সোমবার ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনিয়মের ‘আঁতুড়ঘর’ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪ | প্রিন্ট

অনিয়মের ‘আঁতুড়ঘর’ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন বোর্ডের বর্তমান সচিব ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলে। সেই পরীক্ষায় প্রভাব খাটিয়ে ছেলেকে জিপিএ-৫ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তদন্তে কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর।

গত ২৮ মে নারায়ণ চন্দ্র নাথকে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন অধিদফতরের মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন। এরপর সোমবার (৩ জুন) কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে তদন্ত করেন।

তদন্তকালে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর ফর্দ চান কমিটির সদস্যরা। কিন্তু তা দিতে পারেনি বোর্ড কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বেরিয়ে আসে এ বোর্ডের অধীনে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও দুই পরীক্ষার্থীর পাস করার তথ্য।

এদিকে, নম্বর ফর্দ খোয়া যাওয়ার বিষয়ে পরদিন মঙ্গলবার (৪ জুন) নগরের পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দিদারুল আলম।

জিডিতে দিদারুল আলম উল্লেখ করেন, তার অফিস কক্ষে সংরক্ষিত তিনটি ট্রাঙ্কে ২০২৩ সালের এইচএসসির শিক্ষার্থীদের লক্ষাধিক নম্বর ফর্দ রক্ষিত ছিল। গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়- ঐ তিনটি ট্রাঙ্কের মধ্যে একটিতে তালা নেই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়। পরবর্তীতে সোমবার (৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে তদন্ত কমিটির নির্দেশক্রমে শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভাঙা ট্রাঙ্কটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়- সেখানে দুটি নম্বর ফর্দ নেই।

জিডিতে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষের ট্রাঙ্কের কথা বলা হলেও এ কক্ষের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চাম্বল উচ্চবিদ্যালয় থেকে অংশ নেন ৭৩ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৭২ জন। এক শিক্ষার্থী রসায়ন বিষয়ে ফেল করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পরীক্ষায় অংশ না নেয়া দুই শিক্ষার্থীর রোলও এসেছে পাস করা তালিকায়।

জিডির বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, জিডি হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এ এম এম মুজিবুর রহমান বলেন, সুরক্ষিত কক্ষের ট্রাঙ্ক থেকে নম্বর ফর্দ গায়েবের ঘটনায় জিডি হয়েছে তা আমি জানি না। এক্ষেত্রে আমার কাছে কোনো অনুমতিও নেয়া হয়নি। আর দুই পরীক্ষার্থী পাসের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, নম্বর ফর্দ গায়েব ও পরীক্ষায় না বসেও দুজনের জিপিএ-৫ পাওয়া; সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া নম্বর ফর্দ গায়েবের বিষয়টি আমাকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৯ জুন ২০২৪

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া
সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭। সম্পাদক কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি), মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

ফোন : ০১৯১৪৭৫৩৮৬৮

E-mail: [email protected]