মঙ্গলবার ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনা কতটা লাভজনক?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ | প্রিন্ট

বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনা কতটা লাভজনক?

বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনা একটা জঘন্য রকমের ইনভেস্টমেন্ট। এর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে অ্যাসেটের দামের তুলনায় ভাড়া হাস্যকর রকমের কম!

ছোট একটা উদাহরণ দেই। ধরুন আপনি উত্তরায় ২০০০ স্কয়ার ফিটের একটা অ্যাপার্টমেন্ট কিনলেন, দাম নিল দুই কোটি টাকা। এই বাসার ভাড়া হবে বড়জোড় ৫০ হাজার টাকা।

ধরে নিলাম একজন এই বাসাটা কিনে নিজেই থাকা শুরু করলো। আমরা তার অপোরচুনিটি কস্ট ক্যালকুলেট করবো। হিসাবের সুবিধার্থে আমি ইনফ্লেশন ক্যালকুলেট করবো না, এটা উভয় পক্ষের হিসাব থেকেই বাদ যাবে।

অ্যাপার্টমেন্টটা যদি সে না কিনতো, ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে সে এই বাসাতেই এক বছরে মাত্র ৬ লাখ টাকা দিয়ে থাকতে পারবে। মানে ১০ বছর থাকতে পারবে ৬০ লাখ টাকায়। ৩০ বছর থাকতে পারবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকায়!

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, তাকে এককালীন যে ২ কোটি টাকা ইনভেস্ট করতে হতো সেটা করতেই হলো না। তার সঞ্চয় খরচ হলো না, তার চিকিৎসার সিকিউরিটি থাকলো, তাকে তার সারা জীবনের সব সঞ্চয় এক জায়গায় বিনিয়োগের ঝুকি নিতে হলো না, তাকে ঋণের দায় নিতে হলো না। এই ২ কোটি টাকা সে অন্য যেকোনো জায়গায় ইনভেস্ট করে ৩০ বছরে আরো অনেক টাকা বানাতে পারে।

ধরলাম সে ইনভেস্ট করবে না, সে সবচেয়ে বাজে উপায়ে টাকাটা ব্যবহার করবে। অর্থাৎ সে শুধু ব্যাংকে টাকাটা রেখে দেবে। ধরলাম ব্যাংক তাকে ৬% হারে সুদ দিবে। তাহলে ২ কোটি টাকায় বছরে সে পাবে ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসে ১ লাখ। ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়েও হাতে আরো ৫০ থাকে। ৩০ বছরে সংখ্যাটা ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা শুধু ইন্টারেস্টেই! সঞ্চয়পত্রে ইনভেস্ট করলে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।

আর এই ৩০ বছরে আপনার কেনা ফ্ল্যাটের চেহারার অবস্থা কি দাঁড়াবে বলেন তো? ফ্ল্যাট তো জমি না, এর ডেপ্রিসিয়েশন আছে। এখনকার বাজারে ৩০ বছরের পুরনো একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে যান, বুঝবেন। ক্রেতা পান কিনা সন্দেহ! আর নিজেরা থাকলে বিল্ডিং ভেঙ্গে আবার নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে- আরো খরচ! নিজের ফ্ল্যাটে প্রতিবেশীরা ভালো না হলে ইউ উইল বি স্টাকড, আজীবন টক্সিক একটা পরিবেশে থাকতে হবে। ভাড়া বাসায় পুরো ৩০ বছরই নতুন ফ্ল্যাটে থাকতে পারবেন, সুবিধা অনুযায়ী এলাকায় শিফট করতে পারবেন, পরিবেশ ভালো না লাগলে বদলে ফেলতে পারবেন।

অনেকে আবার লোন করে ফ্ল্যাট কিনে। ৩০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে যে ফ্ল্যাটে থাকা যায়, সেই ফ্ল্যাটে ডাউন পেমেন্টের টাকা পকেট থেকে দিয়ে ৩০ হাজার টাকা প্রতি মাসে কিস্তি দেয়। অ্যাসেট হয়ে যায় লায়াবিলিটি, প্রতি মাসে যার খরচ ১০ হাজার টাকা!

নিজের বাড়ি একটা বিংশ শতকের এলিটিস্ট আবেগ। একে প্রশ্রয় না দিয়ে স্মার্ট হোন!

বড়জোড় একটা জমি কিনে রেখে ভাড়া থেকে জীবন কাটায় দেন!

(ডিসক্লেইমার: আমি অবশ্যই বলছি না যে টাকা নিয়ে ব্যাংকে ফেলে রাখা ভালো জিনিস। এটা টাকার সবচেয়ে বাজে ব্যবহার। উদাহরণ টানলাম এটা বোঝাতে যে টাকার সবচেয়ে বাজে ব্যবহারও ফ্ল্যাট কেনার চেয়ে ভালো)!

সূত্র: লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]