মঙ্গলবার ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জবাইয়ের পর বকরি হয়ে যায় খাসি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ | প্রিন্ট

জবাইয়ের পর বকরি হয়ে যায় খাসি!

চাঁদপুর শহরের পালবাজারে বকরি ছাগলকে খাসি বলে বিক্রি করায় ভোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। শরীয়তপুরের সখিপুর থেকে আনা হচ্ছে এসব বকরি ছাগল। ভোজন রসিকদের খাসির চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ভোক্তার সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে বাজারের কতিপয় অসাধু চক্রটি মোটা দাগে এ প্রতারণায় মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে পালবাজারে অবস্থান নিলে ভোক্তারা বকরি ছাগলকে খাসি বলে বিক্রির প্রতারণার অভিযোগ তোলেন।

ক্রেতা শ্যামল, আলমগীর, পার্থসহ আরো অনেকে জানান, পালবাজারে খাসির মাংস কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছি। ওজনে কম, মাংসে পানি প্রয়োগ, বকরির মাংস খাসি বলে চালিয়ে দেওয়া, খাসির মাংসে বকরি মিশিয়ে বিক্রি, ক্রেতার অগোচরে চর্বি, হাড় ও খাওয়ার অযোগ্য অংশ মিশিয়ে বিক্রি যেন এ বাজারে নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে মহামারি ধারণ করেছে খাসির নামে বকরি ছাগলের মাংস বিক্রি।

জানা যায়, পালবাজারে জাকির বেপারী, হানিফ ঢালী, খলিল বেপারী, আলমগীর বেপারী ও সুফিয়ান বেপারী দীর্ঘদিন ধরে খাসি বিক্রির নামে বকরি বিক্রি করে লোক ঠকাচ্ছেন। অনেক সময় এরা না থাকলেও তাদের দোকানের কর্মচারী কসাইরা একই কায়দায় লোকদের ঠকাচ্ছেন। তাই এ প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, যারা মাংস চিনে ফেলছে তাদের কাছে বকরি ছাগলের মাংস ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আর যারা চিনতে পারছে না তাদের কাছে এই বকরির মাংসই খাসির মাংস বলে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দাম কেজিপ্রতি রাখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, শরীয়তপুরের সখিপুর থেকে রোগা ও দুর্বল বকরি ছাগলগুলো কিনে আনেন এই পালবাজারের খাসি বিক্রেতারা। সকাল ৬টা হতে দুপুর ২-৩টা পর্যন্ত এসব খাসি বলে বিক্রি করে লোক ঠকাতে তারা ব্যস্ত থাকেন। সখিপুর থেকে শহরে নিয়ে আসার পর বকরি ছাগল জবাই শেষে এগুলো বিশেষ কায়দায় কসাইরা খাসিতে রূপ দেন। যা সরল বিশ্বাসে কিনে প্রতিনিয়ত ভোক্তারা ঠকছেন। প্রতারক এই সব খাসি বিক্রেতারা খাসির একটি পায়ের সঙ্গেহ জবাইয়ের পর বকরির একটি পা মিলিয়ে ঝুলিয়ে রেখে খাসির মাংস বলে বিক্রি করেন। মাংস কেটে ওজন দেওয়ার আগে পলিথিন ব্যাগে রাখার সময় হাতে লুকিয়ে রাখা চর্বি বা খাওয়ার অযোগ্য অংশও দ্রুতই মিশিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও মাংসে পানি মিশিয়েও ওজন অনেক বাড়িয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বকরি খাসি বলে বিক্রি করছেন।

মায়ের দোয়া খাসি বিতানের কর্মচারী মনির পাটোয়ারী বলেন, লবণের দাম বেশি হওয়ায় খাসি বা বকরি ছাগলের চামড়া বিক্রি করা যায় না। ঢাকাতে ২০-২৫ টাকা চামড়া। সেক্ষেত্রে আধা কেজি লবণের দাম ১৫ টাকা। তাই চামড়া এবং ময়লা আবর্জনা বস্তায় বেঁধে নদীতে ফেলে দেই। এতে আমাদের পোষায় না। সেজন্য কৌশল করে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান বাজারে খাসির আমদানি কম। এই ব্যবসায় আগের মতো লাভ নেই। ঢাকার পার্টির জন্য আমরা খাসি ছাগল কিনতে পারি না। তারা বেশি দাম দিয়ে খাসি ছাগল কিনে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। আসল খাসির মাংস ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও আমাদের পোষাচ্ছে না। তবে বকরির মাংসকে খাসির মাংস বলে বিক্রি করার অভিযোগটি পুরোপুরি সত্য নয়।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদরের এসিল্যান্ড মো. আল এমরান খান বলেন, আমরা পালবাজারের খাসির মাংসের পাশাপাশি ৪-৫টি গরুর মাংসের দোকান নিয়েও বিস্তর অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান অভিযোগ হচ্ছে পানি মিশ্রিত ও বয়স্ক গরুর মাংস বিক্রি এবং ভোক্তাদের ওজনে কম দেওয়া।
অপরদিকে, মাংস বিক্রির বাজারের সামনে ক্রেতাদেরকে নিয়ে বিক্রেতাদের টানাটানি করায় সাধারণ লোকজনও সেপথ দিয়ে যেতে বিব্রতবোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:০১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]