• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    বিকাশ পরিবহনে তিন ঘণ্টা

    মাহবুব হাসান বাবর | ০১ মার্চ ২০১৭ | ১১:০২ অপরাহ্ণ

    বিকাশ পরিবহনে তিন ঘণ্টা

    অনেকদিন পর বিকাশ পরিবহন নামক একটি ভিআইপি গাড়ীতে উঠিয়া ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হইলাম। সদা হাস্যমুখ খালাতো ভাই আরেফিন মুক্তা আমার চকচকে কালো বউয়ের টিকিটটা ফ্রি করিয়া আমার ভাড়া আশিটি টাকা গাড়ীর সুপারভাইজারের হাতে গুঁজিয়া দিলেো। গাড়ী একটু বিলম্বে ছাড়িবে বিধায় দীর্ঘক্ষন দাড়াইয়া আমরা বিভিন্ন বিষয়াদি আলোচনার পর গাড়ীতে উঠিলাম।গাড়ীর ভিতরে যাইয়া মনটা খুশিতে নাচিয়া উঠিলো। কেননা প্রায় পুরা গাড়িটিই ফাঁকা।যাত্রী সব মিলিয়া তেরোজন ।
    তারমধ্যে চারজন যাইবেন ফরিদপুর।গ্লাস ভাংগা জানালা দিয়া প্রকৃতি দেখা শুরু করিলাম। জীবনে এই প্রথম একটা শব্দ কর্নকুহুরে বারবার শুনিতে লাগিলাম তা হইলো, ডাইরেক গাড়ীর সুপারভাইজার আর হেল্পার ফরিদপুর আর ভাংগা বলিয়া যাত্রীদের ডাকিতেছে। কিন্তু কোন যাত্রী তাদের ডাকে সাড়া দিলোনা।গাড়িটির বাহিরের সৌন্দর্য দেখিয়া কোন যাত্রীরই বোধ হইলোনা যে ইহা একটি ডাইরেক্ট ঢাকা যাওয়ার গাড়ী। গাড়িটির যখন যৌবন ছিলো তখন এই গাড়ীটিই ছিলো ঢাকা-মুকসুদপুর যাইবার একমাত্র বাহন। এটা ভাবিয়া কতইনা মধুর স্মৃতি মনে পড়িলো। যাইহোক একসময় গাড়ীখানা চলা আরম্ভ করিলো।ডাইরেক গাড়ীতে এতো ফাঁকা ছিট পাইয়া নিজেকে অসম্ভব ভাগ্যবান মনে হইলো। জানালায় কাচ না থাকিবার কারনে বাতাস আর প্রকৃতির এক অসম্ভব চিত্রনাট্যর দৃশ্য অবলোকন করিতে থাকিলাম। কিন্তু মাথার উপরে বারবার কি যেন বাধিতেছিল।চেয়ে দেখি একটি ত্যনা। আমার কালো বউটাকে বলিলাম ত্যনাটা সরাইয়া দিতে। বউ বলিলো আস্তে বলো, ওটা ত্যনা না ওটা হচ্ছে জানালার পর্দা। আমি তাকাইয়া রহিলাম ঐটার দিকে। ময়লা আর বয়সের কাছে ত্যনা না বলিয়া দশমাইল বলিলে ভুল হইবেনা। গাড়ীটা হঠাৎ থামিলো। চেয়ে দেখি জয়বাংলা। ফিলিংষ্টেশনে তেল লইবে। এখানেই প্রথম বিপত্তি শুরু হইলো।তেল লইবার পর গাড়িটি বিগড়াইয়া বসিলো। কিছুতেই স্টাট হইলোনা।
    ড্রাইভার সাহেব মুখখানা কাঁচুমাচু করিয়া আমাদের বলিলো ভাই আপনারা নামিয়া ধাক্কা দিলে গাড়িটি স্টাট হইবে। একজন স্যুট -টাই পরা ভদ্রলোক গাড়ীর লোকদের গুস্টি উদ্বার করিলো কয়েকবার। উপায়ন্তর না পাইয়া সবাই নামিয়া ঠেলা মারিলাম।কিন্তু প্রথম দুইবার গাড়িটি স্টাট হইলোনা। তৃতীবারের মাথায় বিকট শব্দ নিয়া স্টাট হইলো। আমার বউ দুরের দাড়াইয়া দাত বাহির করিয়া হাসিতেছিল আর এই ফাকে সে মোবাইলে কিছু ছবি তুলিতে থাকিলো। গাড়িতে সবাই উঠিয়া পড়িলাম।গাড়িখানা অটোরিক্সার গতিতে চলিতে থাকিলো। কিছুক্ষন চলার পর ভাংগা আসিয়া পৌছাইলাম। বাসের হেল্পার ঢাকা ঢাকা বলিয়া গলা ফাটাইতে থাকিলো কিন্তু এবারও কোন যাত্রীরা মন গলিলোনা। যাত্রীদের মন গলিলো পাশেই দাড়াইয়া থাকা আজমিরি- কমফোর্ট গাড়িতে। আমাদের চিৎকারে আধঘন্টা পর গাড়িটি চলিতে লাগিলো। হঠাৎ গাড়ীর ভেতর মুরগী ডাকার শব্দে সবাই পেছনে ফিরিয়া তাকাইলো। আমিও তাকাইয়া দেখি চাচী- মামী বয়সের এক মহিলার হাতে মুরগী। বিরক্তি আর হাসিটা নিয়ে সবাই পুনরায় যার যার সম্মুখপানে তাকাইলো। গাড়ী পুকুরিয়া পৌছাতেই এক বয়স্ক যাত্রী গাড়ী থামান থামান বলিয়া চিল্লাইয়া উঠিলো। মেয়ে জামাইর জন্য আনা কই মাছের পাতিলটি কাত হইয়া পড়িয়া পুরা বাসটায় মাছ ছড়াইয়া পড়িলো। সেই সাথে মাছের পানির গন্ধে প্রায় যাত্রীরই বমি আসার উপক্রম হইলো। গাড়ির হেল্পার আসিয়া তাকে বকাঝকা করিয়া নিজেই মাছ খুঁজিয়া পাতিলে রাখা শুরু করিলো।কিছুসময় গাড়ি পুকুরিয়া থামিয়া থাকিলো। তিনটি মাছ না পাইয়া লোকটি সবার ছিটের মধ্যে মাথা ঢুকাইয়া খুঁজিতে লাগিলো।
    গাড়ির ড্রাইভারের খাখানিতে সে লোকটি শান্ত হইয়া ছিটে বসিলো। গাড়িটি দীর্ঘক্ষন পর আবার হেলিয়া দুলিয়া চলিতে থাকিলো।গাড়ি চলিতে চলিতে ঝিমুনি আসিয়া গেল। হঠাৎ বিকট একটা শব্দে সব যাত্রীরা ভয় পাইয়া এদিক ওদিক তাকাইতে লাগিলো। চাকা পাংচার। আমার বউ আমাকে গালি দিয়া বলিলো,আমি নাকি টাকা বাঁচানোর জন্য এমন গাড়িতে আসিয়াছি। ভয়ে কোন কথা বলিলাম না। চুপচাপ বসিয়া রহিলাম।সাতাইশ মিনিট পর গাড়িটি আবার চলিতে থাকিলো।চলিতে চলিতে তালমা মোড়ে আসিয়া গাড়িটার স্টাট হঠাৎ বন্ধ হইয়া গেলো। কেউ নামিলোনা গাড়ি হইতে। কিছুক্ষন পর ঢাকা যাওয়ার যাত্রীগুলো চিল্লা চিল্লা করিতে থাকিলো। কেউ কেউ ড্রাইভার সুপার ভাইজার আর হেল্পারের সাথে দূর্ব্যবহার করিলো। পনের মিনিট পর সংবাদ আসিলো ফরিদপুর হইতে গাড়ি আসিবে।ঐ গাড়িতেই ঢাকা যাইতে হইবে। আমরা দুইজন গাড়ী হইতে নামিয়া লোকাল বাসে উঠিলাম। প্রায় তিন ঘন্টা পর ফরিদপুর পৌছাইয়া হাপ ছাড়িলাম। গাড়ি হইতে নামার পর দেখি আমার বউ কাঁদিতেছে। আমি বলিলাম কি হইয়াছে? সে বলিলো, তোমার সাথে বিয়ে হইবার পর আমি একদিনও শান্তি পাইলাম না।আমি অবুঝের মতো তার চকচকে কালো মুখখানার দিকে তাকাইয়া রহিলাম।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    সমুদ্রসুন্দরী জেলিফিশ

    ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344