছামিরা। স্কুল থেকে ফিরে কাশফুল বিক্রি করে সে। তার মা কাশফুল কেটে, স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে দেয়। তারপর সে প্রতিটি আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি করে। প্রতিদিন ১০০ থেকে দেড়শ টাকা রোজগার হয়।

আমড়া বিক্রি করা রাসেল জানান, ‘এখানে আগে লোকজন আসতো না। আশপাশের এলাকায় কাশফুল নেই। এখন কাশফুল দেখতে প্রতিদিন অনেকে আসেন। আমি আমড়া বিক্রি করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা রোজগার করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন ব্যাপারী বলেন, কাশফুল দেখতে প্রতিদিনই মানুষ আসেন পদ্মার এ চরে। এই তিন মাস চরাঞ্চলের বাসিন্দারা খুব ভালো সময় পার করেন। এখানে বিস্তীর্ণ চর রয়েছে। এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে, এ এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।

তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, এখানে পর্যটনকেন্দ্র করা হলে সারা বছরই মানুষ আসতে পারবেন। নদী রয়েছে, বিস্তীর্ণ চর এখানে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আগের চেয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো হয়েছে।

আকোটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসলাম ব্যাপারী জানান, পদ্মাপাড়ে চরাঞ্চলে কাশফুল দেখতে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসেন। মানুষ আসতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে কারণে নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আগে নৌকায় পারাপার হওয়া লাগতো। সাঁকো নির্মাণের পর এখন যোগাযোগ ভালো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া সড়কের কাজও করা হয়েছে। কাশফুলের সময় পদ্মাপাড়ের মানুষরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন। তবে এটি তিন মাসের জন্য। বছরের অন্য সময়ও যাতে এসব মানুষ ভালো থাকতে পারেন, সেজন্য এখানে একটি পর্যটন স্পট গড়ে তোলা যায়। আর তাহলে সারা বছরই এ মানুষগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে।

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এখানে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। অনেক জায়গা রয়েছে। নদীরপাড়ে হোটেল, মোটেল, রিসোর্টসহ বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। এ চরাঞ্চলে বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুললে মানুষ সারা বছর এখানে আসতে পারবেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:০১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]