শনিবার ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সেবায় বাধা চিকিৎসক সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪ | প্রিন্ট

সেবায় বাধা চিকিৎসক সংকট

বরগুনায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলে হাসপাতালকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবায় চালু করা হয়েছে অটোমেশন পদ্ধতি। এতে রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর তথ্য যুক্ত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে। ফলে ভোগান্তি কমছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের। অপরদিকে, হাসপাতালে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আয়। তবে এ পদ্ধতিকে শতভাগ সফল করতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসক সংকট, জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

বরগুনা জেনারেলে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জরুরি বিভাগ কিংবা বহির্বিভাগে রেজিস্ট্রেশন করলেই তার সব বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে। এরপর হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সব বিভাগের অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে রেজিস্ট্রেশনকৃত রোগীর তথ্য। এতে কোন রোগী চিকিৎসা নিতে এসে টিকিট কাটার পরে চিকিৎসকের চেম্বারে পৌঁছানোর আগেই ডাক্তার জানতে পারছেন রোগীর সব তথ্য। এছাড়া অটোমেশন পদ্ধতি চালুর ফলে রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রেও আগাম তথ্য যাচ্ছে ল্যাবে।

হাসপাতালকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে অটোমেশন পদ্ধতি চালু করায় রোগীর ভোগান্তি কমার পাশাপাশি বন্ধ হচ্ছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কীটের অপব্যবহার। এছাড়া অটোমেশনের ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী রাজস্ব আয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২২ সালে ৩৬ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে ২০২৩ সালে আয় হয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ টাকা।

এছাড়া রেজিস্ট্রেশনকৃত একজন রোগীর তথ্য সার্ভারে সংরক্ষণ থাকায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে কি পরিমাণ ও কি কি ওষুধ নিয়েছেন এবং কতবার নিয়েছেন সব তথ্যই যুক্ত হচ্ছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে। ফলে দায়িত্বরত যে কেউ দেশের যে কোনো জায়গা থেকে এসব বিষয়ে তদারকি করতে পারছেন খুব সহজে।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা আশা সাদিয়া জামান বলেন, বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় যে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু হয়েছে এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উপকারী। আমি আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে যখন রিসিভ কাটলাম তখন দেখলাম আমার নামে একটি প্রফাইল তৈরি হয়েছে। এতে আমার চিকিৎসাজনিত সব তথ্য হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ পদ্ধতি খুবই আধুনিক, আমার ভালো লেগেছে এবং সাধারণ জনগণের জন্য এটা খুবই উপকারী মনে করি।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ আল-আমিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর পর থেকে আমরা রোগীদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করতে পারছি। প্রতিদিন কত রোগী কোনো কোনো বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন তা আমাদের লাইভ সার্ভারে যুক্ত থাকে। বহির্বিভাগ এবং ভর্তি রোগীদের জন্য কি পরিমাণ ওষুধ প্রতিদিন ব্যয় হয় এবং স্টকে আমাদের কি পরিমাণ ওষুধ আছে তা এক ক্লিকের মাধ্যমেই আমাদের কর্মকর্তারা দেখতে পারেন। এছাড়াও এ পদ্ধতি চালুর পর থেকে হাসপাতালের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে।

সুভাষ দত্ত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন, অটোমেশনের ফলে ল্যাবের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগীরা হাসপাতালে আসার পরে যে ধরনের হয়রানির শিকার হত, অটোমেশন পদ্ধতি চালুর পরে রোগীদের তেমন আর কোনো হয়রানি হতে হচ্ছে না। এছড়া এখন আমরা আমাদের কম্পিউটারে অনলাইনের মাধ্যমে তথ্য পাই কোন রোগী আসছে এবং তার কি পরীক্ষা প্রয়োজন। ফলে আমরা রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গেই তার পরীক্ষা করতে প্রস্তুতি নিতে পারায় রোগীরা কোনো হয়রানির শিকার হয় না।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, অটোমেশনের আওতায় আসতে রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক। বহির্বিভাগ ও জরুরি ভর্তিতে সবার জন্যই জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে হাসপাতালে আসা প্রয়োজন। তবে এখনো বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অনেকে পরিচয়পত্র নিয়ে আসেন না। সব রোগীকে পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে হাসপালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়ালে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দায়িত্বে থাকা নার্সরাও প্রচার করছেন, বহির্বিভাগেও নোটিশ দেওয়া আছে, সব সচেতন হলেই আমরা অটোমেশন পদ্ধতিকে শতভাগ সফল করতে পারবো।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম নজমুল আহসান বলেন, অটোমেশন পদ্ধতি বাংলাদেশের কিছু হাসপাতালে চালু রয়েছে। বরগুনা হাসপাতালেও চালু রয়েছে এ পদ্ধতি। তবে আমাদের চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে দিতে পারছি না। একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখতে হয়। ফলে এত রোগীর ব্যবস্থাপত্র কম্পিউটারে টাইপ করা একজন চিকিৎসকের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়। তবে আমরা প্রতিদিনই কিছু ব্যবস্থাপত্র অটোমেশন পদ্ধতিতে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আমরা সব ব্যবস্থাপত্রই কম্পিউটারের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসক থাকার বিপরীতে আছে মাত্র ১৬ জন। চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লেই দ্রুত অটোমেশন পদ্ধতিকে শতভাগ সফল করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, সব কিছুই ডিজিটাল হচ্ছে, সাস্থ্য বিভাগও ডিজিটাল হচ্ছে। এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে স্থানীয় কোন গড়িমসি থাকলে তা বন্ধ এবং সাধারণ জনগনের সচেতনতা বাড়াতে সবরকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, হেলথ কার্ড বা কাগজপত্রবিহীন চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করতে বর্তমানে দেশের তিনটি হাসপাতালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। তার মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালেও চলছে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রম।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]