রবিবার ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুলাদীতে ৩৭ বোমা উদ্ধারের নেপথ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৭ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট

মুলাদীতে ৩৭ বোমা উদ্ধারের নেপথ্যে

বরিশাল জেলার নদীবেষ্টিত মুলাদী সরকারি কলেজের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে ৩৭টি বোমা উদ্ধারের নেপথ্যের প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপে মুলাদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৭ মে বিশেষ এক প্রার্থীর পক্ষে বোমা বানানোর একটি টিম মুলাদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শুক্কুর চেয়ারম্যানের বাড়ির পিছনে আসে। সে সময় জুবায়ের রানা ও জুয়েল হাওলাদারের নেতৃত্বে বোমা তৈরির টিমকে রিসিভের পর বোমা তৈরির কাজ শুরু করা হয়।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত চারটি বোমা বিস্ফোরিত হয়ে তিনজন আহত হয়। আহতরা হলো- বোমা তৈরির কারিগর উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে রবিন হাওলাদার। আহত রবিন গাজীপুরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্যরা হলো, একই গ্রামের দাদন হাওলাদারের ছেলে ইয়াকুব হাওলাদার ও ভেদুরিয়া গ্রামের সালাম মুন্সীর ছেলে শাকিল মুন্সি।

সূত্রে আরও জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় বোমা তৈরির কারিগর উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের বাদল হাওলাদার, বড় লক্ষীপুর গ্রামের রিপন মোল্লা ওরফে আলু রিপন, আওলাদ আকন, শরীয়াতুল্লাহ হাওলাদার, উত্তর পাতার চর সফিপুর গ্রামের জসিম মাতুব্বরকে এনে বোমা তৈরি করানো হয়। এ সময় ওইসব বোমা তৈরির কারিগরদের মুলাদীতে নিয়ে আসে বেদরিয়া সফিপুর গ্রামের আরিফ মুন্সী, উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের সুজন মাঝি ও চর মালিয়া গ্রামের নুরু মল্লিক। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওইসব ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পারলে বোমা তৈরি ও উদ্ধারের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া বলেন, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি মুলাদী সরকারি কলেজের পূর্বপাশের পরিত্যক্ত ভবনে তিন ব্যাগ হাতবোমা সদৃশ বস্তু দেখে থানা পুলিশকে খবর দেন। ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ভবনটি পুলিশ পাহারায় রেখে ঢাকায় বোমা নিষ্ক্রিয় ইউনিটে খবর দেওয়া হয়। গত ২৯ মে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বোমা নিস্কিয়করণ ইউনিটের উপ-পরিদর্শক মো. গোলাম মর্তুজার নেতৃত্বে চার সদস্যর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা তিনটি ব্যাগ থেকে ৩৭টি হাতবোমা উদ্ধার করার পর তা নিষ্ক্রিয় করে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি নাশকতা মামলা দায়ের করেছে। পুরো বিষয়টির গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সদ্য সমাপ্ত দ্বিতীয় ধাপে মুলাদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নাশকতার মাধ্যমে কেন্দ্র দখল করার জন্য দুর্বৃত্তরা কলেজের পরিত্যক্ত ভবনে হাতবোমাগুলো জড়ো করেছিল। কিন্ত শেষপর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে দুর্বৃত্তরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

অভিযোগের ব্যাপারে জুবায়ের রানা ও জুয়েল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আমরা মুলাদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারিকুল হাসান খান মিঠুর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। তিনি (মিঠু) পরাজিত হওয়ায় এখন বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী তার লোকজন দিয়ে আমাদের হয়রানী করার জন্য মিথ্যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:২৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ জুন ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]