শুক্রবার ১লা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব: আখেরি মোনাজাত সকাল সাড়ে ১০টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট

বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্ব: আখেরি মোনাজাত সকাল সাড়ে ১০টায়

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বের আখেরি মোনাজাত আজ রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় অনুষ্ঠিত হবে।

২য় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।

আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্দলভির বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ। এর আগে হেদায়েতি তথা দিক নির্দেশনামূলক বয়ান করা হবে।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বিশেষ বাস ও ট্রেনের ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া মোনাজাতে মুসল্লিদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ।

ইজতেমার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ইজতেমা ময়দানের ৮৯টি খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন দেশ বিদেশের লাখো মুসল্লি। ফজরের নামাজের পর পিনপতন নিরবতায় ধর্মীয় বয়ান শুনছেন তারা। বয়ানের পর এগুলো থেকে নেয়া শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি খিত্তায় দলবেঁধে নিজস্ব আমিরের (দলনেতা) নেতৃত্বে হবে আলোচনা।

সকাল সাড়ে ১০টায় তালিমে হালকা মোয়াল্লেমেরদের নিয়ে কথা বলেন মাওলানা আব্দুল আজিম। ইজতেমায় তাবলিগ জামাতের নানা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও মূল বয়ান মঞ্চের পাশে অনুষ্ঠিত হয় গণবিয়ে।

তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিরা আরবি, উর্দু ও হিন্দিতে বয়ান করলেও তাৎক্ষণিকভাবে এগুলো বাংলা, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। এছাড়া যারা তাবলিগের দাওয়াতী কাজে বের হবেন খিত্তা অনুযায়ী তাদের তাশকিল কামরায় তালিকাভুক্ত করা হয়।

ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, শনিবার ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে জোহরের নামাজের পরে বয়ান করেন ভারতের মাওলানা শরিফ, বাংলা তরজমায় মাওলানা মাহমুদুল্লাহ, আসরের পরে বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা ওসমান, বাংলা তরজমায় মাওলানা আজিম উদ্দিন। তার বয়ানের পরে অনুষ্ঠিত হয় যৌতুকবিহীন গণবিবাহ। মূল বয়ান মঞ্চের পাশে শরীয়া আইন অনুযায়ী ফাতেমি রীতিতে কনের অভিভাবক বর ও তার আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি আরো বলেন, রোববার ফজরের পরে বয়ান করবেন ভারতের মুফতি মাকসুদ, বাংলা তরজমায় মাওলানা আব্দুল্লাহ। বয়ানের পরেই হেদায়াতি বয়ান ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। মজলিশে শূরার সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১ টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন ভারতের মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ।

এদিকে, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ১৫ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ময়দানের ভেতরে ও বাইরে কাজ করছে। সিসিটিভি ও ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে পুরো ময়দান ও আশেপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন, সরকারের বিভিন্ন দফতরের লোকজন সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকে গাজীপুরের তিন সড়ক, মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। মোনাজাত শেষে রোববার দুপুর ২টার পর সড়কগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের মিরের বাজার থেকে টঙ্গীর স্টেশন রোড পর্যন্ত এবং ঢাকার কামারপাড়া মোড় থেকে টঙ্গীর মন্নু গেইট সড়ক।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব সড়কে ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি চলতে পারবে না। তবে জরুরি প্রয়োজনের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমকর্মী বা বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, আখেরি মোনাজাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগমের সুবিধার্থে সড়কে বাড়তি পুলিশ থাকবে। এছাড়া ইজতেমার আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে মধ্যরাত থেকে আবদুল্লাহপুর-ভোগড়া বাইপাস, মীরের বাজার-টঙ্গীর স্টেশন রোড ও কামারপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বিকল্প সড়কে ওই রুট ব্যবহারকারী যানবাহনকে চলাচল করতে দেওয়া হবে।

এই পর্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি মুসল্লির আগমন ঘটেছে। ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ফিলিস্তিন, জর্ডান, নেপাল, মায়ানমারসহ বিশ্বের ৬২টি দেশের ৭ হাজার ৮৪৮ জন বিদেশি মেহমান এসেছেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজকরা।

দ্বিতীয় পর্বে টঙ্গীর তুরাগ তীরের ময়দানে আরো এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম। এ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে মোট ৬ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

মৃত মো. জালাল মণ্ডল (৬০) সিরাজগঞ্জের কাজিপাড়া থানার বড়াইখোলা গ্রামের বেলায়েত মণ্ডলের ছেলে।

সায়েম বলেন, ময়দানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন মোট পাঁচজন। এছাড়া ময়দানে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো একজন।

তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৫০ মিনিটে শেরপুর সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মোহাম্মদ আবুল কালাম (৬৫), বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামের মো. হেলিম মিয়া (৬৫) ও বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার শিবনগর এলাকার মো. জহির উদ্দিন (৭০) এবং রাত ৮টা ৫০ মিনিটে জামালপুরের ইসলামপুর থানার গোয়ালের চর এলাকার ছবির উদ্দিনের ছেলে নবীর উদ্দিন (৬৫) মারা যান।

মোহাম্মদ সায়েম জানান, বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যাদের তথ্য ও ঠিকানা পাওয়া গেছে তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:২৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]