সোমবার ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পদ্মা রেলসেতুতে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট

পদ্মা রেলসেতুতে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন আজ

বাংলাদেশের অন্যতম গভীর ও প্রমত্তা নদী পদ্মা। গত বছরের ২৫ জুন চালু হয় এ নদীর উপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। বাঙালি জাতির গৌরবের ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের পদ্মাসেতু চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাত্র ১৫ মাসের ব্যবধানেই পদ্মাসেতুতে চালু হচ্ছে ট্রেন। এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে জাতির আরেকটি স্বপ্ন। প্রথমবারের মতো রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের মানুষ। এটি ঢাকা-যশোর ১৭২ কিলোমিটার রেলসংযোগ প্রকল্পের অংশ।

আজ (মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর) ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-রুটের রেল যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মাওয়া প্রান্তে। ঢাকা থেকে সড়কপথে মাওয়া পৌঁছে সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুর রেল সংযোগ উদ্বোধন করবেন। এরপর সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। বেলা পৌনে ১টায় মাওয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে ভাঙ্গার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বপ্নের পদ্মাসেতু পাড়ি দিয়ে ৪০ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করে ভাঙ্গা রেলস্টেশনে পৌঁছাবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা সেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। জনসভা শেষে পিতৃভূমি গোপালগঞ্জে যাবেন এবং সেখানে একদিন অবস্থান শেষে বুধবার সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে রেল সংযোগ উদ্বোধন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে এ রুটের প্রতিটি স্টেশন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উদ্বোধনী ট্রেনটিও সাজানো হয়েছে রঙ-বেরঙের ফেস্টুন ও ফুল দিয়ে।

পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর হক বলেন, আমরা ৪-৫ বছর ধরে এই রেল প্রকল্পের কাজ করছি। আজ আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত দিন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমরা ট্রেনে চড়ে পদ্মাসেতু হয়ে ৪০ কিলোমিটার দূরে ভাঙ্গা স্টেশনে যাবো। আমাদের মাওয়া স্টেশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রেল চলাচলের জন্য টেকনিক্যালি আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের স্টেশন রেডি। লাইন রেডি করাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলাসহ যাবতীয় বিষয়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

চলতি বছরের ৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো পদ্মাসেতু দিয়ে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া প্রান্তে পরীক্ষামূলক চলাচল করে ট্রেন। ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা ট্রেনের ‘ট্রায়াল রান’ হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চালানো হয় এবং পরদিন চালানো হয় মালবাহী ট্রেন।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত রেললাইনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। আগামী বছর জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। আগামী নভেম্বর থেকে এই রুটে যাত্রী নিয়ে পুরোদমে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।

আরো জানা গেছে, শুরুতে ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে তিনটি ট্রেন চলাচল করতে পারে। ঢাকা থেকে আন্তনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস পদ্মাসেতু হয়ে খুলনা যাবে। ভাঙ্গা থেকে ট্রেনটি রাজবাড়ী, পাটুরিয়া, কুষ্টিয়ার পোড়াদহ ও যশোর হয়ে খুলনায় যাবে। বর্তমানে ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু সেতু, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া হয়ে চলাচল করে। অপরদিকে, রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী থেকে মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করে। পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে ট্রেনটি ঢাকা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। এছাড়া ঢাকা-পদ্মাসেতু-রাজবাড়ী রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালানোর কথাও ভাবছে রেলওয়ে।

ঢাকা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল এক্সপ্রেস বর্তমান রুট পরিবর্তন করে পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকা, ঢাকা-কলকাতা রুটের আন্তর্জাতিক ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেসও রুট পরিবর্তন করে পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকায় চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। খুলনা থেকে গোয়ালন্দ রুটে চলাচলকারী মেইল ট্রেন নকশিকাঁথা এক্সপ্রেসের চলাচলের রুট বাড়িয়ে ভাঙ্গা হয়ে পদ্মাসেতু দিয়ে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

পুরো রেলপথ চালু হলে পদ্মাসেতু হয়ে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, যশোর দিয়ে ট্রেন খুলনায় যেতে পারবে। একইভাবে রাজবাড়ী হয়ে উত্তরবঙ্গের পথেও ট্রেন চলতে পারবে। ভবিষ্যতে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর পায়রা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, শুরুতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তিনটি স্টেশনে- মাওয়া, পদ্মা (জাজিরা) ও শিবচরে ট্রেন থামার ব্যবস্থা থাকছে। অন্যান্য রেলস্টেশনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে তা চালু হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:২৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]