• শিরোনাম



    UTTARA UNITED COLLEGE

    #UUC_2020

    Posted by Uttara United College on Friday, 29 May 2020

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    আমার মেয়েকে মারতে মারতে অসুস্থ বানিয়েছে: মিন্নির মা

    ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০১৯ | ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

    আমার মেয়েকে মারতে মারতে অসুস্থ বানিয়েছে: মিন্নির মা

    webnewsdesign.com

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো তার স্ত্রী ও এই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

    শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগারে গিয়ে মিন্নির সঙ্গে দেখা করেন তার বাবা-মা, ভাই-বোন ও চাচা-চাচি। সেখান থেকে বেরিয়ে তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের নির্যাতনের মুখে তার মেয়ে জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছে। জবানবন্দি না দিলে তাকে নতুন করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হবে বলেও
    দেওয়া হয়েছিল।


    আর মিন্নির মা মিলি আক্তার অভিযোগ করেন, পুলিশের মারধরের মুখে তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কারাগারে সাক্ষাতের সময় মিন্নি তাদের এসব কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার বাবা-মা।

    এ পরিস্থিতিতে মিন্নির জন্য সুবিচার প্রার্থনা করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তার বাবা।
    দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মিন্নি। তাকে গত মঙ্গলবার সকালে জবানবন্দি নেওয়ার কথা বলে বাসা থেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পরে রাতে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরদিন পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হলেও দুদিনের মাথায় তড়িঘড়ি করে গত শুক্রবার বিকেলে মিন্নিকে বরগুনার আদালতে নেওয়া হয়।

    পরে সন্ধ্যায় পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মিন্নি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মিন্নির বাবা সেদিন বলেছিলেন, নির্যাতন ও জোরজবরদস্তি করে তার মেয়ের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আর এসব কিছু করা হচ্ছে স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগ নেতা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং তার ছেলে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথের ইন্ধনে।

    মিন্নির সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে দুপুরে কারাফটকে উপস্থিত সাংবাদিকদের মোজাম্মেল হোসেন জানান, তার মেয়েকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল এবং তাকে (মিন্নি) দুজন কারারক্ষী দুই পাশ থেকে ধরে সাক্ষাৎ কক্ষে নিয়ে আসে।
    মোজাম্মেল বলেন, ‘আমার মেয়েকে চাপ দিয়ে তার ওপর মানসিক নির্যাতন করে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। শম্ভু ও শম্ভুপুত্র সুনাম প্রশাসনের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে খুনিদের আড়াল করতে আমার মেয়েকে ফাঁসাচ্ছে। আমার মেয়ের কিছু হলে আমি আত্মহত্যা করব। ’
    ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মেয়ের কাছ থেকে সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমার মেয়ে কোনোভাবেই জড়িত নয়। ঢাকা থেকে আইনজীবীরা আসবে শুনে পুলিশ নির্যাতন করে তড়িঘড়ি আমার মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে। মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার মেয়েকে গ্রেপ্তার করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন আবার তাকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও রেকর্ড করানো হলো। এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। ’
    মোজাম্মেল বলেন, ‘সারা দেশবাসী দেখেছে আমার মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সাথে যুদ্ধ করেছে। আমার মেয়ে মিন্নি নির্দোষ, রিফাত হত্যা নিয়ে শুরু হয়েছে নোংরা রাজনীতি। আমি প্রশাসনকে বলতে চাই, আমার মেয়েকে না ফাঁসিয়ে আপনারা সঠিক তদন্ত করেন, তাহলে রিফাত হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে। ’
    তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ, দুই মাস আগেও তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখিয়েছি। জেলখানায় তাকে দেখে আমার কান্না পেয়েছে, আমার মেয়েটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। আমার মেয়ে এখন খুব অসুস্থ, তার চিকিৎসার প্রয়োজন। পুলিশ ও প্রভাবশালী মহল যৌথভাবে আমার নিরীহ মেয়েকে ফাঁসিয়ে ফায়দা লুটতে চাইছে। ’
    অন্যদিকে মিন্নির মা মিলি আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে ওরা মারতে মারতে অসুস্থ বানিয়েছে। আমার মেয়ের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। আল্লাহ একজন মায়ের সাথে এভাবে করো না, আমি আর সইতে পারছি না। আমার মেয়েকে ফাঁসিয়ে কাদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ সেটা এখন সারা দেশবাসী জানে। আমার মেয়ের এই হত্যার সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। ’
    মিন্নির চাচা আবু সালেহ বলেন, ‘কারাগারে আমরা মিন্নিকে দেখতে গিয়েছিলাম। মিন্নি আমাদেরকে বলেছে, পুলিশ জোরপূর্বক তাকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। আমরা জেলখানাতে মিন্নির সাথে ঠিকমতো কথা বলতে পারিনি। এ সময় সেখানে সাদা পোশাকে অনেক অপরিচিত লোক আমাদের ফলো করতেছিল। ’
    এদিকে জোর করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে মিন্নির পরিবারের সদস্যদের করা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মিন্নির বাবা যে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অমূলক। এর কোনো ভিত্তি নেই। মিন্নি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই জবানবন্দি প্রদান করেছে। ’

    দায় স্বীকার করে আদালতে রিফাত ফরাজীর জবানবন্দি :

    রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় তাকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেখানে বিচারকের কাছে রিফাত হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় রিফাত ফরাজী। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
    পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রিফাত ফরাজীকে তিন দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ (শনিবার) আদালতে হাজির করলে বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ’
    রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
    গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে একদল যুবক প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তাকে সেদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4344