• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রাজনীতিকদের প্রফাইল তৈরি করছে পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৮ মে ২০১৭ | ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ

    রাজনীতিকদের প্রফাইল তৈরি করছে পুলিশ

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিবিদদের প্রফাইল তৈরি করছে পুলিশ। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পুলিশের একটি সংস্থা দেশের সব থানার ওসিকে চিঠি দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করতে বলে। এরপর থানা থেকে নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। কেউ কেউ সে চিঠির জবাব দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে তালিকাভুক্তদের দলীয় পরিচয় ও পদবি উল্লেখ করেনি পুলিশ। তালিকায় বিএনপি নেতাই বেশি। অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নামেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাদ যাননি জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নেতারাও। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, হয়রানি করতেই তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে হয়রানির কিছু নেই। বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।


    পুুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাঁরা সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন, মূলত তাঁদের প্রফাইল তৈরি করা হচ্ছে। তিন পৃষ্ঠার ছাপানো ফরমে ৩৩টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে ছবিও।


    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতরা যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সে জন্য এখন থেকেই নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে, নাম (ডাকনামসহ যদি থাকে), মা-বাবার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, জন্মতারিখ ও জন্মস্থান, উচ্চতা ও গায়ের রং, শারীরিক গঠন ও শনাক্তকরণ চিহ্ন, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ইস্যু ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, টেলিফোন বা মোবাইল নম্বর, পেশাগত বৃত্তান্ত, সংস্থার নাম, পদবি, চাকরি যোগদানের তারিখ, পদোন্নতির তারিখ, বর্তমান পদের নাম, সর্বশেষ পদোন্নতির তারিখ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, ব্যবসার ধরন, ব্যবসায় যোগদানের তারিখ, বিনিয়োগের পরিমাণ, ব্যবসায়িক আয় ও আয়ের উৎস, আয়কর প্রদান করেন কি না (টিআইএন),

    রাজনৈতিক পরিচিতি ও বৃত্তান্ত (উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিবরণসহ), দলের নাম, যোগদানের তারিখ ও সময়, পূর্ব/বর্তমান পদের নাম, পূর্বের কর্মকাণ্ডের বিবরণ, বর্তমান কর্মকাণ্ড, নির্বাচনে অংশগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য (ছাত্র/স্থানীয় সরকার/জাতীয় সংসদ/অন্যান্য), নির্বাচনের নাম, যে পদে প্রার্থী ছিলেন, নির্বাচনের সন ও তারিখ, নির্বাচনের ফলাফল, মন্তব্য, মামলা/জিডির বিবরণ (নম্বর, তারিখ, ধারা, বর্তমান অবস্থানসহ), জেলা ও থানার নাম, মামলা/জিডি নম্বর ও তারিখ, ধারা, এফআইআর/জিডি কপি সংযুক্ত, সিএস/এফআরটি নম্বর ও তারিখ, সাজা/খালাস, সাজার বিবরণ, গ্রেপ্তার/আটকাদেশ হলে সে-সংক্রান্ত তথ্য, গ্রেপ্তারের তারিখ, জামিন পাওয়ার তারিখ, সর্বশেষ মুক্তির তারিখ, সম্পদের বিবরণ, স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ, পরিমাণ, মূল্য, অবস্থান ও ঠিকানা, নগদ টাকার পরিমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (নম্বরসমূহ), ক্রেডিট কার্ড, ইনস্যুরেন্স পলিসি, ই-মেইল অ্যাড্রেস, ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস (যদি থাকে), নিজ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের গাড়ি নম্বর (যদি থাকে), ঘনিষ্ঠ মিত্র ও শত্রুসংক্রান্ত তথ্য (তাদের পেশার বিবরণসহ), ঘনিষ্ঠ মিত্রদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা, সম্পর্ক, পেশাসংক্রান্ত তথ্য, মোবাইল নম্বর, ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্র, অ্যাকাউন্ট নম্বর, শত্রুদের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা, শত্রু ব্যক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক থাকলে তাদের নাম ও ঠিকানা, চারিত্রিক দুর্বলতা বা বদ-অভ্যাস (যদি থাকে), শিল্প/সাহিত্য/অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয়/আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি (যদি থাকে), দুর্নীতি, চরমপন্থী, জঙ্গিবাদ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্যাদি, স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তিসহ অন্যান্য বিষয়।

    সূত্র আরো জানায়, যাঁদের এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে আছেন মো. নুরুল ইসলাম মঞ্জু, এমডি লিয়াকত লিয়াকত আলী, শেখ বাদশা, আবদুস সোবহান, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আকন কুদ্দুসুর রহমান, অ্যাডভোকেট হাসিনা আহম্মেদ, জাকারিয়া তাহের সুমন, মাজেদা আহসান, হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, এস এম আলাউদ্দিন ভূইয়া, মোবাশ্বর আলম ভূইয়া, সৈয়দ আবদাল আহম্মেদ, কাজী আনোয়ার হোসেন, এস এ কে একরামুজ্জামান, তকদির হোসেন মো. জসিম, ব্যারিস্টার এম সানোয়ার হোসেন, আলহাজ মোহাম্মদ শাহজাহান খান, এ বি এম মোশারফ হোসেন, সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মো. খালেদ হোসেন, মাহবুব শ্যামল, আলহাজ ডা. মো. জালাল উদ্দিন, এম এ হান্নান, লায়ন মো. হারুনুর রশীদ, রোটারি মাহবুবুর রহমান শামীম, শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, রাশেদা বেগম হিরা, শফিউল বারী বাবু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, মো. সাহাবুদ্দিন সাবু, রেহানা আক্তার রানু, এ এন এম আবেদ রাজা, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজী মুজিব, আবুল মনসুর, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, এস এম ফয়সাল, মিঞা আহম্মেদ কিবরিয়া, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ। চিঠিতে কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা না হলেও তাঁদের বেশির ভাগই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘পুলিশের একটি চিঠি পেয়েছি। তথ্য চাইলেই তো হবে না। আমরা বাংলাদেশি নাগরিক। তারা আমার বাপ-দাদার পরিচয় জানতে চেয়েছে। এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছুই হতে পারে না। তবে ওই চিঠির উত্তর আমি দেব না। এ ব্যাপারে আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবছি। আমার নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না কেউ। ব্যাংক হিসাব তারা চাইতে পারে না। চরিত্র কেমন, তাও তাদের জানাতে হবে—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?’

    কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফফর আহম্মদ বলেন,‘মাসখানেক আগে আমার কাছে চিঠি পাঠায় পুলিশ। কী তথ্য দেব বুঝতে পারছি না। চারিত্রিক সনদও নাকি দিতে হবে। এর চেয়ে দুঃখজনক কী হতে পারে? তার পরও যেসব তথ্য দিলে চলবে, তা দিয়ে দেব। ’

    একই কথা জানিয়েছেন ফেনীর ফুলগাজী ও সোনাগাজীর একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা। তবে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। কুমিল্লার কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, তাঁরাও পুলিশের চিঠি পেয়েছেন। তাঁরা শুধু নিজের নাম ও ঠিকানা দিয়েছেন। জামায়াতের কয়েকজন নেতাও চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁরা তথ্য দেননি।

    বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ‘আমাকে দু-তিনবার ফোন করা হয়েছিল। ব্যস্ততার কারণে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়ে ওঠেনি। তাদের দায়িত্ব তারা পালন করছে। যতটুকু খবর পাচ্ছি থানা পর্যায়েও তারা খোঁজখবর নিচ্ছে। ’

    বিএনপির ময়মনসিংহের বিভাগীয় সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, ‘আমার কাছে আগেই তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ তথ্যই আমার এলাকা থেকে তারা সংগ্রহ করেছে বলে জানতে পেরেছি। ’

    বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘দুই মাস আগে পুলিশ আমার ঢাকার বাসা থেকে তথ্যসংবলিত ফরম নিয়ে গেছে, যেখানে আমাকে স্বাক্ষরও করতে হয়েছে। ’

    বিএনপি নেত্রী রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘সরকার ভয়ে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করছে। আমার নামে চিঠি পাঠিয়েছে। এমন এমন তথ্য চেয়েছে, যা দিতে পারব না। তার পরও নাম-ঠিকানা জানিয়ে চিঠির জবাব দিয়েছি। আগামী নির্বাচনে যাতে অংশ নিতে না পারি, সে জন্য সব ধরনের কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। আমার এলাকা ফেনীতেও নেতাদের নামে চিঠি এসেছে বলে শুনেছি। ’

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344