• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কাশিয়ানীর ঐহিত্যবাহী ওড়াকান্দির মেলা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ মার্চ ২০১৯ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    কাশিয়ানীর ঐহিত্যবাহী ওড়াকান্দির মেলা

    webnewsdesign.com

    মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি। অর্থাৎ চৈত্র মাসের অমাবস্যার পূর্ববর্তী ত্রয়োদশী তিথি। প্রতি বছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে একটি মেলা জমে। এই মেলার নাম ওড়াকান্দি মেলা। গ্রামের নাম থেকেই এই মেলার নামকরণ। এটিকে আবার মতুয়া মেলাও বলা হয়। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় মেলা বলে এই নামকরণ।

    উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় (বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলা) মতুয়া নামে একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের উদ্ভব। এই ধর্মের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুর (১৮১২-১৮৭৮) ১৮১২ খ্রিস্টাব্দের ১১ই মার্চ (মধুকৃষ্ণা ত্রয়দশী তিথি বুধবার, ২৯ শে ফাল্গুন ১২১৮ বঙ্গাব্দ) গোপালগঞ্জ জেলার সফলাডাঙ্গা গ্রামে এক নমঃশূদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ওড়াকান্দিতে তাঁর সাধন ক্ষেত্র প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে ভক্তের নিকট গ্রামটি তীর্থভূমি হিসেবে খ্যাতি পেয়ে আসছে। ভক্তেরা শ্রী হরিচাঁদের জন্ম তিথিকে স্মরণ করে প্রতি বছর ওড়াকান্দি ধামে মিলিত হন। সেই থেকে প্রতি বছর ওড়াকান্দিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের সমাগম এবং মেলা জমে।


    ওড়াকান্দি মেলা মতুয়াদের প্রধান মেলা। এটি বারুণী মেলা নামেও খ্যাত। এই মেলাকে মতুয়ারা আবার মহাবারুণী নামেও ডাকে। মতুয়া সম্প্রদায় মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিকে পবিত্র জ্ঞান করে। তাদের মতে এই তিথিতে তাদের আরাধ্য পূর্ণব্রহ্ম শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব ও তিরোভাব ঘটেছে। মতুয়ারা আরো বিশ্বাস করে এমনি এক মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতেই হরিচাঁদ ঠাকুর বাল্যকালে অলৌকিক শক্তি প্রাপ্ত হন।

    বারুণী যোগ হিন্দু সম্প্রদায়ের নিকট একটি পুণ্য তিথি। তাদের বিশ্বাস এই তিথিতে স্নান করলে পুণ্য সঞ্চিত হয়। বারুণীর সঙ্গে পৌরাণিক কাহিনির সংশ্রব রয়েছে। হিন্দুপুরাণ মতে, দেব-অশূরের সমুদ্র মন্থনকালে ক্ষীরোদ সমুদ্র হতে চন্দ্র, সুধা, স্বধা, ধন্বন্তরি, অপ্সরা, উচ্ছৈশ্রবা, কৌস্তভ এবং লক্ষ্মীর সঙ্গে বরুণ-কণ্যা বারুণী উত্থিত হয়েছিলেন। এই পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে হিন্দু সম্প্রদায় বারুণী যোগে স্নান করেন। এটি হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মের পর নতুনত্ব লাভ করে।

    বারুণী উপলক্ষে যে সকল স্থানে মতুয়া মেলার আয়োজন হয় তারমধ্যে ওড়াকান্দির মেলা উল্লেখযোগ্য। তবে হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মের পূর্ব হতেই তাঁর জন্মস্থান সফলাডাঙ্গায় বারুণী স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হতো। হরিচাঁদ ঠাকুর নিজেও তাঁর ভক্তদের নিয়ে এই মেলায় অংশ নিতেন।

    ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে হরিচাঁদ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র যজ্ঞেশ্বর ঠাকুর সর্বপ্রথম এই মেলাকে ওড়াকান্দিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করেন। সে প্রস্তাব অনুসারে মেলা ও বারুণী উৎসবটিকে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর (১৮৪৬-১৯৩৬) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে ওড়াকান্দিতে স্থানান্তর করেন। সেই থেকে প্রতিবছর ওড়াকান্দিতে সপ্তাহ ব্যাপি মেলা জমে এবং লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্তের সমাবেশ হয়।

    মতুয়ারা ওড়াকান্দিকে তীর্থ স্থান বলে মনে করে। তাদের নিকট ওড়াকান্দি গ্রাম হলো পুন্যভূমি। তাদের মান্যগ্রন্থ শ্রী শ্রীহরি লীলামৃত গ্রন্থে বলা হয়েছ। ওড়াকান্দি গ্রাম শ্রীধাম পীঠ বলে তারা মনে করেন। প্রেম মেলা মেলে বাসন্তি হিল্লোলে শ্রীমহাবারুণী দিনে।

    ওড়াকান্দি মেলা নিয়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। এই মেলাকে কেন্দ্র করে অজস্র সাধক-কবি পদ রচনা করেছেন। তাঁরা পদ রচনার মধ্য দিয়ে এই মেলা এবং ওড়াকান্দি ধামের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। তারা মনে করেন ওড়াকান্দি গিয়ে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। তাই সাধক কবি বলেছেন—

    শ্রীধাম ওড়াকান্দি যাবি যদি গৌণ করো না
    গৌণ করো না আমার মন অলস হলো না ।
    গেলে ধর্ম অর্থ মোক্ষ ফলে ফলের কে করে গণনা ॥

    এই মেলায় মতুয়াদের হরিসংকীর্তন হয়। খোল-করতাল, একতারা, প্রেমজুড়ি, হারমোনিয়াম বাজিয়ে মতুয়া গায়কেরা গান করেন। সঙ্গে চলে মন্দির প্রদক্ষিণ। গানের সঙ্গে চলে মাতন। মেলার একপাশে দেশের অন্যান্য স্থানের সাধু ভক্তদের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকে। এছাড়া ঠাকুর বাড়ির প্রাঙ্গন জুড়ে থাকে ধর্মীয় গ্রন্থের সমারোহ। সাধক-ভক্তেরা তাদের প্রয়োজন মতো এখান থেকে বই সংগ্রহ করে। মতুয়া ধর্ম সংক্রান্ত সকল বই মেলায় পাওয়া যায়। মতুয়া ধর্ম সংক্রান্ত নতুন নতুন বই মতুয়াদের প্রধান আকর্ষণের বিষয়।

    এছাড়া এই মেলার পুরো আয়োজনটাই শ্রমজীবী মানুষকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তাদের সারা বছরের উৎপাদিত দ্রব্য যেমন এই মেলায় বিক্রি করতে পারে তেমনি তাদের প্রয়োজন মতো দ্রব্যও কিনতে পারে। মেলার এক পাশে বসে খাবারের দোকান। অন্য পাশে পুজার উপকরণ, কাঠমিস্ত্রির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, রাজমিস্ত্রির হাতিয়ারপত্রের সমারোহ ঘটে। মেলার অন্য পাশে থাকে কামার, কুমার, তাঁতীদের উৎপাদিত দ্রব্য। এক দিকে বসে মাছের বাজার। এছাড়া সব্জী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেরও সমাবেশ ঘটে। এর বাইরে অন্য একটি স্থানে জমে পুতুল নাচ, সার্কাস, যাত্রাদল, নাগর দোলার আসর। কৃষ্ণকদের সারা বছরের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ এই মেলা থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এছাড়া মতুয়া ভক্তেরা তাদের বাদ্যযন্ত্র ডঙ্গ, শিঙ্গা, হারমোনিয়াম, খোল, প্রেমজুড়ি, একতারা এই মেলা থেকে সংগ্রহ করতে পারে।

    বাংলাদেশে যে কয়টি কৃষি মেলা আছে ওড়াকান্দি মেলা তাদের মধ্যে সর্ববৃহৎ মেলা। দিনকি দিন এই মেলার প্রসার বাড়ছে বৈ কমছে না। মূলত মানুষের প্রয়োজনেই মেলা আরো জীবন্ত হয়ে উঠছে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344