শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৬ বছরে অগ্রগতি ১২ শতাংশ, প্রকল্পের গতি নিয়ে হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪ | প্রিন্ট

৬ বছরে অগ্রগতি ১২ শতাংশ, প্রকল্পের গতি নিয়ে হতাশা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশজুড়ে অসংখ্য গণহত্যা চালায়। ২০১৮ সালে এ রকম ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ৬ বছর পার করে ফেললেও অগ্রগতি মাত্র ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩৫টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের এমন গতি ও অবস্থা নিয়ে হতাশ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা।

বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রকল্পটির ধীরগতির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, জায়গা পাচ্ছি না, অধিগ্রহণ হচ্ছে না, তাই কাজও হচ্ছে না। বেশিরভাগ জায়গাই ব্যক্তি মালিকানাধীন। যেগুলো সরকারি বা ফ্রি পাওয়া গেছে সেগুলো হয়ে গেছে।

২০১৮ সালে এ রকম ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। চলতি বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত ৩৫টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ৬ বছর পার করে ফেললেও অগ্রগতি মাত্র ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রকল্পটির পরিচালক জানান, এ পর্যন্ত শুধু একটি অধিগ্রহণ করা জায়গায় কাজ হয়েছে। সেই ব্যক্তিও অনুমতি দিয়েছেন মাত্র দুই বছর আগে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পাঁচটি বধ্যভূমি সরক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়।

মেয়াদ বেড়েছে দুইবার
২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকার এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদফতর। তেমন অগ্রগতি না থাকায় ২০২১ সালে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আবারও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন নির্ধারণ করা হয়।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পাঁচটি বধ্যভূমি সরক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়।

জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে
বধ্যভূমির জন্য ভূমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব পুরোটাই জেলা প্রশাসনের ওপর। তারা জায়গা চূড়ান্ত করে দিলে অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই জায়গা চূড়ান্ত না হওয়ায় কাজ এগোচ্ছে না। প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলা প্রশাসকরা একটু উদ্যোগী হলেই তাড়াতাড়ি হবে।

অর্থ ছাড় ও লোকবলের সংকট
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া ৫০টি বধ্যভূমির অধিগ্রহণ থমকে আছে। ৪-৫টির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে এলেও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা আসেনি। প্রকল্পের নেই কোনো স্থায়ী প্রকল্প পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্প পরিচালকের কাজ করে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাধারণত অন্য প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট একটি জায়গাতে হয়। কিন্তু এ প্রকল্পে সারাদেশে ২৮১টি স্থান রয়েছে। একটা জমি বের করতে যদি দুই-চার বছর লাগে, তাহলে ২৮১টির ক্ষেত্রে কী হবে?

প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া ৫০টি বধ্যভূমির অধিগ্রহণ থমকে আছে। এ প্রকল্পে সারাদেশে ২৮১টি স্থান রয়েছে। একটা জমি বের করতে যদি দুই-চার বছর লাগে, তাহলে ২৮১টির ক্ষেত্রে কী হবে?

মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ
প্রকল্পের সমস্যার জন্য আমলানির্ভরতাকে দায়ী করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, মন্ত্রণালয় স্থানীয় জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনগুলোর কোনো সহায়তা নিচ্ছে না। তারা ডিসির ওপর দায়িত্ব দিয়েছে। ডিসির তো অন্য বহু প্রশাসনিক কাজ আছে। এটা করতে হবে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে।

তিনি আরো বলেন, একজন গরিব কৃষক কেন তার ফসলি জমি স্মৃতিসৌধ করার জন্য দেবেন? তাকে তো উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর অর্থ বা লোকবল না থাকলে অন্য প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কীভাবে?

মন্ত্রণালয় স্থানীয় জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনগুলোর কোনো সহায়তা নিচ্ছে না।

প্রকল্পের ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনকে আরো তাগাদা দেব আমরা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]