রবিবার ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট

১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ। যা দেশের মিঠা পানির মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত।

বাণিজ্যিভাবে মাছের দিন দিন উন্নয়ন, সঙ্গে হ্রদের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার সুফল ভোগ করছেন এ অঞ্চলের ২৬ হাজারেরও অধিক মৎস্যজীবী। এ হ্রদ থেকে আহরিত মাছ রফতানি করা হয় চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। অর্থনীতির বড় একটি চালিকা শক্তি বৃদ্ধি হতে থাকায় তা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে।

কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, মারিশ্যা ও মহালছড়ির চারটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ৫ হাজার ৫০৪ মেট্রিক টন আহরণ হয়। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে ১১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া গত বছরে হ্রদে ১১ শ অভিযানে চার হাজার কেজি মাছ, ৩৫০টি নৌকা, তিন লাখ মিটার জাল উদ্ধার করা হয়। এ থেকে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদ থেকে বিগত সাড়ে চার মাসে ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ এর ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার ৮১৪ মেট্রিক টন মাছ আহরিত হয়েছে। এ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। যা অতীতের চেয়ে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড। কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্মচারী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও জেলেদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ড্রেস কোড চালু, টহল টিমের জন্য ট্র্যাকিং ডিভাইস সিস্টেম চালুসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। এ ছাড়া মাছ শিকারের সময় ২৪ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়। অর্ধেক সময় পেলেও হ্রদ এলাকায় নিবন্ধিত ২৬ হাজার ৭৯১ জেলে রেকর্ড পরিমাণ মাছ আহরণ করেছেন।

২০২৩ সালে কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২০ এপ্রিল ২০২৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মাছ শিকার ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। হ্রদে পানি না বাড়ায় দুই দফা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে হ্রদে মাছ শিকার শুরু হয়। কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মিঠা পানির মাছের মধ্যে রয়েছে- কাচকি, চাপিলা ও রুই জাতীয় মাছ।

কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য ব্যবসায়ী খোকন বড়ুয়া জানান, এই হ্রদটি হচ্ছে প্রকৃতির ওপর নির্ভর। এখানে পর্যাপ্ত পানি থাকলে মাছের উৎপাদন খুব ভালো হয়। হ্রদে বিগত বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় মাছের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি হয়েছে তেমনি তাদের ব্যবসাও ভালো হয়েছে।

রাঙ্গামাটির মাছ ব্যবসায়ী মনি ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি যদি সবসময় থাকে তাহলে হ্রদে মাছ উৎপাদনও ভালো হবে। এতে করে ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার বাড়বে।

রাঙ্গামাটির ফিসারি ঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ ব্যবসায়ী বুলবুল হোসেন জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে বিগত বছরগুলোতে লেক থেকে মাছ উৎপাদন কম হয়েছিল। কিন্তু এবার ২০ দিন অতিরিক্ত সময়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকার ফলে হ্রদে মাছ যেমন বড় হয়েছে এবং উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এতে করে বিএফডিসি এবং ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি মাছ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উদয়ন বড়ুয়া জানান, মৎস্য আহরণে শৃঙ্খলা ফিরে আসায় ব্যবসায়ী এবং জেলেদের মধ্যে সমন্বয় ফিরে এসেছে। আহরণের সময় সীমা কমানো হলেও ব্যবসা ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা।

তিনি আরো জানান, আগে ফিসারিতে যত্রতত্র মাছ ওজন করা হতো, ফিসারির বরফের গাড়ি বিচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় পাকিং করে রাখা হতো। এসব কিছু রাঙামাটি বিএফডিসির বর্তমান কমান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এখন সবকিছুতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল আলম ভূঁইয়া বলেন, হ্রদে মাছের উৎপাদন ও আহরণ প্রতি বছর কম ছিল। এজন্য হ্রদ-সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে শৃঙ্খলা আনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]