• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    গোপালগঞ্জে বিশ্বমানের আধুনিক চক্ষু চিকিৎসায় আলো ছড়াচ্ছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল

    গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : | ২২ মে ২০১৮ | ১:৪৩ অপরাহ্ণ

    গোপালগঞ্জে বিশ্বমানের আধুনিক চক্ষু চিকিৎসায় আলো ছড়াচ্ছে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল

    গোপালগঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষন ইনিষ্টিটিউশন উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানে দেশের মধ্যে একটি অনন্য দৃস্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আধুনিক এ চক্ষু হাসপাতালটি বর্তমানে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের একমাত্র ভরসার স্থান বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩ লক্ষ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের চক্ষু সেবা প্রদান ও ১০ হাজার মানুষের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হয়েছে এ হাসপাতালের তত্বাবধানে। সেবার মান অব্যহত ও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মস্থান টুঙ্গিপাড়া উপজেলাকে ইতিমধ্যে সানি মুক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলাকে সানি মুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কর্মকৌশল নির্ধারন করা হয়েছে।
    এছাড়াও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন রেটিনা বিভাগ, গ্লুকোমা বিভাগ, শিশু চক্ষু বিভাগসহ নতুন নতুন বিভাগ খুলে উন্নত চক্ষু সেবা প্রদান করার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য লিটল আই ডাক্তার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বঙ্গমাতা লাইট হাউজ প্রকল্পের মাধমে স্কুলে স্কুলে গিয়ে করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের চোখ পরীক্ষা। স্যাটেলাইট আই ক্যাম্প স্থাপনের পাশপাশি জনগোষ্ঠিকে সচেতন করতে আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও নানান ধরনের উদ্বুদ্ধ করন কার্যক্রম। জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ কার্যক্রমকে পৌছে দিতে ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেযারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা ও গণমাধ্যমকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সেই সাথে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পর্যায়ক্রমে বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
    সোমবার সকালে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ৫’শ থেকে ৯’শ রোগী হাসপাতালের আউটডোর থেকে চিকিৎসা গ্রহন করছেন। গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর জেলা থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য মানুষ হাসপাতালে আসছেন। এছাড়া ঢাকা ও অন্যান্য বিভিন্ন জেলা থেকেও চোখের চিকিৎসা নেয়ার জন্য মানুষ এ হাসপাতালে আসেন বলে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়।
    পশ্চিম গোপালগঞ্জের ছোটফা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল মনসুর আহমেদ (৭২) জানান, তিনি হাসপাতাল থেকে তার ডান চোখের ছানি অপারেশন করেছেন। লেন্স, ঔষধ থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুই তিনি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে পেয়েছেন। অপারেশন শেষে তাকে একটি নতুন চশমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে খুলনা থেকে তার বাম চোখের অপারেশন করা হয়। তাতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এবার বলতে গেলে তার কোন টাকাই লাগেনি।
    পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের সাহিদা বেগম (৫৮) বলেন, অনেক দিন ধরে তিনি চোখের পীড়া নিয়ে ভুগছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় তিনি তার চোখের সমস্যার ডাক্তার দেখিয়েছেন। কিন্তু ভাল কোন ফল পাননি। এখানে চিকিৎসা নিয়ে তিনি এখন অনেক সুস্থ্যতা বোধ করছেন। ডাক্তারকে তিনি তার সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পেরেছেন। ডাক্তার তাকে অনেকক্ষণ ধরে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে চিকিৎসা দিয়েছেন।
    চিকিৎসা নিতে আসা যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বক্কর শেখ (৭৫) বলেন, লোক মুখে শুনে তিনি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। ডাক্তারের আন্তরিকতা ও আচরনে তিনি মুগ্ধ। চিকিৎসা নিতে তার কোন কষ্ট হয়নি। পরিচালক সাহেব নিজেই তার তার চোখ পরীক্ষা করেছেন। এখন তিনি পরোপুরি সুস্থ।
    গোপালগঞ্জ জেলা শহরের ঘোনপাড়ায় ৫০ একর জায়গা জুড়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউটি গড়ে উঠেছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। সেই থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের বাতিঘর হিসেবে হিসেবে অন্ধজনে দ্যুতি ছাড়াচ্ছে এ হাসপাতালটি।
    সম্প্রতী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও দেশের ডাকসাইটে চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর ডা: দীন মোহাম্মদ নূরল হক হাসপাতালে কয়েকটি চক্ষু অপারেশন করেন। অতি ব্যস্ততার মধ্যেও কেবল মাত্র মনের টানে মানুষকে সেবা দেওয়ার মানসে এখানে ছুটে আসেন তিনি। বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে এসে মানুষকে চিকিৎসা দিতে পেরে তিনি খুবই শান্তি পান। এ কাজকে তিনি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব বলেও মনে করেন। আবারও তিনি সময় করে এখানে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষকে।
    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা: সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করীম সেলিম, এমপির অভিবাবকত্বে হাসপাতালটি দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চেলের মানুষের চক্ষু চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। আমরা একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি। এ জন্য আমাদের একটি মিশন ও ভিশন রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাকে ছানি মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করেছি। ২০১৯ সালের মধ্যে আমরা গোপালগঞ্জ জেলা ছানি মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা, প্রশিক্ষন ও গবেষনায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউট ভবিষ্যতে একটি রোল মডেল হিসেবে অবদান রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344