মঙ্গলবার ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের প্রতিবাদে ২০ জনকে হত্যা, ৪৩ বছর পর সাজা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট

ধর্ষণের প্রতিবাদে ২০ জনকে হত্যা, ৪৩ বছর পর সাজা ঘোষণা

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরের বেহমাই গ্রাম ‘দস্যুরানী’ বা ধর্ষকদের যমদূত ফুলন দেবী ও তার বাহিনীর হাতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের চার দশক পর স্থানীয় আদালতের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কানপুরের একটি স্থানীয় আদালত শেষ দুই জীবিত অভিযুক্তের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই অভিযুক্তের নাম শ্যাম বাবু। তিনি ফুলন দেবীর ২০ সদস্যের দলে ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

বিচারক অমিত মালবিয়ার আদালত শ্যাম বাবুকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু প্রমাণের অভাবে অপর অভিযুক্ত বিশ্বনাথকে খালাস দিয়েছেন বলে সরকারপক্ষের আইনজীবী রাজু পোরওয়াল জানিয়েছেন।

রাজু পোরওয়াল বলেন, ফুলন দেবীসহ মোট ৩৫ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছিল। শ্যাম বাবু ও বিশ্বনাথ ছাড়া বাকি সবাই মারা গেছেন।

১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফুলন দেবী এবং তার দল ধর্ষণ ও অন্যান্য অত্যাচারের প্রতিশোধ নিতে কানপুরের রাজপুর থানা এলাকায় অবস্থিত বেহমাই গ্রামে ২০ জনকে হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন উচ্চবর্ণের ঠাকুর সমাজের মানুষ ছিলেন। ঠাকুর সমাজ ও উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিরা কোনো কারণ ছাড়াই ফুলন দেবীকে একটি ঘরে আটকে রেখে টানা কয়েক দিন ধর্ষণ করেন। এর প্রতিশোধ নিতেই ফুলন দেবী ডাকাত দলে যুক্ত হয়ে ২০ জনকে হত্যা করেন।

সেই ঘটনায় গোটা ভারতে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভিপি সিং। ৩৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে বিচার চলাকালীন অভিযুক্তদের ৩২ জনই মারা গেছেন। এই মামলা চলাকালীন ২৮ জন সাক্ষী মারা যান। ২০১২ সালে কানপুরের ওই আদালতে চার্জ গঠন হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর ফুলন দেবীর নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তাকে ভারতে অত্যাচারিত, দলিত, নিম্নবর্ণের ও আদিবাসীদের প্রতিবাদী মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি, তাকে নিয়ে তৈরি হয় চলচ্চিত্রও, যেটি পরিচালনা করেছিলেন শেখর কাপুর। তার জীবনী নিয়ে লেখা বইটির নাম ছিল ‘ইন্ডিয়াস ব্যান্ডিট কুইন: দ্য ট্রু স্টোরি অব ফুলন দেবী’। তারপর থেকে ফুলন দেবী ‘ব্যান্ডিট কুইন’ নামেও পরিচিত হয়েছিল।

পরে একটি সাধারণ ক্ষমা প্রকল্পের অধীনে হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ফুলন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন। সে বছর সমাজবাদী পার্টির তৎকালীন প্রধান ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়েম সিং যাদবের আদেশে ফুলন দেবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

১৯৯৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন। কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও তিনি উত্তর প্রদেশের মির্জাপুরের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিজ প্রদেশ ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন ফুলন দেবী।

২০০১ সালের ২৫ জুলাই তাকে নয়াদিল্লিতে সরকারি বাসভবনের বাইরে হত্যা করা হয়। যাদের ফুলন দেবী হত্যা করেছিলেন, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল এই হত্যাকাণ্ড।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:১২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(239 বার পঠিত)
(204 বার পঠিত)
advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]