শুক্রবার ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের কাছে সবচেয়ে বড় হার বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট

ফিলিস্তিনের কাছে সবচেয়ে বড় হার বাংলাদেশের

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে শক্তিশালী ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল দারুণ। ৪২ মিনিট পর্যন্ত চোখে চোখে রেখে লড়াই করেছে। কিন্তু এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে রক্ষণভাগ। এতেই দেশটির কাছে ৫-০ গোলে হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার দলকে। এটাই ফিলিস্তিনের কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হারের রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ ২-০ গোলে হার ছিল।

বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম জয় পেল ফিলিস্তিন। ৪ দলের মধ্যে ফিলিস্তিন ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। আর বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে এক ড্র ও দুই হারে সবার নিচে।

কুয়েত সিটির জাবেদ আল আহমাদ স্টেডিয়ামে প্রবাসীরা এসেছিলেন লাল-সবুজ দলকে সমর্থন করতে। তাদের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ শুরুটা খারাপ করেনি। প্রতি আক্রমণ নির্ভর খেলে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে গোল করতে পারেনি। আবার ফিলিস্তিনও পারেনি সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগে গোল করতে।

ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটে বাংলাদেশ সুযোগ পায়। রাকিব হোসেন ডান দিক দিয়ে গতিতে এক ডিফেন্ডারকে হারিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করলেও তা রিসিভ করার মতো কেউ জায়গা মতো ছিলেন না। বল পেলে হয়তো গোলের হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এরপর ১১ মিনিটে ফিলিস্তিন গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিশ্বনাথের মাথা ছুঁইয়ে আসা বল পেয়ে ওদেহ দাবাঘ বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে একা পেয়ে ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।

১৪ মিনিটে রাকিব হোসেন এক ডিফেন্ডারকে ডজ দিয়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ে শট নিলেও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ৫ মিনিট পর ফিলিস্তিন আক্রমণে। মধ্যমাঠ থেকে থ্রু পেয়ে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে ফাস্ট টাচে বল রিসিভ করে বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে একা পেয়ে ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে সমর্থকদের হতাশ করেন। ২৩ মিনিটে আবার বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছিল। ফরোয়ার্ডরা প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও গোলকিপারের পরীক্ষা নিতে পারেননি।

৪ মিনিট পর বাংলাদেশ ভালো সুযোগ নষ্ট করে। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম বা প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ নিচু ক্রস ফেলেছিলেন, অন্য প্রান্তে সোহেল রানা ফাঁকায় ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপর ফিলিস্তিন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে। ৩২ মিনিটে ফিলিস্তিনের ওদেহ দাবাঘ বক্সে ঢুকে গোলকিপারকে একা পেয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। বল জালে প্রবেশের আগেই মিতুল মারমা বা দিকে পা বাড়িয়ে প্রতিহত করে দলকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রাখেন।

বিরতিতে যাওয়ার আগে ডিফেন্ডারদের ব্যর্থতায় দুই মিনিটে দুই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৩ মিনিটে বাংলাদেশের হতাশাজনক ডিফেন্ডিংয়ে ফিলিস্তিন এগিয়ে যায়। ওদে দাবাঘ গোল করে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেন। মুসাব বাত্তাহর শট গোলকিপার মিতুল মারমা ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি, সামনে থাকা দাবাঘ আর ভুল করেননি। সহজেই জাল কাঁপান। তবে তার পেছনে ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন থাকলেও কিছুই করতে পারেননি। শুধু তাই নয় এর আগে অফসাইডের আবেদন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে সুযোগ করে দেন!

যোগ করা সময়ে বাংলাদেশ আবারও পিছিয়ে পড়ে। কর্নার থেকে সোহেল রানার পায়ে বল প্রতিহত হয়ে সামনে পড়লে তা থেকে শিহাব কামবার সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। শিহাবকে কোনও ডিফেন্ডার পাহারায় রাখার প্রয়োজনবোধ করেননি!

বিরতির পর শুরুর দিকে বাংলাদেশ দলে কোনো পরিবর্তন নেই। বিপরীতে দুই জন খেলোয়াড় পরিবর্তন ফিলিস্তিনের একাদশে। তাতেই আরো জ্বলে উঠলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পরে লাল-সবুজ দলের রক্ষণভাগ।

৪৯ মিনিটে তৃতীয় গোল করে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় ফিলিস্তিন। কর্নারে শিহাব কুম্বল রিসিভ করে জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের জোরালো শটে দলকে তৃতীয় গোল এনে দেন।

তিন মিনিট পর বাংলাদেশকে চতুর্থ গোল উপহার দেয় ফিলিস্তিন। কর্নারে ওলে দাবাঘ দারুণ এক শটে জাল কাঁপান। গোলকিপার মিতুল জায়গা থেকে নড়তে পারেননি। এরপর মিতুল আরও একটি গোলের সুযোগ প্রতিহত করেন।

৭২ মিনিটে সুমন রেজা, চন্দন রায় ও রবিউল হাসান মাঠে নামেন। শেষের দিকে জায়েদ আহমেদ ও শাকিল হোসেনও যোগ দেন। কিন্তু তাতে স্কোরে কোনো বদল আসেনি। বরং ৭৭ মিনিটে ওদেহ দাবাঘ হ্যাট্রিক করেন। প্রথম অবস্থায় মিতুল প্রতিহত করলেও পরের সুযোগ থেকে দাবাঘ নিজেই গোল করে উৎসবে আরো বাড়িয়ে দেন। রেফারি শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় নিমজ্জিত বাংলাদেশ দল। প্রবাসীদের ফিরতে হয়েছে দুঃখ নিয়ে। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে জিতে ২৬ মার্চ ঢাকার ম্যাচটির জন্য বার্তা দিয়ে রাখলো ফিলিস্তিন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]