শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যে বার্তা দিচ্ছে ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪ | প্রিন্ট

যে বার্তা দিচ্ছে ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফর

দুই দিনের সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ঢাকা ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৪টায় তাকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফর ছিলো একজন রাজনীতিকের মতো। কূটকৌশলে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার আসেন বন্ধুত্বের চেরাগ নিয়ে। ব্যস্ত ছিলেন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে। আশ্বাস দিয়ে গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোবাবিলায় পাশে থাকারও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের নড়বড়ে ভূরাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই ওয়াশিংটনের দরকার ঢাকাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু গত ১৭ মাসে তৃতীয় বারের মতো বাংলাদেশ সফর করলেন।

জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এ দেশে দৌড়ঝাঁপ করেছেন কূটনৈতিক নয়, একজন রাজনৈতিক নেতার মতো। তবে এবার নির্বাচনের চার মাসের মাথায় এ সফরে এসে তার কথাবার্তাই পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এটা প্রমাণে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে করেননি বৈঠক।

তাহলে এবার কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিলেন ডোনাল্ড লু? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নয়, নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত তারা। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পাশে থাকার টোপ দিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে বাংলাদেশের সহায়তাই তার লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের গুরুত্বটা যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি অনুভব করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। বাংলাদেশের সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন। সেদিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠন করছে। এই সম্পর্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক দিকগুলোকে তারা সামনে নিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান বলেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র এক ধরনের অবস্থানের কথা শুনে থাকি। কিন্তু এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতি, সামরিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে কোনো ধরনের নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে আগের চেয়ে বেশি সহযোগিতার মনোভাব দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- মন্তব্য করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বহুমাত্রিক সম্পর্ক বাড়াতে চায় ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করার মতো বিষয়গুলো এখন আমরা দেখছি না। এটা পরিষ্কার যে এনজিও কিংবা বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও তাদের প্রধান স্বার্থের জায়গাটা হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের স্বার্থটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া।

বিশ্ব মোড়ল চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের গ্যাঁড়াকলে যাতে বাংলাদেশ না পড়ে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটিকে কৌশলগতভাবে এড়াতে না পারলে ব্যবসা-বাণিজ্যে চাপের মুখে পড়তে পারে দেশ। সেদিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:৩০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]