• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    টবে ফুটবে নজর কাড়া লিলি ফুল

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | ১৬ এপ্রিল ২০১৭ | ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

    টবে ফুটবে নজর কাড়া লিলি ফুল

    শুদ্ধতা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক ফুল শ্রদ্ধা প্রকাশের উপকরণ ভালোবাসার অর্ঘ্য, প্রার্থনার নৈবেদ্য, বাঙালীর জীবনাচরন, সংস্কৃতির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে এর সৌরভ। বসন্তবরন, ভালোবাসা দিবস, পয়লা বৈশাখ পয়লা জানুয়ারী সবি তো পুষ্পশোভিত। প্রেমিকার খোঁপা হতে শুরু করে গায়ে হলুদ ও ফুলশয্যা সবখানেই এর রঙ্গিন উপস্থিতি।


    পরম করুনাময়ের কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করে বছরটা সকলে মিলে আসুন শুরু করি মনোরম কিছু ফুল চর্চা দিয়ে। সেই অতি পরিচিত বাক্যটি আমরা সকলে্ই জানি। যথা ” জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি’,দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী ” । অতীতকালে ফুল কেবল মানুষের মনের ক্ষুধা মেটালেও, এখন আজকের এই মুক্ত বাণিজ্যের দিনে ফুল থেকে উপার্জিত আয়ে অনেকেরই পেটের ক্ষুধা মিটছে। তাই সৌন্দর্য চর্চার সাথে সমাজের জন্য কিছু বৈষয়িক সাফল্যও আসতে পারে এই ফুল চর্চার মাধ্যমে । ফুলের রানী গোলাপ আর জাতীয় ফুল শাপলা তথা ওয়াটার লিলিকে স্বরণে রেখে আমরা কিছুটা সময় ব্যয় করতে পারি বিবিধ প্রকারের লিলি ফুলের মহাত্য কথায় । বাংলার মাটিতে লিলি যে কত অপরূপ হতে পারে তা হাতে নাতে না ফুটাতে পারলে বিশ্বাসই করা যাবে না। কন্দ অর্থাৎ পিঁয়াজের মতো মূল হতে দৃঢ় সবুজ পাতা ঠেলে বার হওয়ার আগেই একহাত লম্বা একটি সজীব দন্ড আত্মপ্রকাশ করে কয়েকটি দৃস্টি নন্দন পাপরি মেলে যে ফুল ফুটে তা লিলি হিসাবেই সমধিক পরিচিত ।


    লিলি নানা ধরনের আছে

    সমধিক পরিচিত জাতগুলি হলো রোজ লিলি এমারিলিস লিলি, টাইগার লিলি, ইস্টার লিলি, বল লিলি, হিমান্থাস লিলি , ম্যাগেলা লিলি, স্পাইডার লিলি,বারমুডা লিলি ওয়াটার লিলি প্রভৃতি।

    লিলি ফুলের চাষাবাদ পদ্ধতি

    এবার আসা যাক লিলি তৈরির সহজ পদ্ধতিটা নিয়া একটু আলোচনায় । খুব সহজেই তৈরি করা যায় লিলি। বাল্ব তথা মুল কিনে অথবা সংগ্রহে থাকলে সেই বাল্ব মাটিতে অথবা টবে লাগাতে হবে । জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এটা লাগানোর উপযুক্ত সময় । এমনকি এপ্রিলেও। লাগানোর পরে সপ্তাহ ছয়েকের মধ্যেই ফুল ফুটবে । ফুল ফুটার সময় চিনে নেয়া যায় পাতার মাঝখানে সাদা দাগ দেখে।
    বাল্ব বা পেয়াজ সদৃশ্য মুল থেকে জন্ম নেয় গাছ ও লিলি ফুল ।

    টবে গাছ লাগানোর পদ্ধতি

    প্রায় ১০-১২ ইঞ্চি গভীরতার পট বা টব ব্যবহার করা যেতে পারে । ইউরিয়া , ফসফেট আর অল্প পটাশ সার মেশাতে হবে। এর থেকে একমুঠো অর্থাৎ প্রায় ২৫ গ্রাম পরিমান একটি টবের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে । খোলা মাটিতে করলেও এই সার একমুঠো দিলেই হবে। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে পুষ্পদন্ড। ফুল ফুটতে দেড় দু-মাস লাগবে। ফুল ফোটার আগে দিনে দুবার হালকা পাতলা জল দিতে হবে । এক একটা গাছে চারটে স্টিক আসতে পারে পরপর। এক একটা স্টিকে থাকবে কয়েকটি ফুল। ফুলের শোভা মন ভরানোর পর ফুল শুকিয়ে কিছু দিনের মধ্যে পাতাও শুকিয়ে যাবে। আর বর্ষা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে তুলে ধূয়ে শুকনো করে সংরক্ষণ করতে হবে । টবে দু-এক বছর থেকেও যেতে পারে যদি গায়ে অতিরিক্ত জল না বসে।

    বল লিলি বা হিমান্থাস লাল রঙ ছাড়াও হলুদ, গোলাপি আর নীল হতে পারে । বল লিলি বাগানে বা টবে পুঁতে রাখলে মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে পুষ্পদন্ড আর তার মাথায় দেখা দেবে ফুটবল আকৃতির চমৎকার ফুল। এরা যত্নের তেমন তোয়াক্কা করে না। আধাছায়া জায়গাতেও হয়। স্রেফ দন্ড লাগিয়ে কয়েকদিন জল দিয়ে গেলে হঠাৎ দেখা যাবে ভুঁইফোড় রঙিন গোলক। টাইগার লিলিও প্রায় অযত্নে হয়। রঙও দুর্দান্ত।

    টাইগার লিলি, ইস্টার লিলি , স্পাইডার লিলি , বারমুডা লিলি অপূর্ব দর্শন , প্রজাপতির ভীষন নজর কাড়ে। টবে বসানোর চার থেকে ছ-সপ্তাহের মধ্যেই সুন্দর ফুল হবে। হাইব্রিড এমারিলিস নানা রঙ আর আকৃতির, এশিয়াটিক, ওরিয়েন্টাল হাইব্রিড লিলির ঝাঁক ভর্তি ফুল মন মাতাবেই। এই সব গাছই আধ ছায়া বা কিছুটা রোদ আসা জায়গায় ভাল ফুল দেবে যত্নও সামান্যই লাগে ।

    কাগজের প্যাকেজের মধ্যে লিলির বাল্ব বা মূল বিক্রয়

    কাগজের প্যাকেজের মধ্যে লিলির বাল্ব বিক্রয় হচ্ছে বিশ্বের নামকরা সব ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে । কাগজের প্যাকেজের মোরকের ভিতরে প্লাস্টিকের সুন্দর টবের ভিতরে বাল্ব থেকে কুড়ি অল্প অল্প করে বাড়তে থাকে । দোকান থেকে কিনে ঘরে নিয়ে গিয়ে মোরকটি খোলে টবটি বেড় করলে দেখা যায় যে কাগজের বক্সের ভিতরে থেকেই ৮/১০ ইঞ্চি বড় হয়ে গেছে জড়সর হয়ে থাকা কুড়িটি । কিছুই আর করতে হয়না ,শুধু সুবিধামত জানালার কাছে পছন্দের জায়গায় রেখে দিনে একবার করে গাছের গোরায় হালকা পানি দিলে ৬ হতে ৮ সপ্তাহের মধ্যে অপরূপ লিলি ফুটে উঠবে । উৎসব ও ক্রিসমাস পিরিয়ডে এই রকম কাগজের প্যকেটে লিলি বাজার হতে কিনে নিয়ে উপহার হিসাবে দেয়া হয় প্রিয়জনে , হাতে হাতে, ডাকে কিংবা কুরিয়ারে ।

    বাংলাদেশে লিলি ফুলের বানিজ্যিক সম্ভাবনা

    কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে ফুল চাষের সম্ভাবনা বিশাল এবং এই খাত থেকে বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ফুলের বিশ্ববাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার, অবশ্য এর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার এখন পর্যন্ত খুবই নগন্য । ২০১৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় শুন্য দশমিক এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের ফুল বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে বলে ইপিবি সুত্রে জানা যায় । বাংলাদেশ হতে ফুল , ভারত, পাকিস্তান , ইটালী, পর্তুগাল, সৌদি আরব,মার্কিন যুক্তরাস্ট , গ্রেট ব্রিটেন , দক্ষীন কোরিয়া, ফিলিপাইন, সিংগাপুর, জাপান , জার্মানী, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে রপ্তানী হয় । বাংলাদেশ থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা ফুলের মধ্যে বেশির ভাগই গোলাপ। এর সাথে যুক্ত হতে পারে এই অধিক মুল্য সংযোজনক্ষম লিলি ফুল ।

    আমাদের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬০ ভাগ যেহেতু কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, ফুল চাষের দিকে একটু মনোযোগী হলে এই খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতি মিলিয়ে কমপক্ষে প্রায় ৫০০ ধরনের ফুল পাওয়া যায়। যেহেতু লিলি ফুলকে শীত ও বসন্তকালে ঘরের ভিতরই বা আঙ্গিনার ছোট বাগানে চাষ করা যায় সেহেতু এর সাথে দেশের মেধাবী তরুন ও সৌখীন ফুল প্রেমিকদেরকে উদ্ভোদ্ করা যায় । ঘরের সৌন্দর্য বর্ধনের সাথে সাথে এর মাধ্যমে কিছু উপার্জন ও হতে পারে তাদের ।

    প্রায় ১ কোটি বঙ্গসন্তান এখন ছড়িয়ে আছেন সারা দুনিয়া জুড়ে । অন্তরজালের এই গ্লোবাল ই কমার্সের যুগে ঘরে বসেই অনলাইন সুযোগ গ্রহন করে অনেকেই তাদের প্রিয়জনকে বিশেষ দিনে বা উপলক্ষে উপহার দিতে পারেন লিলি সহ যে কোন ফুল সম্ভার ।

    পরিশেষে বলা যায় অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে সরকারিভাবে ফুল চাষের ব্যাপারে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা এখনো খুবই অপর্যাপ্ত। খাতটির সম্ভাবনার তুলনায় তা একেবারেই নগণ্য। আধুনিক প্রযুক্তি, ফুলের জাত উন্নয়ন, সংরক্ষণের ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ইত্যাদি বিষয়ের দিকে সরকারি আগ্রহ এবং নজরদারি না বাড়ালে আমাদের এই সম্ভাবনাময় খাতটি খুব বেশি দূর যেতে পারবে না। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের ফুলের বাণিজ্যিক খামারগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে লাগাতে হবে । এ জন্য প্রয়োজন তাদের সাথে যথাযথ পর্যায়ে কারিগরী সহায়তা কর্মসুচী প্রনয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদেরকে সম্পৃক্ত করন ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344