সোমবার ২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নাম শুনলেই দরুদ পাঠ ওয়াজিব, কারণ…

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ | প্রিন্ট

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নাম শুনলেই দরুদ পাঠ ওয়াজিব, কারণ…

মুসলিম উম্মাহর কোনো মজলিস বা আলোচনা সভায় কিংবা কোনো লেখায় যদি বিশ্ব নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম উচ্চারণ করা হয় বা পড়া হয় তখন শ্রোতা বা পাঠককে অন্তত একবার নবীজি (সা.) এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে, তা ওয়াজিব।

তবে একই বৈঠকে বা লেখায় একাধিকবার আলোচিত হলে একবার বলা ওয়াজিব হবে আর একাধিকবার দরুদ পড়া মুস্তাহাব। এমনটিই রাসূলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) মিম্বারে আরোহণ করে বলেন, আমিন আমিন, আমিন। তাকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো কখনো এরূপ করেননি।

তিনি বলেন, জিবরাল (আ.) বলেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে জীবিত পেলো, অথচ তারা তার বেহেশতে প্রবেশের কারণ হলো না, সে অপমানিত হোক। আমি বললাম, আমিন (তাই হোক)।

অতঃপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেলো, অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না সে অপমানিত হোক। আমি বললাম, আমিন।

তিনি পুনরায় বলেন, যার সামনে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলো, অথচ সে আপনার প্রতি দুরুদ পড়লো না সে অপমানিত হোক। আমি বললাম, আমিন’। (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ৬৫০)

দরুদ হিসেবে যেকোনো দরুদ পড়লেই হবে। আমাদের মাঝে- ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ অধিক প্রচলিত। তা পড়লেও চলবে। (তথ্যসূত্র : আল কোরআনুল কারিম, ৩৩: ৫৬, তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, ৭: ২২৪-২২৫)

দরুদ পাঠের ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি দরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ প্রেরণ করবে আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। (সহিহ মুসলিম)

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি পাপ ক্ষমা করা হয় এবং তার জন্য মর্যাদার দশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (নাসায়ী)

রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে থাকবে। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কেয়ামত দিবসে লোকদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার অধিক নিকটতম হবে, যে ব্যক্তি তাদের মধ্যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজি)

রাসূলের কোনো উম্মত যদি রাসূল (সা.) এর প্রতি দরুদ পাঠ করে তাহলে তা ফেরেশতারা রাসূলের কাছে পৌঁছে দেয়। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহর কিছু সংখ্যক ফেরেশতা রয়েছেন, তারা পৃথিবীতে বিচরণ করতে থাকেন এবং আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছে দেয়। (নাসায়ী ও দারেমি)

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা আমার প্রতি দরুদ পেশ কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, নিশ্চয়ই তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছবে। (নাসায়ী)

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:১৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]