শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আকুপাংচার চিকিৎসায় শশী হাসপাতাল, চিকিৎসা নিতে আসছে বিদেশী রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট

আকুপাংচার চিকিৎসায় শশী হাসপাতাল, চিকিৎসা নিতে আসছে বিদেশী রোগী

 

চার বছর হাঁটু ব্যথায় ভুগছিলেন তুরস্কের নাগরিক মোহাম্মদ আমিন খান। তার এ সমস্যার কারণে ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে নামতে সমস্যা হতো, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সহ অনেক কাজ করতে তার অসুবিধা হতো। বিভিন্ন ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা গ্রহণের পরও হাঁটুর ব্যথা কমছিলো না। ইউটিউবে বাংলাদেশের শশী হাসপাতালের ভিডিও দেখে এ হাসপাতালে আকুপাংচার চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রায়না খাতুন। রায়না দীর্ঘদিন দুরারোগ্য মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের পরেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সুস্থ্য হওয়ার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
রায়নার ছেলে শামীম রাজা ফেসবুকে শশী হাসপাতালের ভিডিও দেখে যোগাযোগ করেন। তার মাকে বাংলাদেশে আনেন। শশী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক উন্নতি হয়। আকুপাংচার চিকিৎসা নেওয়ার পর রায়না খাতুনের শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
শশী হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটি থেকে আকুপাংচার চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবছর ১০ হাজারেরও অধিক রোগী সুস্থ হয়েছেন। এরমধ্যে প্রবাসী প্রতি বছর চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ২৬৭জন। বিদেশী রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন ৩২ জন। বিদেশী রোগীদের মধ্যে ছিল ভারত, আমেরিকা, তুরস্ক, বাহারাইন, দুবাই, আরব আমিরাত, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, কাতার ও ইতালী।
ইতিমধ্যে হাসপাতালটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ‘ব্যাপক’ অবদান রেখেছে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটির ডাক্তাররা রোগীদের সেরা ওঠার জন্য সঠিক চিকিৎসা ও অক্লান্ত পরিশ্রম করার ফলে রোগীরা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠছে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে আকুপাংচার চিকিৎসায় সুপরিচিত আকুপাংচার বিশেষজ্ঞ ডা. এস, এম, শহীদুল ইসলাম। তাকে দেশের আকুপাংচার চিকিৎসার ‘পথিকৃত’ বলা হয়। ইতিমধ্য তিনি আধুনিক আকুপাংচার চিকিৎসা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি শশী হাসপাতালে আকুপাংচার বিষয়ে চিকিৎসা দিয়ে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের নিকট পরিচয় নতুন করে পরিচয় করে দিচ্ছেন।

ডা. এস, এম, শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশ থেকে যে প্রাবাসী ভাইয়েরা আসে তার ট্রিটমেন্ট নিয়ে ভালো হচ্ছে। ভালো হওয়ার পরে তাদের যে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ আরবের শেখরা আমাদের দেশে এসে চিকিৎসা নিতে শুরু করলো। এভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে এসে চিকিৎসা নিতে শুরু করেছে। এর পরিধি দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।’

‘আকুপাংচার’ চিকিৎসা কী:
আকুপাংচার চিকিৎসার সাধারণ তত্ত্ব; মানব শরীর জুড়ে শক্তিপ্রবাহের বা কিউই নির্দেশন রয়েছে যা সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়, এর প্রবাহের ব্যাঘাত ঘটলে প্রভৃতি রোগ তৈরি হয়। আকুপাংচার চিকিৎসা কিউই বা উজ্জীবনী শক্তিতে পুনরায় ফিরিয়ে এনে রোগীকে সুস্থ করে তোলে।

ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো চীনা এই চিকিৎসা পদ্ধতি সারা বিশ্বে সমাদৃত। সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে আকুপাংচার চিকিৎসারও প্রভূত উন্নতি হয়েছে।’

জানা যায়, ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন (টিসিএম) এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা যা প্রাচীন চীনা দর্শন ও সংস্কৃতির মূল্যবোধ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ‘আকুপাংচার’ ট্রাডিশন চাইনিজ মেডিসিনের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে আকুপাংচার স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃত ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ‘মেডিকেল সাইন্সে একটা কথা প্রচলিত ছিল একটা নার্ভ যদি ড্যামেজ হয়ে যায় সে নার্ভ পূনুরায় জন্মগ্রহণ করেনা বা রিকভারী হয়না, কিন্ত দেখো গেল যে আকুপাংচারের মাধ্যমে তা ফিরে আসতেছে। এসব দেখে উন্নত দেশগুলোতে আকুপাংচার এসোসিয়েশন খুবই শক্তিশালী হিসেবে গড়ে ওঠে। ইউকেতে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস যে রোগগুলো জটিল ও ভালো হচ্ছেনা তাদের সুপারিশ করা হচ্ছে আকুপাংচারের জন্য।’

ডা. এস, এম, শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মেডিকেল সাইন্সের কোন বিষয় নিয়ে যদি কাজ করতে হলে ওর্য়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লিওএইচও) এর স্বীকৃতি লাগে। ১৯৭৯ সালে ডাব্লিওএইচও আকুপাংচার চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দেয়। তারা আবার গবেষণা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ২০০১ সালে ১০১টা রোগের ক্ষেত্রে আকুপাংচারের মাধ্যমে নেওয়ার জন্য সুপারিশ করে। এই ১০১ রোগ(বাত,ব্যাথা,নিউরন ডিজিস বা নার্ভ জনিত যেকোন জটিলতা) হলো ট্রেডিশনাল মেডিসিনে সন্তোশজনক রেজাল্ট আসেনা।’

ইতমিধ্যে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) আকুপাংচার চিকিৎসাকে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রয়োগের সুপারিশ করেছে।
ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন ‘অন্যান্য প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি যখন কিছু রোগ নিরাময়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে আকুপাংচারের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে এই চিকিৎসা বিশ্বের ১২০টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেসব রোগে আকুপাংচার কার্যকর।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ রোগী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে সেখানে শশী হাসপাতালে একদিকে যেমন দেশি রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে অপর পক্ষে বিদেশি নাগরিকরা চিকিৎসা নেওয়ার ফলে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে শশী হাসপাতাল এই সেবার ধারা অব্যাহত রাখবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৪৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]